সেই ছুরাইয়ার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষার

নাঈম ইসলাম : পায়ে দিয়ে লিখে এসএসসি পাশ করলো ছুরাইয়া জাহান । শেরপুর সদর উপজেলার আন্ধারিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরে এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছিল ছুরাইয়া । গত ১ ফেব্রুয়ারী শেরপুর জেলার জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম শেরপুর টাইমস ডট কমসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে “শেরপুরে পায়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ছুরাইয়া” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা শহরের আফছর আলী বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছুরাইয়াকে দেখতে যেয়ে সাহস জুগিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

প্রতিবন্ধী হওয়া স্বত্বেও তার অদম্য চেষ্টায় পায়ে লিখে জিপিএ ৪ দশমিক ১১ পেয়ে এসএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে । ছুরাইয়া সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় গ্রামের মো. সফির উদ্দিন ও মুর্শিদা দম্পতির মেয়ে । সফির উদ্দিন আন্ধারিয়া সুতিরপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছুরাইয়ার দুটি হাতই বাঁকা ও শক্তিহীন । ঘাড়ও খানিকটা বাঁকা । মাথা সোজা করে ঠিকমতো দাড়াঁতেও পারেনা সুরাইয়া । লেখাপড়ার প্রতি ছুরাইয়ার প্রবল আগ্রহ থাকায় ছয় বছর বয়সে তাকে স্কুলে ভর্তি করেন ।

Advertisements


ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ছুরাইয়া বলেন, ভাল কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজের বোঝা নয়, স্বনির্ভর জীবনযাপন করতে চাই ।

ছুরাইয়ার বাবা সফির উদ্দিন শেরপুর টাইমসকে বলেন, তিন মেয়ের মধ্যে ছুরাইয়া বড়। জন্ম থেকেই সে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী । তাই অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করাতে হচ্ছে তাকে । মেয়েকে যাতে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে সমাজে যেন অবহেলায় তাকে কাটাতে না হয়, সবার কাছে এই দোয়া চাই ।

ছুরাাইয়ার জেঠাতো ভাই মনিরুজ্জামান শেরপুর টাইমসকে বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল ছুরাাইয়া পাশ করবে । সে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করছে । তার অদম্য ইচ্ছায় তাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে ।

উলেখ্য, ছুরাইয়া আন্ধারিয়া সুতিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরিক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩ দশমিক ৭৫ এবং আন্ধারিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে জেএসসি পরিক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ পেয়ে পাশ করে ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের