মঙ্গলবার , ২৯শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ || ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - হেমন্তকাল || ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

‘হাওয়া’র নির্মাতার বিরুদ্ধে ২০ কোটির মামলা

প্রকাশিত হয়েছে -

আশঙ্কাই সত্যি হলো। মামলা খেলেন ‘হাওয়া’ সিনেমাটির নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে ২০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন বন্যপ্রাণী পরিদর্শক নারগিস সুলতানা।

‘হাওয়া’র পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে তদন্ত কমিটিতে কাজ করা অপর তিন সদস্য আব্দুল্লাহ আস সাদিক, অসীম মল্লিক ও রথিন্দ্র কুমার বিশ্বাসকে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী নার্গিস সুলতানা নিজেই।

তিনি বলেন, ‘আজকে (বুধবার) আমরা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা সাবমিট করেছি। মামলা কোট গ্রহণ করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ৩৮ (১-২), ৪১ ও ৪৬ লংঘনের অভিযোগে মামলাটি করেছি।’

মামলার সাক্ষী বন্য পরিদর্শক অসীম মল্লিকও এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিনেমা প্রদর্শন বন্ধের আবেদন করেছেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না আমরা সিনেমার প্রদর্শন বন্ধের ব্যাপারে কোনো আবেদন করিনি। শুধু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ক্ষতিপূরণ মামলা করেছি। এখন আদালতের ব্যাপার, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Advertisements

মামলার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ‘হাওয়া’র সিনেমার নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে। তবে একাধিক বার কল দিয়েও তার সাড়া মেলেনি।

‘হাওয়া’ যে আইনি প্যাঁচে পড়তে যাচ্ছে এমন ইঙ্গিত গত বৃহস্পতিবারই (১১ আগস্ট) দিয়েছিল বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। সেদিন বিকালে তারা স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা শাখায় সিনেমাটি দেখে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, এখানে বন্য প্রাণী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।

সিনেমাটি দেখে বের হয়ে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘এ সিনেমায় একটি ভাতশালিক আটকে রাখায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর লঙ্ঘন করা হয়েছে।’

মামলা হবে কি না প্রশ্নে রথীন্দ্র কুমার বলেছিলেন, ‘সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন আমরা বন বিভাগে দাখিল করব। মামলা করা হবে কি না, তা নিয়ে বন বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে। সিনেমায় একটি শালিক সারাক্ষণ খাঁচায় বন্দী ছিল। এর মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে একটি বার্তা যায় যে, পাখি আটকে রাখা যাবে। সেটিকে শেষ পর্যন্ত পুড়িয়েও খাওয়া হয়।’

যদিও পাখিটি পুড়িয়ে খাওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। তার দাবি, ‘হাওয়া’ সিনেমার দৃশ্যে চঞ্চল চৌধুরী যেটা খেয়েছিলেন, ওটা ছিল বারবিকিউ।’ এবার মামলার বিষয়ে তিনি কী পদক্ষেপ নেন সেটাই দেখার।

মেজবাউর রহমানের প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’ প্রযোজনা করেছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড। এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, নাজিফা তুষি, নাসির উদ্দিন খান, সোহেল খান, সুমন আনোয়ারসহ অনেকে।

#ঢাকাটাইমস