You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

সৈকত আহাম্মেদের অণুগল্প “অসহায় জননী”

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রাহাল। সে তার স্কুল জীবনে নবম শ্রেণীতে পড়ে।সে প্রতিদিন স্কুলে যায়, নিয়মিত পড়া দেয় স্যারদের আর স্কুল শেষ করে এসে তার অসহায় বাবার কাজে সাহায্য করে। স্কুলে তার বন্ধু বান্ধব সবাই টিফিনের সময় ভালো খাবার নিয়ে আসে, কিন্তু রাহাল কোথায় পাবে ভালো খাবার তার টিফিন আনার মত সামর্থ্যই নেই। তাই সে প্রতিদিন দুপুরে শুধু পানি পান করে ক্লাস করে। এভাবে চলতে থাকে তার জীবন।

একদিন রাহাল শ্রেণী কক্ষে আর বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, কে জানে আজ তার কপালে দুঃখ বয়ে আসবে। বৃষ্টি থেমে গেছে হঠ্যাৎ বাইরে থেকে কে যেন ডাকছে রাহাল রাহাল……………….। তখন রাহাল বাহিরে বের হয়ে এসে দেখে তার বাড়ির পাশের এক চাচা, রাহাল জিজ্ঞাস করল চাচা কি হয়েছে? তখন তার চাচা মাথা নিচু করে বললো তর বাবা মারা গেছে। তখন রাহাল একথা শুনে চিৎকার করে উঠলো!রাহালের জীবনে দুঃখের শেষ ছিল না।

তার মধ্যে বাবার মৃত্যুতে তার জিবনে যেন দুঃখের পাহাড় নেমে আসলো। এখন তার একমাত্র সম্বল তার মা জননী, তার মা কে নিয়ে সে আবার জীবন শুরু করল। শুরু করল গ্রামের নানান রকম কাজ আর সে কাজ থেকে যা উপার্জন করে ;সে থেকে তার মাকে নিয়ে জীবন চালাতে শুরু করে। আর সে ফাঁকে ফাঁকে লেখাপড়া চালাতে থাকলো। এরই মধ্যে এসে গেল ম্যাট্টিক পরীক্ষা কিন্তু কে দিবে রাহালের ফরম পূরনের টাকা। তার মা সারা দিন অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করে রাতের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেয়ে যায়। রাহাল অনেক চিন্তিত কি করবে সে মনে মনে ভাবছে তার হয়ত আর ম্যাট্টিক পরীক্ষা দেওয়া হবে না।

কিছুক্ষণ পর রাহালের মা রাহাল কে বলছে বাবা আমি তোমার পরীক্ষার টাকা পেয়েছি। তখন রাহাল জিজ্ঞাস করলো মা টাকা কোথায় পেয়েছ। তার মা বলল, রাহাল পাশের গ্রামের মোড়লের কাছ থেকে সুদের উপর নিয়ে এসেছি। তখন রাহাল তার মাকে জড়িয়ে দরে কান্না করতে শুরু করলো। পরের দিন স্কুলে গিয়ে রাহাল ফরম পূরন করল। কিছু দিন পর রাহালের পরীক্ষা শুরু হলো রাহালের বন্ধু বান্ধব সবাই গাড়ি দিয়ে পরীক্ষার হলে যায় আর রাহাল 1ঘন্টার পথ পায়ে হেঁটে পরীক্ষা দেয়। আস্তে আস্তে শেষ হলো তার ম্যাট্টিক পরীক্ষা।

পরীক্ষা শেষ করে রাহাল মাকে বলল মা আমি ঢাকায় চলে যাবো,কাজ করে টাকা উপার্জন করবো, কারন মোড়লের টাকা যে ফেরত দিতে হবে। কি আর করার রাহাল রওনা করল ঢাকার পথে। তার পর রাহাল ভাবতে থাকলো কে দিবে তার চাকরি ঢাকায় যে তার পরিচিত কেউ নেই। শেষ পর্যন্ত মিললো এক কাজ, তাও এক ছোট হোটেলের কাজ। শুরু করল দৈনিক মায়না ৫০ টাকায়।এর ফাঁকে রাতে রিক্সা ভাড়া নিয়ে চালাতে শুরু করল। চলে গেল তার তিন মাস। এরই মধ্যে রাহাল শুনতে পেল তার ম্যাট্টিক পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল প্রকাশ করা হবে। তাই সে তার কাজের ছুটি নিয়ে তার তিন মাসের উপার্জিত ৫৫৭৫ টাকা নিয়ে তার বাড়ির পথে বাসে করে রওনা করলো।

রাহালের মনে যেন আনন্দের শেষ নেই, আগামীকাল তার ফলাফল আর দেখা হবে মায়ের সাথে। রাহাল আসবে সেই অপেক্ষায় রাত জেগে আছে মা। রাত শেষ হয়ে গেলো কিন্তু রাহাল বাড়ি আসলো না। রাহালের মা বাড়ির খোলিতে দাড়িয়ে আছে রাহালের অপেক্ষায় ।

কিছুক্ষন পর রাস্তার দিকে রাহালের মা তাকিয়ে দেখে অনেক মানুষ আসছে আর একটা সাদা গাড়ি তা দেখে রাহালের মায়ের চোখে পানি এসে গেলো। দেখতে দেখতে লোকগুলো তার বাড়ি কাছে এসে গেলো আর অসহায় মা দেখতে পেল রাহালের রক্তাক্ত দেহ।

চিৎকার করে বলল, আমার রাহালের কি হয়েছে!! লোকেরা বলল, তার ছেলে বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। কে দিবে তার মাকে শান্ত্বনা কেউ রইলো না। রাহাল রেখে গেলও পৃথিবীতে জনম দুঃখীনি মা আর ম্যাট্টিকের ফলাফল GPA 5….

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!