You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

সাথী ফসল হিসেবে লাউ ও আদা চাষ লাভ জনক


একই জমিতে একই সময় দুই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। জমিতে মূল ফসলের সঙ্গে সাথী ফসল চাষে সফলতা পাওয়ায় এ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে দেশের চাষীদের। দেশে ক্রমশই জনসংখ্যা বৃৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দিন দিন খাবারের চাহিদাও বাড়ছে। দেশের খাবারের চাহিদা পূরণ করতে একই জমিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নানা পরামর্শ প্রদানসহ মাঠে কাজ করছে বিজ্ঞ কৃষিবিদরা।

আদা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ করেও লাভবান হওয়া সম্ভব। আদার সাথে লাউ, ডাঁটা শাক, ধুন্দল, চাল কুমড়া ও করলা চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন করেছেন চাষীরা। শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় ধান, মৌসুমী ফল, শাক-সবজি ও মসলা চাষাবাদে রয়েছে যথেষ্ট সম্ভাবনা। দু’ফসলি তিন ফসলি এসব জমিতে কৃষি বিভাগের নির্দেশনায় মৌসুম ভিত্তিক সঠিকভাবে চাষাবাদ এবং পরিচর্চা করে আর্থিক স্বচ্ছলতা পাচ্ছে কৃষক । এতে করে দিন দিন কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয়। বিগত বছরগুলোতে নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে আসছেন। এসব চাষাবাদের মধ্যে টমেটো, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা, লাউ, বেগুন, ঝিঙা, করলা ও বিভিন্ন ধরনের শাক উল্লেখ্য যোগ্য।

আদা চাষে ছায়ার প্রয়োজন হয় বলে জমিতে লাউ চাষের মাচা তৈরি করে সাথী ফসল হিসেবে আদা চাষ করে স্বাভলম্বী হওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদা চাষের সঙ্গে একই জমিতে নিয়ম অনুযায়ী লাউ, ঝিঙ্গা, পটল চাষ করে সফলতা আসায় এ পদ্ধতিতে ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন জেলার কৃষকরা।

জেলার নকলা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সহ বিভিন্ন নদী ও খাল বিলের পার্শ্বের জমিতে শাক সবজি চাষের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী নারায়ণখোলা গ্রামের সুরুজ আলী এবছর ৩৫ শতাংশ জমিতে একই সাথে লাউ এবং আদা চাষ করেছেন। মাচায় লাউ এবং মাটিতে আদা এটি খুবই ফলপ্রসু বলে জানিয়েছেন সুরুজ আলী। ইতি মধ্যে তিনি গত ৩ বছরে এ পদ্ধতি অবলম্বন করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে লাউ এবং আদা চাষের মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন। লাভজনক হওয়ায় এবছর তিনি ৩৫ শতাংশ জমিতে লাউ এর মাচার নিচে একই সাথে প্রায় ৫ মণ আদা লাগিয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে লাউ এর মাচার নিচে কিছু আগাম লাউ ঝুলছে। একই সাথে রোপনকৃত আদা গাছ গুলোও বেশ বড় হয়েছে।

গত ৩ বছরে তিনি সংক্ষিপ্ত পরিসরে এ পদ্ধতির চাষ করলেও এবার ৩৫ শতাংশ জমিতে একই সাথে লাউ ও আদা চাষ করেছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও ঝিঙ্গা, চাল কুমরা, লাউ, পটল ও শসার মাচার নিচে সাথী ফসল হিসেবে আদাসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সুরুজ আলী জানান, তার ৩৫ শতাংশ জমিতে লাউ এবং আদা চাষ করেছেন। এখানে প্রতিদিন ৪-৫ জন শ্রমিক ২-৩শ টাকা বেতনে নিয়মিত কাজ করছে। সার প্রয়োগ, সেচ খরচ ও লেবার খরচ বাদে ৩৫ শতাংশ জমি থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা উপার্জন হবে বলে তিনি আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সুরুজ আলী একই জমিতে একই খরচে দু তিন জাতের ফসল উৎপাদন করে এলাকার বেকার যুবকদের অনুপ্রেরণা যুগীয়েছেন। এখন তার দেখাদেখি এলাকার অন্যরাও তাদের জমিতে সাথী ফসল চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, সুরুজ আলীর উদ্যোগটি খুবই ভালো, আমরা তার দেখভাল করছি। তার জমিতে বেশি ফলন উৎপাদনে আমরা বিভিন্ন পরামর্শ দিতেছি। এ পদ্ধতিটির প্রতি এলাকার কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাসহ আমরাও সর্বাক্ষনিক মাঠে কাজ করছি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!