সরিষাবাড়ীর ১৭ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ১৭ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা একটি বাশেঁর সাঁকো। এ উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর রৌহা গ্রামের ঝারকাটা নদীতে সেতুর পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশের সাঁকো। যার উপর দিয়ে ১৭টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই, প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, এই ঝারকাটা নদীতে একটি সেতুর দাবী দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে সরকার দলীয় নেতারা ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি কখনো। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের লোকজন প্রতিবছর বিভিন্ন গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে যাতায়াতের জন্য সাঁকো তৈরি করে এই নদী পারাপার হচ্ছে। সাঁকোতে মানুষ চলাচলের সময় কড়কড় আওয়াজ করে। অনেক সময় কড়কড় আওয়াজ শোনে বয়স্ক পুরুষ-মহিলারা ভয়ে বসে বসে সাঁকো পারাপার হয়। রোদে শুকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সাঁকোর বাঁশ ভাংতে শুরু করে। দুই/এক মাস পরপর মেরামত করতে না পারলে পারাপারের জন্য তা অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বর্ষার পানি যখন বাড়তে থাকে তখন উজানের ঢলের প্রবল স্রোতে সাঁকো ভেসে যায়। ফলে সে মৌসুমে খেয়ানৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। চর রৌহা গ্রামের আলহাজ সবুর মিয়া (৭০) জানান, নদীর ওপারের ১৭ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ লোকের বসবাস। এখন পানি কম তাই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে পারছি। কিন্তু পানি বাড়ার সাথে সাথে নৌকা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। রৌহা গ্রামের আব্দুল হাই বলেন, আমরা কৃষক মানুষ।

নদীর ওপারে আমাদের অনেক জায়গা জমিন। যেখানে ধান, পাট, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ নানা সবজী আবাদ করি। কিন্তু এখানে একটি সেতু না থাকায় অনেক কষ্ট করে সমস্ত জমির ফসল নদীর এপারে এনে গাড়ীতে তুলতে হয়। এলাকাবাসীরা আরও জানান, সাঁকোটি দিয়ে চর রৌহা, ছাতারিয়া, চর-সরিষাবাড়ী, নান্দিনা, বাঘমারা, আদ্রা, চুনিয়াপটল, জামিরাসহ পাশ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার দীঘলকান্দি, সেংগুরিয়া, আতামারি, বাড়ইপাড়া, খামারমাগুরিয়া, ফুলপাড়া, মারিয়াকান্দি, ধারাবর্ষা ও ছেন্নারচরের লোকজন যাতায়াত করে।

এছাড়া সাতপোয়া ইউনিয়নের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হয়। আর.এনসি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় সাঁকো থেকে পড়ে গেলে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেকের হাত-পা ভেঙ্গে আহতও হয়েছে। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোজিনা খাতুন বলেন, সাঁকো থেকে পড়ে আমার মাথা ফেটে গিয়ে ছিল।

  ২০১৩ সালে খেয়ানৌকা ডুবে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী অন্তর (৭) ও তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আনিছ (৮) মারা গেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দেশ আর কত ডিজিটাল হলে নির্মাণ হবে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর রৌহা গ্রামের এই সেতুটি ।

সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হলে অন্ততঃ ১৭টি গ্রামের মানুষ ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে। তাই এখানে একটি সেতু নির্মাণ হওয়া অতি জরুরী।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের