You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শ্রীবরদীর রানিশিমুল কে.এইচ.ডি মাদরাসায় শিক্ষকের চেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম

শ্রীবরদীর রানিশিমুল কে.এইচ.ডি মাদরাসায় শিক্ষকের চেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মাদরাসায় শিক্ষকের চেয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারেই কম। শুধু মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান করছেন এ মাদরাসার শিক্ষকরা।

১৯৮৪ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবতেদায়ী পর্যায় থেকে দাখিল শ্রেণি পর্যন্ত। মাদরাসার বডিসহ জমির পরিমাণ ১ শত ৫ শতাংশ। বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে অভুতপূর্ব উন্নতি সাধন করলেও বিন্দু পরিমাণ উন্নতি হয় নাই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। বর্তমানে এ মাদরাসায় সুপারসহ ১২ জন শিক্ষক ও ৩ জন ৩য় শ্রেণির কর্মচারি নিয়োজিত আছেন। কাগজে কলমে ২ শত ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও উপস্থিতি একেবারে নগন্য। বিদ্যালয় ভবনের অবকাঠামোও তেমন ভালো নাই। পর্যাপ্ত পরিমান চেয়ার টেবিলও নাই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তাছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার কোন রাস্তা নেই। তবুও বছরের পর বছর পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারি ভোগ করছেন সরকারি নানান সুযোগ সুবিধা।

মাদরাসার অভিভাবক কমিটির সভাপতি ওসমান গনি দীর্ঘদিন দ্বায়ীত্ব পালন কালে নানা অনিয় দুর্নীতির কারণে এ মাদরাসার কোন প্রকার উন্নয়ন হয় নাই। তিনি চাকরি করেন ব্র্যাকে, থাকেন বগুড়ায়। তাকে নিয়েও এলাকার সচেতন মহলের মাঝে নানা গুঞ্জন। সভাপতি ও মাদরাসা সুপারের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও অবহেলার কারণে এ প্রতিষ্ঠানে বাড়ছেনা শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানের রাস্তা দেওয়ার শর্তে শাহিদা নামে একজন সহকারি শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেনসভাপতি ওসমান গনি। কিন্ত কাগজে কলমে মাদরাসার জন্য রাস্তা না দেওয়ায় নানা কথা ওঠছে এলাকার সচেতন মহলের মাঝে। তাছাড়া, মাদরাসার সুপার মাও: আব্দুল মান্নান মাদরাসার ভবনের জন্য ২৫ হাজার ইট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১ জুলাই ২০১৫ সালে যোগদান করেন এ মাদরাসায়।

কিন্তু তিনিও তার প্রতিশ্রুতি রাখেন নাই। কমিটির মেয়াদ না থাকায় বিগত ২/৩ মাস আগে সভাপতি ওসমান গণি সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নিলে এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী লাল।

তাছাড়া, ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অব: প্রাপ্ত সৈনিক সেকান্দর আলী মাদরাসা সুপারিনটেনডেন্ট মা: আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লংঘন ও তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে প্রকাশ গত ১৩ ডিসেম্বর ঈদ-এ-মিলাদুননবী উপলক্ষ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও সরকারি বিধি লংঘন করে মাদরাসার সুপার সেই দিন উক্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। অভিযোগে আরো প্রকাশ ইতিপুর্বে তিনি ভটপুর আলিম মাদরাসা থেকে চাকুরিচ্যুত হয়ে ভারুয়া দাখিল মাদরাসায় যোগদান করে চাকুরিরত অবস্থায় অর্থ আতœসাতের অভিযোগে তালা বন্ধ করে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে রানিশিমুল কে.এইচ.ডি মাদরাসায় যোগদান করার পর ৮০ হাজার টাকা আতœসাত করেন।

এব্যাপারে মাদরাসা সুপার মা: আব্দুল মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ভুলবশত ১৩ ডিসেম্বর (ঈদ-এ-মিলাদুননবী) পরীক্ষা গ্রহণ করেছি। এর প্রতিবেদন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দিয়েছি। এছাড়া ২৫ হাজার ইট দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা বললে তিনি বলেন, এর চেয়ে বেশি টাকা মাদরাসার পিছনে খরচ করেছি।

এডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী লালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পুর্বের সভাপতি ওসমান গণির অনিয়ম দুর্নীতির কারণে মাদরাসার কোন উন্নয়ন হয় নাই। গত ২/৩ মাস আগে আমি এ মাদরাসার এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়ীত্ব পালন করছি। আশা করছি আগামী কিছুদিনের মধ্যে মাদরাসার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে।

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রহুল আলম তালুকদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উক্ত অভিযোগের আলোকে মাদরাসায় গিয়ে তদন্ত করেছি। দুই এক দিনের মধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পেশ করব।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!