You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শ্রীবরদীতে এক মাঠে একই নামে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

হাস্যকর এবং দৃষ্টিকটু হলেও সত্য। শ্রীবরদীতে একই মাঠে একই নামে দু’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যালয় দু’টির জমিদাতাও একই ব্যক্তি। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব হয়েছে উপজেলার গোশাইপুর ইউনিয়নে। যা কল্পনা জগতকেউ হার মানায়।
জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার গোশাইপুর ইউনিয়নে একই মাঠে ছেউরিয়া কান্দাখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে দু’টি স্কুল স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যালয় দু’টিতে রুটিন মাফিক সময়ে আলাদা আলাদা ভাবে পতাকাও উড়ে। একটি বিদ্যালয়ে কিছু শিক্ষার্থী থাকলেও অন্যটিতে শিক্ষার্থী শূন্যের কোঠায়। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ অনগ্রসর এলাকায় সরকারি ভাবে ১৫০০টি বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরই আলোকে শ্রীবরদী উপজেলায় উক্ত প্রকল্পের আওতায় ছেউরিয়া কান্দাখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০১০ সালে স্থাপিত হয়। যা ২০১২ইং সালে দু’তালা ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যালয় দু’টিতে সরকারিভাবে ০৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং শিক্ষকরা নিয়মিত ভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এখানে কোন শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরা শুধুমাত্র বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ খুলে পতাকা উত্তোলন করে অলস সময় অতিবাহিত করেন। এনিয়েও এলাকাতে চলে নানা কানাঘুষা।এর পরবর্তী সময়ে সরকার যখন দ্বিতীয় ধাপে রেজি: স্কুল জাতীয় করণ করেন তখন উক্ত স্কুল মাঠেই একই নামে আরও একটি স্কুল সরকারিকরণ করা হয়। এ স্কুলটির নামও ছেউরিয়া কান্দাখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটিতে ০৪ জন শিক্ষক আছে এবং শিক্ষকরা নিয়মিত ভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এ স্কুল দুটির প্রায় ২০০ মিটার দুরত্বে ছেউরিয়া কন্দপখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আরও একটি স্কুল জাতীয়করণ হয়েছে। সেখানেও ০৪ জন শিক্ষক সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। সরকার ঘোষিত জাতীয় করণের সুযোগে উপজেলা শিা অফিসার ও স্থানীয় দালাল চক্রের যোগ সাজসে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন ও তথ্য গোপন করে শ্রীবরদীতে যত্রতত্রভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এসকল বিদ্যালয়ের অনেকগুলোতেই হয় না পাঠদান। ফলে পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিার্থীরা। এতে করে সরকারের কোষাগার থেকে ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, শ্রীবরদী উপজেলায় ১০ নভেম্বর ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ধাপে ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তৃতীয় ধাপে ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সালে ২১ টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ের দুরত্ব কমপে দুই কিলোমিটার হওয়া আবশ্যক। কিন্তু সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন ও তথ্য গোপন করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এসকল বিদ্যালয় গুলোর দুরত্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নব ঘোষিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুই কিলোমিটারের কম। এর মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ের দুরত্ব আবার আধা কিলোমিটার থেকে শুরু করে এক/দেড় কিলোমিটারও রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যালয় গুলোর অবকাঠামোরও বেহাল দশা। এসকল বিদ্যালয়ে শিক-শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বসার মত চেয়ার টেবিল ও বেঞ্চ নাই। কাগজে কলমে শিার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলেও বাস্তবে তা নাই। অনেক বিদ্যালয়ে শিকরা আবার সময় মত উপস্থিত হয় না।
স¤প্রতি সরেজমিনে উপজেলার নইলার পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিহীন স্কুল ঘরটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কালিদহের পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দণি ভারেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোরজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছেউরিয়া কন্দপখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাটিয়াকুড়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গড়জরিপা উত্তর-পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে এসকল বিদ্যালয়ে শিক-শিার্থীর উপস্থিতিও কম। এসকল বিদ্যালয়ের প্রত্যেকটাই দু’চালা টিন সেড। অনেক বিদ্যালয়ে আবার আলাদা কোন শ্রেণি ক নাই। এসকল বিদ্যালয়ে ঠিকমত পাঠদানও করা হয় না এমন অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর মেঝে স্যাঁতস্যাঁতে, চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চের সংখ্যাও কম।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুনা রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিগত শিক্ষা অফিসারদের সময় বিদ্যালয়গুলো স্থাপন করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের স্কুলগুলো বেতনভুক্ত হয়েছে, তৃতীয় ধাপের স্কুলগুলো তদন্ত সাপেে রিপোর্ট পাঠানো হবে। তাছাড়া, বর্তমানে সমাপনী নিয়ে ব্যস্ততার কারণে এবং পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে বিদ্যালয়গুলো তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এক মাঠে একটি বিদ্যালয়ই থাকার কথা। কি কারণে এক মাঠে একই নামে দু’টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি নিয়মানুযায়ী দুই কিলোমিটারের মধ্যেই বিদ্যালয় স্থাপন করার কথা। কিন্তু নীতিমালা লঙ্ঘন করে জেলার অনেক জায়গাতেই দুই কিলোমিটারের কম দুরত্ব স্থানে বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এবিষয়েও নজর দেওয়া হবে।

শেরপুর টাইমস/ বা.স

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!