You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুর-২ নকলা নালিতাবাড়ীতে দুই চৌধুরীর লড়াই

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর- ২ জাতীয় সংসদ আসন নং ১৪৪, (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন থেকে ৩ জন প্রার্থীই প্রতীক পাওয়ার পরে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী কয়েকবারের সফল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী (নৌকা), বিগত বিএনপি আমলের সরকার দলীয় হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী (ধানের শীষ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম (হাত পাখা)।

প্রার্থীরা সবাই বিজয়ের আশায় লড়ছেন বলে দাবী করলেও লড়াই হবে মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। প্রতিক পাওয়ার পরে নৌকা ও ধানের শীষের সমর্থকরা মাঠ চষে বেড়ালেও হাত পাখা মার্কার তেমন প্রচারনা দেখা যাচ্ছে না। নৌকা ও ধানের শীষের পোষ্টার লিফলেটে গ্রাম গঞ্জের অলি গলি ছেয়ে গেলেও হাত পাখার কোন পোষ্টার লিফলেটের দেখা মিলেনি। ভোটারদের ধারে ধারে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের ঘুরতে দেখা গেছে। তবে নজরে পড়ছেনা হাত পাখার কোন সমর্থকের। তাই কেউ কেউ বলেছেন, ভাসছে নৌকা, দুলছে ধানের শীষ কিন্তু ঘুরছেনা হাত পাখা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সরজমিনে এমনটাই দেখা যাচ্ছে।

৫০১ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এই আসনটি ২টি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৫৮ জন। নকলায় ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫১ হাজার ৫৩৩ জন (নারী ভোটার ৭৭ হাজার ৪১ এবং পুরুষ ভোটার ৭৪ হাজার ৪৯২জন) এবং নালিতাবাড়ীতে ভোটার এক লাখ ৯৭ হাজার ৬২৫জন (পুরুষ ভোটার ৯৭ হাজার ৪২০ এবং নারী ভোটার এক লাখ ২০৫ জন)। নির্বাচন অফিসের হিসাব অনুযায়ী নকলা-নালিতাবাড়ী আসনে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটার ৫ হাজার ৩৩৪ জন বেশি।

দলীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাধারন অনেক ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনটি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় অন্যান্য আসনের চেয়ে স্বাভাবিক কারনেই এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এবারের নির্বাচনে প্রবীন ও নবীন দুই চৌধুরীর মধ্যে লড়াই হবে।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক মিজানুর রহমান নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সাল থেকেই এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসিবে পরিচিত হলেও ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অধ্যাপক আব্দুস সালাম নির্বাচিত হন। তারপর- ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মতিয়া চৌধুরী নির্বাচিত হন এবং তিনবার কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করিয়েছেন। তাঁর দক্ষ পরিচালনায় কৃষি বিভাগ দ্রুত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আজ বিশ্ব দরবারে মডেলে পরিণত হতে চলছে বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের। এই আসনে চার মেয়াদের মাঝখানে দুইবার ফেল করে ও এলাকার ছেলের দাবীতে বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরী ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে ২০০১ সালে নির্বাচিত হন। তখনকার বিএনপি তথা সরকারি দলের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগ চায় আসনটি ধরে রাখতে। আর বিএনপির আশা আসনটি পুনরুদ্ধার করা। তাই উভয় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

তাছাড়া এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হতে বেশ কয়েকজন করে দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয় করার কারনে সাধারন জনগনের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তির সৃষ্টি হতে চলছিল। কিন্তু মতিয়া চৌধুরী ও ফাহিম চৌধুরী ছাড়া অন্যান্য সবাই প্রত্যাহার করায় এবং দলীয় মনোভাবের কোন সতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় নিজ নিজ দলের পে সরাসরি মাঠে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান অনেক ভোটার। এবারের জাতীয় নির্বাচন অন্যান্য নির্বাচনের চেয়ে অধিক গুরুত্ব বহন করছে বলে জানান সুশীল সমাজের ভোটার। তারা বলেন, বিএনপি ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফেল করায় এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায় দলীয় নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘদিন পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আমেজ উপভোগ করছেন। ফলে তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মাঠে কাজ করবেন বলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী জানান।

এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার দৃশ্যমান যেসব উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। তাতে এদেশের সাধারন জনগনতো বটেই, বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। সাধারন ভোটাররা শান্তি চায়, তারা জ্বালাও-পোড়াও, হামলা-মামলা পছন্দ করেন না। তাই দেশ ও দশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর শান্তিকামী ভোটাররা আবারো নৌকা মার্কায় সমর্থন দিয়ে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার ক্ষমতা তুলে দিবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

অপরদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক নুরুল আমীন বলেন, শেরপুর- ২ আসনটি ভিআইপি আসন। এই আসনে আলহাজ্ব জাহেদ আলী মারা যাওয়ার পর তারই কৃতি সন্তান প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। সাধারণ ভোটারাও ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীর সাথে লড়াই করে বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী জয় লাভ করবে বলে আমরা আশাবাদী।

শেরপুর টাইমস/ বা.স

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!