You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুর সীমান্তে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়েই মোটাতাজা গরু পালনের চাহিদা বাড়ছে

শাকিল মুরাদ: ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ঘেঁষা শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় হত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে গরু পালন দিন দিনই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অবারিত গোচারণ ভুমি এবং প্রাকৃতিক গো-খাদ্যে ভরপুর পাহাড়ি এলাকায় অসহায় পরিবারগুলো গবাদি পশু পালন করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সংসারের অভাব অনটন ঘোচাতে সক্ষম হয়েছে। মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর কোন রকম ওষুধ ব্যবহার না করেও যে গরু মোটাতাজা করা যায় তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পাহাড়ি এ অঞ্চলগুলো।

সরেজমিন ঘুরে ও এলাকাবাসী সাথে কথা বলে জানা যায়, কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে কোন রকম ভ্যাকসিন বা মোটাতাজা করণের ওষুধ ব্যাবহার ছাড়া সুস্থ গরুর চাহিদা থাকে প্রচুর। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওষুধের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করা হলেও শেরপুরের সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড় এলাকায় গরু পালন করা হয় শতভাগ প্রকৃতিক ঘাস-লতাপাতা খাইয়ে। বন-বাদরের নানা প্রকারের লতা-পাতা ও ঘাস খেয়ে গরু এমনিতেই স্বাস্থ্যবান হয়। ফলে এ গরুর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই সাথে এলাকার মানুষও ঝুকে পড়ছে গরু পালনে। সীমান্ত এলাকা জুড়ে এখন শত শত মানুষ গরু পালন করছে। সর্বাধিক ৩০ থেকে ৫০ টি গরু পালন করছে কোন কোন পরিবারের সদ্যররা। গরু’র রাখালরা প্রতিদিন সকালে গ্রাম থেকে পাহাড়ি জঙ্গলে এবং খোলা মাঠে গরু চড়িয়ে আশপাশে বিশ্রাম নেয়। আবার কেউবা অন্যান্য কাজ সেরে সন্ধ্যার আগে মাঠ থেকে গরু নিয়ে এসে তাদের গোয়াল ঘরে তুলে। এভাবেই প্রতিদিন কোন রকম বাড়তি খাদ্য না ব্যাবহার করেই গরু পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। পাহাড়ে গরু চড়ানোর সময় যাতে হারিয়ে না যায় সেজন্যে অনেক গরুর গলায় বেঁধে দেয়া হয় বিশেষ ধরনের ঘন্টা ।

শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত পাহাড়ি এলাকা হারিয়াকোনার বাসিন্দা সিম্পান মৃং বলেন, এক সময় দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য আমাদের সংসারে ছিল নানা টানাপোড়া ও হাহাকার। এখন পাহাড়ি এলাকায় গরু পালন করে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া এলাকার বাসিন্দা সুবুর মিয়া, জাসাম মৃংসহ অনেকে জানান, শুরুতে হাতে গোনা কয়েকজন এ এলাকায় গরু পালন করতো। এখন অনেকেই এ লাভজনক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করে সংসারের অভাব অনটন দুর করে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী শেরপুর টাইমসকে জানান, জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীতে এখন দারুন সুযোগ হয়েছে গরু পালনে। বিশেষ করে পাহাড়ী অঞ্চল যেখানে ব্যাপক শালগাছ রয়েছে। সেখানে গরু চড়ানো যাবে এবং সেখানে খাদ্যের কোন প্রয়োজন হয় না। যার ফলে প্রাকৃতিক ঘাস খেয়েই মোটাতাজা গরু পালনের চাহিদা বাড়ছে এসব অঞ্চলে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!