অভিযোগে চলছে পঞ্চম দিনের মত সিএনজি ধর্মঘট

ব্রক্ষপুত্র সেতুর জামালপুর প্রান্তের স্টেশন থেকে শেরপুর-বকশীগঞ্জ-রৌমারী সড়কে আসা-যাওয়ার পথে অন্তত: ২৪টি স্পটে চাঁদাবাজীর অভিযোগ তুলে টানা ৫ম দিনের মত আজও চলছে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালক-শ্রমিকদের পরিবহন ধর্মঘট । ওই চাঁদাবাজীর প্রতিবাদে টানা ৫ দিন ধরে ধর্মঘট পালন করছে চালক-শ্রমিকরা।

স্থানীয় সিএনজি চালক-শ্রমিক নেতা শাহজাহান মিয়া, ছামিদুল ইসলাম, হেকমত আলী, শাহীন ইসলাম, ফরিদ মিয়া প্রমুখ অভিযোগ করে বলেন, জামালপুর ও শেরপুর জেলার অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন শাখা কমিটির নামে ব্রক্ষপুত্র সেতুর জামালপুর প্রান্তে, শেরপুর থানার মোড়, নতুন বাসস্ট্যান্ড, খোয়ারপাড়, ডুবারচর, ঝগড়ারচর, শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ, পাথরেরচরসহ ২৪ জায়গায় ওইসব চাঁদা উঠানো হচ্ছে। শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়নের কথা বলে চাঁদা উঠানো হলেও সে টাকা সাধারণ শ্রমিকরা পায় না। প্রতিদিন তারা যে টাকা রোজগার করেন, তার বেশিরভাগই চাঁদার খাতে চলে যায়। এতে খুব কষ্টে দিন চলছে তাদের। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায় তারা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কোন নতুন সিএনজিচালিত অটোরিক্সা কিনলে ব্রক্ষপুত্র নদের জামালপুর অংশে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা এককালীন চাঁদা দিয়ে রোডে গাড়ি নামাতে হয়। তা না হলে ওই গাড়ি রাস্তায় চলতে দেয়া হয় না। চাঁদা দিতে অস্বীকার বা কম দিলে তাদেরকে নানাভাবে অপমান-অপদস্থ করে থাকে শ্রমিক সংগঠনের নামধারী নেতাদের সাঙ্গপাঙ্গরা।

অন্যদিকে ওই অভিযোগের বিষয়ে জেলা সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ ওয়াজকুরুনী ও সাধারণ সম্পাদক আলাল মিয়া সাংবাদিকদের জানান ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, শেরপুর-বকশীগঞ্জ-রৌমারী সড়কে যাতায়াতপথে সংগঠনের তরফ থেকে কোন প্রকার চাঁদাবাজী করা হয় না এবং এ বিষয়ে তাদেরকে কেউ অভিযোগও করেনি। তবে ব্রহ্মপুত্রের জামালপুর প্রান্তের স্টেশনটি ওই জেলার নেতারা নিয়ন্ত্রণ করায় সেখানে যাচ্ছেতাই হচ্ছে। প্রতিবাদ ও অভিযোগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। মূলতঃ ওই অভিযোগের প্রতিবাদ করতে গিয়েই চালকদের একটি অংশ তালগোল পাকিয়ে ফেলছে।

তবে এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত আছি । এ নিয়ে আলোচনা চলছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান হবে আশা করছি।

এদিকে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোঃ দেলোয়ার হোসেন, পিপিএম(বার) সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত ছিলাম না । সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্বরত অফিসারকে বিষয়টি সম্পর্কে খোজঁ নিতে বলা হয়েছে । যদিও এমন কোন অনিয়ম খুজেঁ পাওয়া যায় অব্যশয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।