শেরপুরে ১০৩ টাকায় পুলিশে নিয়োগ পেলেন ৭৩জন | দুর্নীতি না করতে শপথ পাঠ

দেশের বিভিন্ন জেলার মত শেরপুরেও মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশে নিয়োগ পেলেন ৭৩জন। মেধা ও যোগ্যতায় ঘুষ ছাড়া চাকরী পেয়ে দুর্নীতি না করার শপথও গ্রহণ করেছে তারা। নিয়োাগপ্রাপ্তরা এবং তাদরে অভিভাবকেরা পুলিশ নিয়োগে দুর্নীতি বিরোধী এমন কার্যক্রমের জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। অস্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের এই নিয়োগপ্রাপ্তরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের জীবনের নানা কষ্ট ও অর্জনের কথা বলেছেন।

সকল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে আজ (মঙ্গলবার) শেরপুরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭৩ জন পুলিশ কনস্টেবল। কোন তদবির আর ঘুষ ছাড়া চাকরী পেয়ে খুশি সবাই। নিয়োগ পেতে ব্যাংক চালানসহ ব্যয় হয়েছে মাত্র একশ তিন টাকা। নির্বাচিত ৭৩ জনের মধ্যে পুরুষ ৫০ জন, নারী ২৩ জন এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ পোষ্য, আদিবাসী কোটা রয়েছে। নির্বাচিতদের বেশিরভাগই কৃষক, হতদরিদ্র, দিনমজুর ও চা বিক্রেতার সন্তান।

এর আগে শেরপুর জেলা পুলিশের নানা প্রচারণা দেখে আগ্রহী হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২হাজারের বেশি প্রার্থী। ৩জুলাই প্রাথমিক বাছাই শেষে ৬৮৫জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরে এদের মধ্যে ২২৬জনের মৌখিক পরীক্ষা ও মনস্ত¡াত্বিক পরীক্ষার পর ৭৩জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের দাবি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আবেগে আপ্লুত হয়ে জানিয়েছে তাদের জীবনের কষ্টের কথা। ঝিনাইগাতী উপজেলার বন্দভাটপাড়া গ্রামের কামরুন্নাহার সুইটি বলেন, “আমার মা-বাবার স্বপ্ন ছিলো আমি পুলিশ হবো। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় পুলিশের চাকরীর কথা ভাবতে পারতাম না। মানুষ বলতো টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরী হয় না। কিন্তু মাত্র ১০৩টাকায় নিয়োগ পেয়ে এই ধারনা পাল্টে গেলো।”

শেরপুর সদরের জাবির হোসেন স্বাধীন বলেন, “আমি গরিবের সন্তান, টাকা দিতে পারবো না, তাই চাকরিও হবে না। তবে এমন ধারণা এবার বদলে গেছে। তাই আমিও এখন বাংলাদেশ পুলিশের একজন সৎ ও সাহসী পুলিশ সদস্য হিসেবে দুর্নীতি না করার শপথ নিয়েছি।”

শ্রীবরদীর মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “আমি কখনই কল্পনাই করতেই পারিনি যে ১০৩ টাকায় চাকরি পাবো। কখনই এমন হয়নি। কিন্তু ঘুষ ছাড়াই চাকরি দিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম। ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। আমার বাবা একজন কৃষক। আমার এ চাকরিটি খুব দরকার ছিলো। আশা করছি এখন আমি পরিবারের হাল ধরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।”

দারিদ্রতার কষ্টের কথা বলে কেঁদেছেন নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিভাবকরাও। মুদি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, “কোনদিন ভাবিনি টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরী হবে। মাত্র ১০৩টাকায় আমার ছেলের চাকরী হয়েছে, এটা বিশ^াসই করতে পারছি না। কোনদিন ছেলেটার সব আবদার পুরা করতে পারি নাই। এখন আমার ছেলেই পুলিশ। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া।”

শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম (পিপিএম) বলেন, “আমি আশাবাদি ছিলাম স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মাত্র ১০৩ টাকায় চাকরি দেয়া হয়েছে। মাননীয় আইজিপি মহোদয়ের প্রেরণা আমাদের এ সাহস জুগিয়েছে। যারা চাকরি পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। প্রকৃত মেধাবীরাই সুযোগ পেয়েছে চাকরিতে।”

তিনি আরো বলেন, “মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে এক মাস আগ থেকে প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ করা হয়। আর্থিক লেনদেনসহ সব অনিয়ম ও সুপারিশ পরিহার করে সুষ্ঠভাবে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়টি স¤পন্ন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া স¤পন্ন করতে পেরে খুব ভালো লাগছে আমার। আগামীতেও প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।”

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।