শেরপুরে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ৪ দিন ধরে এএস আইয়ের বাড়িতে শিক্ষার্থীর অনশন

শেরপুরে স্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ার দাবীতে পুলিশের এক এএসআইয়ের বাড়ীতে গত ৪ দিন ধরে আমরণ অনশন করছেন মাস্টার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী । সেই সাথে ঢাকায় কর্মরত প্রেমিক, পুলিশের এএসআই আরিফুজ্জামান সোহাগসহ তার পরিবারের আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থী। অন্যদিকে আত্নহত্যার হুমকি ও প্ররোচনা প্রদান করার অভিযোগে প্রেমিক সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকেও ওই শিক্ষার্থীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও পুলিশের উর্ধতন কৃর্তপক্ষকে দেয়া অভিযোগ পত্রের তথ্যমতে জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার পূর্ব আলীনাপাড়া (খালপাড়) এলাকার মৃত আনিছুর রহমান দুলালের ছেলে পুলিশের এএসআই মোঃ আরিফুজ্জামান সোহাগ (১২৫, এসবি-ঢাকা, বিপি-৮৮০৭১২৮৭৪৭) ওই শিক্ষার্থীকে টাঙ্গাইলে এক আত্মীয়ের পরিচিত বাড়িতে নিয়ে বিয়ে করে এবং আরিফুজ্জামানের ছোট বোনের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার শর্তে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে শারিরিক মেলামেশা করে ।

পরে সোহাগ ওই শিক্ষার্থীকে স্ত্রী মর্যদা দিয়ে ঘরে না তুলে উল্টো নতুন করে বিয়ে করার জন্য দিন তারিখ ঠিক করে। এই সংবাদ পেয়ে ওই শিক্ষার্থী সোহাগের কাছে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে তার বাড়িতে প্রথম দফায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আমরন অনশন শুরু করে। পরের দিন সন্ধ্যায় সদর থানার পুলিশ ওই শিক্ষার্থীর বাবার করা একটি সাধারণ ডাইরির সূত্র ধরে খবর পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং কাবিন নামা না থাকায় তার পরিবারের কাছে পরের দিন তাকে তুলে দেয়।

পরে ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আদালতে মামলা দায়ের করে ওই প্রতারিত শির্ক্ষাথী আদালত তা আমলে নিয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর অভিযুক্ত মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে এএসআই আরিফুজ্জামান সোহাগসহ তার পরিবারের অপর ৫ জনকে স্বশরীরে হাজির হতে সমন জারির আদেশ দেন।

কিন্তু মামলার সমনের নির্দিষ্ট তারিখের আগেই ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকাল থেকে কাবিন নামা সাথে নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো আমরন অনশন শুরু করেছেন সেই শিক্ষার্থী।

বুধবার সরেজমিনে গেলে সোহাগের বাড়ির বাহিরের বারান্দায় বসাবস্থায় প্রতারিত শিক্ষার্থী বলেন , আমি ৪দিন ধরে এই বাড়িতে এসেছি। কিন্তু বাড়ির লোকজন তাকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি। কুকুর বিড়ালের মত খাবার দিচ্ছে, বকাঝকা করছে সব সময় । সারা রাত একজন মেয়ে হয়েও রাতের আধারে ঘরের বাহিরে রাত কাটাইতেছি। এতেও কোন দুঃখ নেই যদি সোহাগকে সে স্বামী পায় এবং তার কাছে স্ত্রীর মর্যাদা পায়; এই বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

সে আরো জানান, সোহাগ বিয়ের কাবিন করেই তার স্বর্বস্ব হরন করেছে। সোহাগ আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন পথ নেই। তার দাবি আগের বার কাবিন নামা না থাকায় তাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি কিন্তু এখন সে কাবিন নামা সাথে নিয়ে এসেছেন। এখন কেন তাকে মেনে নেওয়া হচ্ছে না ?

এব্যাপারে এলাকাবাসী প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে নাম না প্রকাশের শর্তে দুই ব্যাক্তি জানান, কাবিন ভুয়া না সঠিক তা আমরা জানিনা তবে সোহাগের সাথে মেয়েটার একটি সম্পর্ক ছিল তা আমরা জানি । মেয়েটি প্রতারিত না হলে কেনইবা তার বাড়ীতে স্ত্রীর দাবীতে আশ্রয় নিবে।

এবিষয়ে বুধবার সোহাগের বাড়িতে সরেজমিনে গেলে তার মা বলেন , আমি আগে এই বিষয়ে কিছইু জানতাম না, ওই মেয়েও আমাকে কিছু জানাইনি এখন আদালত যা সিদ্ধান্ত দিবে তা আমরা মেনে নিব । আর আমরা তার প্রতি কোন ধরণের নির্যাতন করছিনা যা এলাকাবাসী সাক্ষী আছে।

অন্যদিকে সোহাগের চাচা মঞ্জু বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, মেয়েটি আতœহত্যার হুমকি দিচ্ছে কারণে আমরাও আদালতে মামলা দায়ের করেছি তাই বিষয়টি এখন আর স্থানীয় ভাবে কিছু করার নেই। আদালত যে রায় দিবে তা মেনে নিবো।

এব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষই আদালতে মামলা দায়ের করেছে, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।

এদিকে বুধবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় বারের অনশন চলছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের