শেরপুরে লোকালয় ছাড়ছে জাতীয় পাখি দোয়েল 

নাঈম ইসলাম : আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল। এ পাখি এখন যেন চোখের আড়ালে। শেরপুর জেলার বিভিন্ন ঝোপঝাড়, রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙিনায় দোয়েলের ছুটেচলা সচরাচর এখন আর চোখে পড়ে না।

সাদা আর কালো রঙের এই পাখির সাথে আমাদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতির স্মৃতি জড়িত। সকাল হলে আগেরমত এখন আর শোনা যায়না জাতীয় পাখি দোয়েলের ডাক। তবে আমাদের পরিচিত পাখিদের মধ্যে ঘুঘু, শালিক, ময়না, টিয়া, চড়ুই, কবুতর, মাছরাঙা, বক সহ নানা প্রকার দেশিয় পাখি এখনো দেখা যায়।

আবহমান কাল থেকে দোয়েল পাখি উঁচু ঘরের টিনের চাল, টুই, গাছগাছালির ডালে খড়কুটো দিয়ে বাসা বেঁধে থাকে। তবে এখন আর আগের মতো দোয়েল পাখির চি চি শব্দ কানে ভেসে আসেনা।

দোয়েল পাখির প্রিয় খাবার শস্যদানা, ঘাসের বীজ এবং পোকামাকড়। প্রথমে এরা মাঠ বা জঙ্গলে থেকে খড়কুটো যোগাড় করে আনে। খড়কুটো দিয়ে এরা মূল বাসা তৈরি করে।

গাছ কেটে উজাড় করা, শিকারিদের অত্যাচার, খাদ্যের অভাব, দূষিত খাদ্য গ্রহণ সহ নানা কারণে এখন আর আগের মতো তাদের বাসা দেখতে পাওয়া যায় না। এছাড়া আরও নানা কারণে লোকালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছে দোয়েল পাখি। ফলে দৃষ্টিসীমা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জাতীয় এই পাখিটি।

পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা ন্যাচার এন্ড ওয়াইল্ড লাইফ বিডি’র শেরপুর জেলা সমন্বয়ক রেজু তালুকদার বলেন, পাখিদের আবাস্থলের সংকট, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ, পাখি শিকার প্রভৃতি কারনে দোয়েল হারিয়ে যাচ্ছে। পাখি শিকার আইনের প্রয়োগ যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

শেরপুর সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক শামীমা বেগম বলেন, নতুন পরিবেশে অভিযোজন হতে না পারা, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, জমিতে অধিক কীটনাশক প্রয়োগ প্রভৃতি কারনে দেশীয় পাখি দিনদিন কমে যাচ্ছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের