You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরে রেকর্ড গড়তে ১৮৫ কি.মি. সাঁতারে মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র

বিশ্ব রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৮৫ কিলোমিটার নদীপথ সাঁতরাতে নেমেছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের সাঁতারু মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য (৬৭)।

সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর পৌর শহরের ভোগাই ব্রিজের কাছ থেকে তিনি সাঁতার শুরু করেন। নালিতাবাড়ী পৌরসভা ও নেত্রকোনার মদন উপজেলা নাগরিক কমিটি যৌথভাবে দূরপাল্লার এই সাঁতারের আয়োজন করে।

তার সাঁতার কাটার কথা শুনে কাকডাকা ভোর থেকে ভোগাই নদীর বিভিন্ন ঘাটে ও নদীর পাড় এবং সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। তাকে এক পলক দেখতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। তাকে দেখার পর উৎসুক নারী-পুরুষ নদীর দুই পাড় থেকে ক্ষিতীন্দ্রকে করতালি দিয়ে উৎসাহ ও অভিনন্দন জানান।

এর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান সকাল ৭টায় সাঁতারের উদ্বোধন করেন। এ সময় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন- নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হোসেন, মদন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক দেলওয়ার মোদাচ্ছের সফিক, মদন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ, মদন জাহাঙ্গীরপুর টিয়াজিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা জেবুন নাহার প্রমুখ।

ভোগাই নদী থেকে শুরু করে হালুয়াঘাটের কংশ নদ পেরিয়ে নেত্রকোনার মদন পৌর শহরের মগড়া নদীর দেওয়ান বাজার ঘাট এলাকায় গিয়ে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র’র সাঁতার শেষ হবে।

সাঁতারু ক্ষিতীন্দ জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অবসরপ্রাপ্ত এ এন এস কনসালট্যান্ট ছিলেন তিনি। সিলেটে ১৯৭০ সালে ধুপাদীঘি পুকুরে অরুণ কুমার নন্দীর ৩০ ঘণ্টার বিরতিহীন সাঁতার দেখে সাঁতারে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। শুরু করেন সাঁতারের অনুশীলন। পরে ওই বছর মদনের জাহাঙ্গীরপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের পুকুরে একটানা ১৫ ঘণ্টা সাঁতরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচিত হন।

এরপর ১৯৭২ সালে সিলেটের রামকৃষ্ণ মিশন পুকুরে ৩৪ ঘণ্টা, সুনামগঞ্জের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ৪৩ ঘণ্টা, ১৯৭৩ সালে ছাতক উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে ৬০ ঘণ্টা, সিলেটের এমসি কলেজের পুকুরে ৮২ ঘণ্টা এবং ১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট সাঁতার প্রদর্শন করে জাতীয় রেকর্ড গড়েন ক্ষিতীন্দ্র।

ওই দিনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ডাকসুর উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল হয়।

এরপর ১৯৭৬ সালে তিনি জগন্নাথ হলের পুকুরে ১০৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট সাঁতরে নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ফেলেন। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জগন্নাথ হলের পুকুর পাড়ে একটি স্মারক ফলক নির্মাণ করে। গত বছরের ৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ৬ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত ১৪৬ কিলোমিটার নদীপথে সাঁতার কেটেছিলেন ক্ষিতীন্দ্র। এবার আরো ৩৯ কিলোমিটার পথ বাড়িয়ে ১৮৫ কিলোমিটার নদীপথে সাঁতার কাটতে চান ৬৭ বছর বয়সের এই মুক্তিযোদ্ধা।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় ঢাকা স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল, মদন উপজেলা পরিষদের পুকুর এবং নেত্রকোনা পৌরসভার বা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরে একাধিক সাঁতার প্রদর্শনীতে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণভবনে তাকে রুপার নৌকা উপহার দেন।

দেশের বাইরে তিনি ভারতের দূরপাল্লার সাঁতার প্রদর্শনীতে অংশ নেন। ১৯৮০ সালে তিনি মাত্র ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিটে মুর্শিদাবাদের ভাগিরথী নদীর জঙ্গিপুর ঘাট থেকে গোদাবরী ঘাট পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দেন সাতারু ক্ষিতীন্দ্র।

সাঁতার প্রদর্শনী ও রেকর্ড সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন ক্ষিতীন্দ্র।

 তিনি আরও জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদী থেকে নেত্রকোনার মদনের মগড়া নদীর দেওয়ান বাজার ঘাটের সাঁতারই তাঁর জীবনের শেষ সাঁতার।

তিনি এখন ৬৪ বছর বয়সী আমেরিকার সাঁতারু ডায়ানা নায়িদের কিউবা টু ফ্লোরিডার একশ’ সাতাত্তুর কিলোমিটার সাঁতারের রেকর্ড ভঙ্গ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ সাঁতারের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব রেকর্ড করে গিনিস বুকে তার নাম উঠাতে চান।

সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য তার সঙ্গে শত শত লোকসহ তিনটি ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা, একটি বড় ডিঙি নৌকা, একটি স্পিডবোড, চিকিৎসক, তরল জাতীয় খাবার, বাজনাসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!