You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরে পুলিশের ভাড়াটিয়া তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

শেরপুরে বসবাসরত সাধারন মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করেছে শেরপুর জেলা পুলিশ। ব্যক্তি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে শেরপুর জেলাতে বসবাসরত সকল নাগরিককে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সহায়তা করার আহবান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এই নিবন্ধনের সুবিধা ও নিয়মাবলী সংক্রান্ত একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যক্তি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে শেরপুর জেলাতে বসবাসরত সকল নাগরিককে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সহায়তা করা নৈতিক দায়িত্ব।

কিভাবে করা যাবে নিবন্ধনঃ

শেরপুর জেলা পুলিশ কর্তৃক নির্ধারিত নিবন্ধন ফরমটি শেরপুরের প্রত্যেকটি থানা এবং ফাঁড়িতে পাওয়া যাবে। যদি কোন নাগরিক ইচ্ছে করেন তাহলে থানা অথবা ফাঁড়ি থেকে ফরমটি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করে থানায় জমা দেওয়ার পূর্বে ফটোকপি নিজের কাছে রেখে দেওয়া উত্তম।

প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তণ করলে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করে নতুন করে শেরপুর জেলার যে থানা এলাকায় বসবাস করবে সেই থানায় যোগাযোগ করে নিবন্ধন ফরম পূরণের কাজটি করতে হবে। কোন ব্যক্তির কর্মক্ষেত্র অন্য থানা এলাকায় হলে তিনি যে থানা এলাকায় বসবাস করেন সেই থানায় নিবন্ধনের কাজটি করা উত্তম।

নিবন্ধিত হলে বাড়িওয়ালার সুবিধাঃ

১। কোন অপরাধী বাড়িওয়ালার বাড়িতে অবস্থান করতে পারবে না।
২। ভাড়াটিয়ার কোন অপরাধে বাড়িওয়ালা অহেতুক হয়রানি হবে না।
৩। বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে নিবন্ধনের সকল তথ্য পূরণ করে দিতে বলা মাত্রই অপরাধী হলে ফরম পূরণে গড়িমসি করবে। অপরাধী হলে ফরম পূরণ না করে পরের মাসেই চলে যাবে।
৪। কোন অপরাধী সকল তথ্য লিখিতভাবে পুলিশের নিকট জমা দিয়ে অপরাধ করতে সাহসবোধ করবে না।
৫। বাড়িওয়ালা তার ভাড়াটিয়া সম্পর্কে নিবন্ধন ফরমটি পুলিশের নিকট উপস্থাপন করতে পারলে অপরাধীদের দায় তখন বাড়িওয়ালার উপর বর্তায়না।

নিবন্ধিত হলে ভাড়াটিয়ার সুবিধাসমূহঃ

১। থানা এলাকায় বসবাস করায় সংশ্লিষ্ট থানার অফিসারের সাথে পরিচিত হওয়া সম্ভব।
২। অন্য কোন শত্রুপক্ষ বাংলাদেশের যে কোন থানায় মিথ্যা মামলা করলে উক্ত ব্যক্তির শেরপুরের অবস্থান দ্বারা প্রমাণ করা যায় ঘটনাটি মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
৩। ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম থানায় জমা থাকলে সফওয়ার ভিত্তিক ডাটাবেজ সংরক্ষণ করার ফলে একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে যে কোন সময় যে কোন ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
৪। নিবন্ধন ফরম সংক্রান্তে অফিসারের সাতে পরিচিত থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় আইনগত পুলিশি সেবা গ্রহণ সম্ভব।

অপরাধী সনাক্তকরণে পুলিশের সুবিধাসমূহঃ

১। অপরাধ সংঘটন করে কোন ভাড়াটিয়া পালিয়ে গেলে তার নিবন্ধন ফরম ডাটাবেজ থেকে সংগ্রহ করে পরিচয় বের করে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
২। যে কোন সন্ধিগ্ধ ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সহিত নিবন্ধন ফরমে দেওয়া তথ্যের সহিত মিল না থাকলে বুঝা যাবে লোকটি মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তখন পুলিশের আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসবাদের সুযোগ থাকে।
৩। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার নিবন্ধন ফরম পূরণ এবং জমা দেওয়া কার্যক্রমে পুলিশ জনগণের কাছে যাওয়ায় পুলিশের সাথে জনগণের সুসম্পর্ক সৃষ্টির সুযোগ তৈরী হয়।
৪। নিবন্ধন ফরমে উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে কোন না কোন তথ্য থেকে অপরাধী ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৫। শেরপুরে বসবাসরত সকল নাগরিকের তথ্য পুলিশের ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা থাকলে মানুষের অপরাধ করার প্রবণতা কমবে।
৬। নিবন্ধন ফরম পূরণ করে থানায় জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে জঙ্গী, প্রতারকচক্রসহ যে কোন অপরাধী একই জায়গায় বসবাস করতে পারবে না।
৭। বিট পুলিশের মাধ্যমে নিবন্ধন ফরম দেয়া ও জমা নেয়ার কার্যক্রমের ফলে থানা এলাকায় প্রতিটি বাড়িতে, মহল্লায় পুলিশের উপস্থিতির কারণে জুয়া মাদকসহ অন্যান্য অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে।

পরিশেষে বলা যায়-বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম একটি চলমান পক্রিয়া। CIMS (citizen information management system) এ তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হলে ঢাকা মহানগরীর নাগরিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। এর ফলে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর অপরাধীকে দ্রুত সনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। গৃহীত এ পদক্ষেপ সম্মানিত নগরবাসীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে।

ভাড়াটিয়ার তথ্য জমা দেয়ার দায়িত্ব বাড়িওয়ালার। যদি কোন ভাড়াটিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য না দেয়, কিংবা তথ্য গোপন করে আর যদি ওই বাড়িতে কোন জঙ্গি কার্যক্রম কিংবা অপরাধ সংগঠিত হয়, এর দায়িত্ব বাড়িওয়ালাকেই নিতে হবে। বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেরপুর বাসীর নিরাপত্তার জন্যই তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে কেউ হয়রানির শিকার হবে না। পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক এই তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তথ্যের হার্ড কপি ও সফট কপি দুটিই সংরক্ষণ করা হবে।

পুলিশের সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে ফরম দিয়ে আসবে। যদি কোন কারণে আপনারা ফরম না পান তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে ফরম সংগ্রহ করেন। যদি কোন ভাড়াটিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তাৎক্ষণিকভাবে তা পুলিশকে জানান। নতুন ভাড়াটিয়া আসলেও জানাতে হবে।

 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!