You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরে দুই নারী প্রার্থী মাঠ কাপাচ্ছেন !

শেরপুরের ৩ টি আসনের মধ্যে ২ টি আসনে নৌকা প্রতীকের দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এক জন এবং ধানের শীষের একেবারেই নবীন এক তরুন নারী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ কাপাচ্ছেন। পৃথক দুই আসনের ওই দুই নারী প্রার্থীর এক জন হলো বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ি) আসনের সাংসদ অগ্নিকন্যা খ্যাত বর্তমান কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। অপরজন শেরপুর-১ সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী’র মাত্র ২৫ বছর বয়সের কন্যা ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।

শেরপুর-২ আসনের নৌকা প্রতীকের মতিয়া চৌধুরী’র সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি’র সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে বয়সে তরুন বিএনপি নেতা মো. ফাহিম চৌধুরী। ফহিম চৌধুরী তার বাবার মৃত্যুর পর মতিয়া চৌধুরীর সাথে এই প্রথম নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেবিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মতিয়া চৌধুরীর সারা দেশে যেমন পরিচিত রয়েছে তেমনি এ আসনের দুইটি উপজেলার সর্বত্র তার পদচারণা ও উন্নয়নের ছোয়া রয়েছে।

অপর দিকে বিএনপি’র সাবেক হুইপ পুত্র ফাহিম চৌধুরীর মতিয়া চৌধুরীর মতো পরিচিতি না থাকলেও এক সময়কার জেলার দাপুটে ও দানবীর খ্যাত বিএনপি নেতা হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী’র পুত্র হিসেবে এবার তার সাধারণ জনতার মধ্যে ‘সিমপেথি’ ভোটের প্রভাব পড়তে পারে। তাই ফাহিম চৌধুরী’র নির্বাচনী মাঠে তার পদচারনা ছোট করে দেখছেন না মতিয়া চৌধুরী। তিনি বছরের প্রতিমাসে কমপক্ষে এক বার করে হলেও এলাকায় এসে দুই এক দিন থেকে আবারও ঢাকায় ফিরে গেলেও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এলাকায় অবস্থান করছেন। তার নির্বাচনী উপজেলা নকলা ও নালিতাবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গণসংযোগ ও পথসভা করে যাচ্ছেন। এসব পথসভা ও গণ সংযোগে দেশের অগ্নি কন্যা খ্যাত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মতিয়া চৌধুরীর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে অগ্নিঝড়া নানা সমালোচনার বক্তব্যে মাঠ কাপাচ্ছেন।

অপরদিকে শেরপুর-১ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের তরুন ও সর্ব কনিষ্ট নারী প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার অবস্থা মতিয়া চৌধুরীর উল্টো অবস্থান। এখানে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছে নৌকা প্রতীকের জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি টানা চার বারের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিকের সাথে। আতিউর রহামান আতিকের তৃণমুলে ব্যপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার সর্বত্র রয়েছে তার পরিচিতি।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানজিলা জেবরিন প্রিয়াংকা কোন রাজনৈতিক মুখ নয়। ডা. প্রিয়াংকা এ আসনের মূল প্রার্থী তার বাবা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী’র মনোনয়পত্র বাতিল হওয়ার কারণে এবং তার বাবা প্রায় সাড়ে তিন মাস যাবত বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে থাকায় প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সদরের বিএনপি’র বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী মামলায় আটক এবং নতুন করে গ্রেফতারের ভয়ে তারা মাঠে না থাকলেও প্রিয়াংকা তার মা ও স্বামীকে নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রিযাংকার প্রøাস পয়েন্ট হচ্ছে নানা কারনে এ আসনে ২২ বছর পর ধানের শীষের প্রতীক থাকছে ব্যালট পেপারে। অর্থাৎ এ আসনে ২২ বছর যাবত বিএনপি’র কোন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিল না।

বর্তমানে ডা. প্রিয়াংকা তার বাবা হযরত আলীর ছবি বুকে নিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে তার মুক্তি’র দাবীতে ধানের শীষে একটি করে ভোট চেয়ে আবেগী বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের হৃদয়ে ঝড় তুলছে। বিশেষ করে গ্রামের নারী ভোটারদের অনেকেই তার আবেগী বক্তব্যে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। সব মিলিয়ে এ আসনে নৌকা প্রতীকের ঝানু রাজনীবদি ও অভিজ্ঞ সাংসদের কাছে একেবারেই নতুন মুখের তরুন এ ধানের শীষের প্রার্থী ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন চরাঞ্চলের মাঠ-ঘাট কাপাচ্ছেন তরুন ও নারী ভোটারদের কাছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!