শেরপুরে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রচারাভিযান কর্মশালা

কৃষকরা সংগঠিত নয়, তাদের তেমন কোন সংগঠন নেই বলে প্রায়শঃই কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায়না। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমুল্য ও কৃষিখাতে ভতূর্কিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘ক্ষমতায়ন প্রকল্পের’ আওতায় প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে ওই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে কৃষিপণ্য উৎপাদক সমিতির মাধ্যমে কৃষকদের সংগঠিত করা এবং কৃষিকার্ড চালুর দাবী ওঠেছে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) শেরপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা বিআরডিবি হলরুমে এবং মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) শ্রীবরদী উপজেলা বিআরডিবি হলরুমে এ সংক্রান্ত পৃথক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুরাল ডেভেলপমেন্ট সংস্থা-আরডিএস ও সমষ্টি যৌথভাবে এসব কর্মশালার আয়োজন করে।

এতে ওই দুই উপজেলার ২০টি করে কৃষিপণ্য উৎপাদক সমিতির কর্মকর্তারা ছাড়াও উপজেলা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও সমবায় কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আরডিএস আঞ্চলিক সমন্বয়কারি উজ্জল কুমার দত্ত রায়ের সভাপতিত্বে কর্মশালা দু’টি পরিচালনা করেন সমষ্টির কর্মসূচি পরিচালক মীর সাহিদুল ইসলাম।

ঝিনাইগাতী কৃষিপণ্য উৎপাদক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সুলতান মিয়া জানান, কৃষকরা নিজেরা সংগঠিত হয়ে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছন, তাদের অনেক উপকারও হয়েছে। কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কিভাবে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন, সমিতির মাধ্যমে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে এ ধরনের ৫১টি কৃষিপণ্য উৎপাদক সমিতি গঠন করা হয়েছে।

সমষ্টির কর্মসূচি পরিচালক মীর সাহিদুল ইসলাম বলেন, অনেক তথ্যই কৃষকরা জানেন না। কোথায় গেলে তিনি কী ধরনের সেবা পাবেন, সরকারীভাবে তাদের জন্য কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, কীভাবে উৎপাদন খরচ কমানো হয়, বাজার সম্প্রসারণ, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি এসব নানা বিষয়ে কৃষকদের এখনো তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ক্ষমতায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদেরকে সংগঠিত করা, তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সাথে স্থানীয় কৃষকদের সংযোগ সৃষ্টির লক্ষে প্রচারাভিযান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ ধরনের অবহিতকরণ কর্মশালা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো-কৃষিপণ্য উৎপাদক সমিতি গঠন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমুল্য ও কৃষিখাতে ভর্তুকি নিশ্চিতকরতে কৃষিকার্ড চালু করা। শেরপুর, ময়মনিসংহ ছাড়াও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সাতক্ষীরা জেলায় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পন্য প্রদর্শনীর জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কৃষিপণ্য মেলার আয়োজন করা হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন কবীর জানান, কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করতে কৃষিকার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইতোমধ্যে সরকারি বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযানে কৃষিকার্ড বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। আশাকরা যায়, এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।