You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরে কাজের মধ্যেই ঈদের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন ছুটিবঞ্চিত কর্মজীবী মানুষ

প্রতিকি ছবি

চলছে ঈদের ছুটি ।ছুটি পেয়ে অনেকে গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করার জন্য চলে গেছেন। দ্বায়িত্বের প্রয়োজনেই ছুটি না পেয়ে রয়ে গেছেন অনেকেই নিজ কর্মস্থলে। দায়িত্ব পালনের মধ্যদিয়েই চলছে ঈদ আনন্দ ।প্রিয়জনদের রেখে কাজের মধ্যেই ঈদের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন ছুটিবঞ্চিত এসব কর্মজীবী মানুষ। নিরাপত্তারক্ষী, চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী, আইন শৃংখলাবাহিনীর বেশির ভাগেরই ছুটি নেই ঈদে।

পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই যখন ঈদের খুশি ভাগাভাগিতে ব্যস্ত, পেশাগত কারণে দায়িত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে কিছু মানুষ থাকে উৎসব-আনন্দের ঊর্ধ্বে। কর্মস্থলে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয় ঈদের দিনও। ছুটি না থাকলেও হাসিমুখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

শহরের খরমপুর এলাকার বেসরকারি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে পাহারাদার হিসেবে কর্মরত রুমান মিয়া (৩৫)। তিনি শেরপুর টাইমসকে বলেন, ৪ বছর ধরে ব্যাংকের বুথে চাকরি করে আসছি। ঈদে পালাক্রমে ছুটি নিতে হয়।

তিনি বলেন, গত রোজার ঈদে ৩দিনের ছুটি কাটিয়েছি। এই ঈদে আর ছুটি পাইনি। তবে অভ্যাস হয়ে গেছে। আগের মত আর খারাপ লাগে না।

চিকিৎসক আর রোগীদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা সমালোচনা অনেক। কিন্ত ঈদের সময় আনন্দের অভিজ্ঞতাই বেশী। ঈদে রোগী সেবার মধ্যে আনন্দ যেন অনেক বেশি বলেন শেরপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: নাদিম মাহমুদ ।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে হুট করেই ঈদে ছুটি বাতিল হয়ে যাওয়ার হিসেব অনেক। তারপরও হাসিমুখে কাজ করে যেতে হয়। তিনি বলেন, কষ্ট-বেদনা অনেক, তবে চাকরির ধরন বা দায়িত্ব-কর্তব্যটাই তাদের সান্তনা। মানুষের নিরাপদ ভাবে ঈদ আনন্দের মধ্যেই খুজেঁ পায় নিজের ঈদ আনন্দ ।

পুলিশ ও চিকিৎসকের কাজ সাধারণ মানুষ কিংবা একেবারেই বিপদগ্রস্তদের সঙ্গে। তাই অভিযোগ অনুযোগটাও একটু বেশি। এত কিছুর পরও থেমে নেই এই মানুষগুলোর বিরামহীন পথচলা।

ফায়ার সার্ভিস বিভাগে ফোন দিলে জৈনিক টেলিফোন অপারেটর বলেন , জরুরি সার্ভিসে চাকরি নেওয়ার পর থেকেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি, এখন আর ছুটি না পেলেও খারাপ লাগে না। বরং ঈদের না পাওয়া ছুটির মধ্যেও আনন্দ খোঁজার চেষ্টা করি। ভাইরে, জীবন তো আর ছুটির জন্য থেমে থাকে না!

এদিকে কিছু বাড়তি পয়সা আয়ের জন্য ঈদের দিনেও গাড়ি চালান ইজিবাইক চালক ও রিক্সা চালকেরা। সিএনজি চালক জোবায়ের শেরপুর টাইমসকে বলেন, পরিবারের সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে মনে চাইলেও দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারে সে সুখ জোটে না। আজ কামাই না হলে, কালকের দিন চলবে না। তাই ঈদের দিনেও বের হতে হয়।”

একই কথা বললেন ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক আব্বাস আলী। রমজান মাসে অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো রিকশা চালাতে পারি নাই। তাই বাড়তি আয়ের আশায় তিনি ঈদের দিনেও রিকশা নিয়ে বের হওয়া লগবো।”

সারা দেশ যখন ঈদ আনন্দে ভাসবে তখন গণমাধ্যম কর্মীরা ছুটবেন সংবাদ সংগ্রহের পিছনে। ঈদ আনন্দের খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতেই তারা নিজেদের ঈদ আনন্দ উপভোগকে ত্যাগ করে ছুটবেন শহরের সর্বত্র। এই খবর পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেয়াতেই যেন তাদের আনন্দ।

একটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক হাকিম বাবুল । কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি শেরপুর টাইমসকে বলেন, ‘সবাই যখন ঈদ আনন্দ মেতে উঠেন তখন আমরা ছুটি সংবাদের পেছনে। পেশাগত কারণে আমাদেরকে ঈদের দিনও কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হয়। পরিববার পরিজনকে ছাড়া ঈদ করলে আর যাই হোক সেই ঈদ আনন্দের মাঝে কোনও পূর্ণতা আসে না। কিন্তু সবাই যদি পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে চলে যান তবে পাঠকের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেবে কে? তাই কাউকে কাউকে তো সেকরিফাইস করতেই হবে।’

কথা হয় শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সাথে তিনি শেরপুর টাইমস কে জানান, “দায়িত্ব পালনের জন্য জনগণের স্বার্থে প্রতি ঈদে ছুটিতে যাওয়া সম্ভব হয় না। তারপরেও কর্মস্থলে সবার সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেই ঈদ উদযাপন করি।”

সবকিছুর পরেও ঈদ সবার ভালো কাটুক। ঈদের খুশি পৌঁছে যাক পুরো বিশ্বের প্রতিটি ঘরে। ভালো থাকুক প্রিয় মানুষগুলো, ভালো থাকুক কর্মব্যস্ত প্রিয় জনের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকা প্রিয় মুখগুলোও।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!