You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরে এএসআইসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবি আদায়ে অনশন করেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে পুলিশের সেই এএসআই আরিফুজ্জামান সোহাগ (৩০) ও তার পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে শেরপুর সরকারি কলেজের মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই নালিশী মামলা দায়ের হলে বিচারক সাইফুর রহমান তা আমলে গ্রহণ করে সদর উপজেলার পূর্ব আলিনাপাড়া গ্রামের মৃত আনিসুর রহমান দুলালের ছেলে এএসআই সোহাগসহ ৬ জনকে আগামী ১৮ অক্টোবর আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারির আদেশ দেন।

মামলার অপর ৫ আসামী হচ্ছেন সোহাগের মা শিরি বেগম (৫০), চাচা মঞ্জু মিয়া (৪২) ও মিন্টু মিয়া (৪৬), আত্মীয় হাসি বেগম (৩৪) ও শিরি আক্তার (৩৮)।

জানা যায়, শেরপুর সদর উপজেলার পূর্ব আলিনাপাড়া খালপাড় এলাকার মৃত আনিছুর রহমান দুলালের ছেলে ও পুলিশের এসবি শাখায় কর্মরত এএসআই মোঃ আরিফুজ্জামান সোহাগ (বিপি-৮৮০৭১২৮৭৪৭) ২০১৬ সালের দিকে পার্শ্ববর্তী আন্ধারিয়া নয়াপাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মরিয়ম আক্তার মেরির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এক পর্যায়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর ওই শিক্ষার্থীকে টাঙ্গাইলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে এএসআই সোহাগ গোপনে ভূয়া কাবিনে বিয়ে করে। ওইসময় শিক্ষার্থীকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, সোহাগের ছোট বোনের বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে। ওই শিক্ষার্থী শর্ত নিলে গোপনেই চলে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা। কোন কোন সময় ওই শিক্ষার্থীদের শহরের নবীনগরের বাসায় বাসায় বাবা-মা না থাকলে সে সুযোগে সোহাগ বাসায় গিয়ে মেলামেশা করতো এবং বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী হিসেবে বেড়াতে নিয়ে যেতো।

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন স্থান থেকে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের প্রস্তাব আসলে সে সোহাগকে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ করতে বললে এবং শর্তানুযায়ী স্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে বললে সে মোবাইলে অস্বীকৃতি জানিয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজসহ এসএমএস পাঠায়। পাশাপাশি নকলা শহরে নতুন করে বিয়ে করার জন্য মেয়ে দেখে এবং বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে সোহাগ। ওই খবর পেয়ে শিক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে সোহাগকে বুঝালে সে তা না মেনে বরং বিয়ের নির্ধারিত তারিখের আগেই গোপনে শুক্রবার বিয়ের তারিখ ঠিক করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থী পুলিশের আইজি, অতিরিক্ত আইজি (এসবি) ও ডিআইজি (ডিসিপ্লিন) বরাবর দ্রুত লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করে। এরই মধ্যে সোহাগ বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসেন। সেই সংবাদটিও ওই শিক্ষার্থী পেয়ে যায় এবং স্ব-শরীরে বিয়ে বাড়িতে হাজির হয়ে আগের বিয়ের বিষয়টি কন্যা পক্ষকে জানায়। ওই সুযোগে সোহাগ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে চম্পট দেয়।

অন্যদিকে সোহাগকে না পেয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে ওই শিক্ষার্থী এএসআই সোহাগের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী’র মর্যাদার দাবি জানালে সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজন তা অস্বীকার করে। এরপর থেকে সে ওই বাড়িতে আমরণ অনশন শুরু করে। এরপর শনিবার বিকেল পর্যন্ত ওই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সুষ্ঠু সুরাহা না হলেও সদর থানা পুলিশ এএসআই সোহাগের বাড়ি থেকে ওই কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া ও জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি জয়শ্রী দাস লক্ষ্মীসহ মানবাধিকার কর্মী ও নারীনেত্রীরা থানায় ছুটে গেলেও এএসআই সোহাগের বিরুদ্ধে কোন মামলা না নিয়ে পরদিন তার মার জিম্মায় দিয়ে দেয় থানা পুলিশ। অবশেষে বিয়ের বিশ্বাস জন্মিয়ে প্রতারণামূলকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে মেলামেশা ও সহায়তার অভিযোগে মঙ্গলবার দঃ বিঃ ৪৯৩/৪৯৬/১০৯/৩৪ ধারায় আদালতে এএসআই সোহাগসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করে সেই প্রতারিত শিক্ষার্থী।

# খবরটি দৈনিক জনকন্ঠ থেকে কপিকৃত

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!