শেরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিবন্ধী বর-কনের বিয়ে

শেরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে নুরুল হক ফেকা পাগলা (৪৫) ও ইতিজা বেগম (৩৫) নামে হতদরিদ্র ২ প্রতিবন্ধীর বিয়ে হয়েছে। ১৩ নভেম্বর সোমবার রাতে শহরের কসবা কাঠগড় নামাপাড়া এলাকায় তাদের বিয়ে দেয়া হয়।

শারীরিক প্রতিবন্ধী নুরুল হক ফেকা পাগলা সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের দশকাহনীয়া গ্রামের মৃত তুনু পানাতিয়ার ছেলে ও বাক প্রতিবন্ধী ইতিজা বেগম শহরের কসবা কাঠগড় এলাকার মৃত ইউসূফ আলীর মেয়ে। বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই প্রতিবন্ধীর আনুষ্ঠানিক বিয়ের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, কোন ভিটেমাটি না থাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী নুরুল হক ফেকা পাগলা দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত কসবা কাঠগড় নামাপাড়া এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে থেকে আশেপাশের এলাকায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সর্বশেষে ওই এলাকার আলহাজ্ব মমতাজ আলীর বাড়িতে অবস্থান করছিল।

শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার ভাগ্যে বিয়েও জুটেনি। আর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বাক প্রতিবন্ধী ইতিজা বেগম একই এলাকায় মামা সফিল উদ্দিনের বাড়িতে থাকত। বাক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তারও বিয়ে হচ্ছিল না। ওই অবস্থায় পৌর ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি ইয়াছিন খান পনির, ফেকা পাগলার আশ্রয়দাতা মমতাজ হাজীর ছেলে তারা মিয়া ও রং মিস্ত্রি সমিতির সভাপতি সুরুজ মিয়ার উদ্যোগে সাড়া দেন স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আতিউর রহমান মিতুল। সেই সূত্রে সোমবার আয়োজন করা হয় ফেকা পাগলা ও ইতিজার বিয়ে অনুষ্ঠানের।

আর তাতে নানা সহযোগিতায় হাত বাড়ান পৌরসভার কাজী আবু জর মোঃ আল আমিনসহ অনেকেই। বিকেলে ইতিজার মামার বাড়িতে গায়ে হলুদ এবং রাতে বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় শরিক হন এলাকায় প্রায় সহ¯্রাধিক জনতা। কাজী আল আমিন কেবল ওই বিয়ের ফি নেওয়া থেকেই বিরত থাকেননি, উপস্থিত মানুষকে মিস্টিমুখও করিয়েছেন নিজ খরচে।

এ ব্যাপারে প্যানেল মেয়র আতিউর রহমান মিতুল বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী বর ও বাক প্রতিবন্ধী কনের বিয়েতে এলাকাবাসীর ঢল নেমেছিল। কেবল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা দেখতে নয়, অনেকেই ওই দম্পতির থাকার জন্য গৃহনির্মাণসহ নানা সহায়তা দিতেও সম্মত হয়েছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে এলাকার কয়েকজন উদ্যমী যুবকের আন্তরিকতার কারণেই।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের