You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরের ২ টি আসনে একাধিক বৈধ প্রার্থী, ধানের শীষ কার?

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন ও শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দুজন করে প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার। শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা ৩জনকে দলীয় মনোনয়ন দিলেও একজনের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেলে বিকল্প প্রার্থী রাখতে দুজনকেই মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু শেষমেষ ধানের শীষের প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে ধোঁয়াশা।

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হিসেবে সাবেক হ্ইুপ মরহুম আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সচিব ব্যরিস্টার এম. হায়দার আলী রয়েছেন। এ আসনে অনেক আগে থেকেই মাঠে তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন তারা। পৈত্রিক কারণে ফাহিম চৌধুরীর অবস্থান সুদৃঢ়। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও ব্যর্থ হন।

দীর্ঘসময়ে এলাকায় নিয়মিত না আসা, সাংগঠনিক বিষয়ে ঠিকমতো খোঁজ-খবর না রাখায় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে অনেকটা দুরত্ব তৈরী হলেও তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠে সরব বিএনপির এই দুই প্রার্থী। যদিও ইতোমধ্যে ফাহিম চৌধুরীকে এককভাবে দলীয় মনোনয়নের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নালিতাবাড়ী বিএনপি।

জানা যায়, নকলা-নালিতাবাড়ী আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ৪৯হাজার ১৫৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১লাখ ৭১হাজার ৯১২জন এবং মহিলা ভোটার ১লাখ ৭৭হাজার ২৪৬ জন। ভোট কেন্দ্র ১৩৯টি এবং ভোট কক্ষ ৭১০ টি। শেষ পর্যন্ত এই আসনে যিনি মনোনয়ন পাবেন আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর বিপক্ষে তিনি লড়বেন।

প্রার্থীতা বিষয়ে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী শেরপুর টাইমসকে বলেন, এই আসনে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। দুঃখের বিষয় এখনও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। এখনও আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আশা করছি যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, জনগণ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে জয়যুক্ত হয়ে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবো।

এদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং হলফনামা অনুযায়ী ঠিকাদার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেলে বিকল্প প্রার্থী রাখতে দুজনকেই মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু শেষমেষ ধানের শীষের প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে ধোঁয়াশা।

জানা যায়, শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী মোট ভোটার সংখ্যা ৩লাখ ২৫ হাজার ৫শ ২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭শ ৭৯জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭শ ৪১ জন। ভোট কেন্দ্র ১২০ টি, ভোট কক্ষ ৬৩৪ টি। এ আসনটিতে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন মাহমুদুল হক রুবেল। অন্যদিকে নবাগত মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ঠিকাদার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ছিলেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল একান্ত সাক্ষাতকারে শেরপুর টাইমসকে বলেন, শেরপুর-৩ আসনটি লাকি আসন হিসেবে পরিচিতি। এ আসনে দুইবার আমার বাবা ও আমি তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। এবারও ধানের শীষের প্রতীক পেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এখনও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। এখনও আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। আশা করছি যদি সুষ্ঠ নির্বাচন হয়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, জনগণ যদি ভোট দিতে পারে তাহলে জয়যুক্ত হয়ে এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবো। বিএনপির আরেক প্রার্থীর ব্যাপারে জানতে চাইতে তিনি বলেন, দল তথা ঐক্যেফ্রন্ট যাকে ধানের শীষে মনোনয়ন নির্বাচিত করবে তার পক্ষেই কাজ করবো।

ঠিকাদার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শেরপুর টাইমসকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে দলের পক্ষে কাজ করছি। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক জুলুমের শিকার হয়েছি। মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারবো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!