শেরপুরের বই মেলাতেও পাওয়া যাচ্ছে সাড়া জাগানো বই “কসমিক লাইফ”

ইতিমধ্যে পাঠক মনে স্থান করে নিয়েছে সাড়া জাগানো বই “কসমিক লাইফ”। অসাধারণ এ বইটি শেরপুর ডিসি উদ্যান চত্বরে অমর একুশে বই মেলার আহাম্মদিয়া লাইব্রেরী, এমদাদিয়া লাইব্রেরী ও ইসলামিয়া লাইব্রেরী স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এই বইটি নিয়ে বই আলোচনার অংশ হিসেবে  আলোচনা তুলে ধরেছেন মেহেদী হাসান অনীক।

এবারের অমর একুশে বই মেলার অন্যতম আকর্ষণ কর্নেল মো. রাব্বি আহসানের লেখা ‘কসমিক লাইফ’ বই। বইটি লেখার জগতে প্রথম প্রয়াস; যা আত্মোন্নয়নমূলক ও অনুপ্রেরণামূলক জীবনদর্শনের এক অসাধারণ প্রতিচ্ছবি। মাত্র ২০৭ পৃষ্ঠার মধ্যেই একটি বই এত অধিক ও চমৎকার তথ্যভাণ্ডার হতে পারে, তা না পড়লে অজানা থেকে যেত। তবে সার্বিক ভালোবাসার ক্ষেত্রে লেখক নিজেকে সীমিত রেখে শুধু নিজেকে ভালোবাসার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মানবজীবনের আবশ্যিক প্রতিটি অলিগলি লেখক গভীরভাবে স্পর্শ করেছেন। বইটি পড়ে মনে হয়েছে ডেল কার্নেগির বই পড়ছি। আবার কখনো মনে হয়েছে ড. লুৎফর রহমানের লেখা পড়ছি। জীবনের সাধারণ কথাগুলোই গল্প, বাণী, যুক্তি, উদাহরণসহ অসাধারণভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে, এটি আত্মোন্নয়নমূলক বই অথচ কোথাও ‘আমিত্ব’ নেই। সামরিক শৃঙ্খলার লেখক তাঁর বইতে সমস্ত পৃথিবীর, সব ধর্মের এবং সব সময়ের উদাহরণ দিয়েছেন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত উদাহরণ ব্যতীত। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক মানবের মধ্যেই যেন একেকটি ছায়া মহাবিশ্বের চলাচল। মানবের সেই অলৌকিক আধার ও অসাধারণ সক্ষমতার আকর এই বইটি।

বইটির উদ্দেশ্য : প্রত্যেক মানব যেন ‘জীবন’ যাপন করতে শেখে ও তার অশেষ সক্ষমতাকে, সম্ভাবনাকে বুঝতে পারে। মহাবিশ্বের পার্থিব-অপার্থিবের সমন্বয়ে মহাজাগতিক এক অনন্য জীবনদর্শনের নির্যাস থেকেই হয়তো ‘কসমিক লাইফ’ বইটির নাম দেওয়া হয়েছে। আমি বলব শুধু প্রতিটি পাতা নয়, বইটির প্রতিটি বাক্য বা লাইনই শিক্ষামূলক, অনুপ্রেরণামূলক। প্রতিটি লাইনের মধ্যে যেন জীবনকে উন্নত করার মন্ত্র রয়েছে। বইটির ব্যাপ্তি বিশাল। জীবনের কথকতা, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ, বিশ্বাস-আত্মবিশ্বাস, নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্ব, জীবনসংগ্রাম, জীবনের প্রতিকূলতা, কঠোর পরিশ্রমের অপরিহার্যতা, সময়ের সদ্ব্যবহার, সফলতার পথ, নীরবতার শক্তি, মন, ভাবনা, কল্পনা, প্রার্থনা, সমালোচনা, হতাশা, প্রতিযোগিতা ও তুলনার নেতিবাচকতা, সুখ-দুঃখ, হাসির ম্যাজিক, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দৃঢ়তা ইত্যাদি বিষয়ে ইতিবাচক ধারণার মাধ্যমে আত্মোপলব্ধির এক পরশ পাথর এই বই। পরিশেষে বলব, বইটি পড়ে পাঠক সত্যিই উপকৃত হবেন এবং আপনার মন ছুঁয়ে যাবে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।