শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনে আগুনে ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আগুনে জ্বলছে গারো পাহাড়ের সংরক্ষিত বনে। প্রতিদিন আগুনে পুড়িয়ে সাবাড় করে দেয়া হচ্ছে বনের পর বন। ফলে বেড়ে উঠছে না শালবনের কপিছ গাছ (প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা চাঁরা গাছ) ও বেত বাগান। ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র।
শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী, হালচাটি, নকশি, রাংটিয়া, নওকুচি, ছোট গজনী, গান্ধিগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে গজারী বনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে গজারী বনের কপিছ গাছ গুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কখনো গরু রাখাল কখনো ভ্রমন বিলাসী আবার কখনো অসাধু বন কর্মচারীরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে বন সাবাড় করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে পাহাড় এ আগুনের দৃশ্য দেখাগেছে । প্রায় এক যুগ আগে গারো পাহারের গজনী বিটের বিভিন্ন স্থানে বন বিভাগের অর্থে বেত বাগান গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই বেত বাগান ইতিপূর্বে কয়েক দফায় আগুনে পুড়ে তা সাবাড় করে দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, নানা অযুহাতে পুড়িয়ে দেয়া বেত বাগান গুলোতে নতুন করে বরাদ্দ এনে আবারও বাগান করার উদ্দেশ্যে তা জালিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে পুরো এলাকায় শাল, গজারী, কপিছ ও আগুনে পোড়া বেত বাগান এখন ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। দিনে-রাত জ্বলছে আগুন, এসব দেখার যেন কেউ নেই। আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ফলে গারো পাহাড়ের গজারী বন উজার হওয়ার পাশাপাশি জীব বৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে গজনী ফরেষ্ট বিট কর্মকর্তা শাহ আলমের সাথে কথা হলে বন কর্মচারীদের দায়িত্বে কোন অবহেলা নেই বলে জানান। তিনি বলেন, রাখাল ভ্রমন বিলাসীদের ছুড়ে ফেলা সিগারেটের আগুন থেকে বনে আগুনে সূত্রপাত হয়। খবর পেলে তারা তাৎক্ষনিক আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে লোকবলের অভাবে অনেক সময় তা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়না।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, বনের আগুন নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের