You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

শেরপুরসহ ১৮টি সীমান্ত হাট যেন অধরাই রয়ে যাচ্ছে !

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্ত এলাকায় বৈধ বাণিজ্য নিশ্চিতে যাত্রা শুরু করেছিল সীমান্ত হাট কার্যক্রম। দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় ২২টি হাট চালু করার কথা ছিল। তবে ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র চারটি সীমান্ত হাট চালু করা সম্ভব হয়েছে। শেরপুরের নাকুগাঁও সীমান্ত হাটসহ আরো ১৮ টি সীমান্ত হাট যেন অধরাই রয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে- সীমান্ত হাট নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রহ কমতে থাকায় এ কার্যক্রম ততোটা জোরালো হচ্ছে না। তাই পরিকল্পনা সত্ত্বেও চালু করা সম্ভব হয়নি কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সীমান্ত হাট।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩ জুলাই কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারি সীমান্ত এলাকায় কার্যক্রম শুরু করে প্রথম সীমান্ত হাট। চলতি ২০১৮ সালে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নাকুগাঁও এবং ভারতের ডালু সীমান্তে আরও একটি সীমান্ত হাট চালুর কথা রয়েছে। তবে তা এ বছর তা চালু সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আরও ছয়টি সীমান্ত হাট চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সে বিষয়ে কাজ তেমন এগোচ্ছে না।

অন্যদিকে সীমান্ত হাটে বেচাকেনার জন্য পণ্য সংখ্যা ৪৭ থেকে বাড়িয়ে ৬০টি করার কথা ছিল। তবে এ বিষয়টিও ঝুলে আছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সীমান্ত হাট নিয়ে ভারতের আগ্রহ কমতে থাকায় এ কার্যক্রম ততোটা জোরালো হচ্ছে না। যে কারণে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সীমান্ত হাট চালু এবং পণ্য সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হয়ে উঠেনি।

২০১১ সালে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারি সীমান্তে প্রথম সীমান্ত হাট চালুর পর ২০১২ সালের ১ মে সুনামগঞ্জের ডলুরায় চালু হয় দ্বিতীয় সীমান্ত হাট। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্ব মধুগ্রাম ও ছয়ঘরিয়ার মধ্যবর্তীস্থানে চালু হয় তৃতীয় সীমান্ত হাট এবং একই বছরের ৬ জুন বাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার তারাপুর সীমান্তে স্থাপিত হয়ে চতুর্থ সীমান্ত হাট।

শেরপুরে স্থাপনের অপেক্ষায় থাকা সীমান্ত হাটটি ছাড়া স্থাপনের অপেক্ষায় থাকা আরও ছয়টি হাটের মধ্যে রয়েছে- ১. মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাঘাট এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলই জেলার কমলাপুর মোড়াছড়া সীমান্ত হাট। ২. মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার পশ্চিম বাটুলি আর ভারতের উত্তর ত্রিপুরা জেলার পালবস্তি সীমান্ত হাট। ৩. সিলেট জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসিয়া হিলসের ভোলাগঞ্জ সীমান্ত হাট। ৪. সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সায়দাবাদ আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ গারো হিলসের শিবাবাড়ি সীমান্ত হাট। ৫. ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার ভূইয়াপাড়া অপরদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের দক্ষিণ গাড়ো হিলসের শিববাড়ি সীমান্ত হাট এবং ৬. সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের বাগানবাড়ি অপরদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ইস্ট খাসি হিলসের রিংকু সীমান্ত হাট।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই ছয়টি সীমান্ত হাটের মধ্যে চারটি হাটের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষের পথে। এ ছাড়া বাকি দুটি সীমান্ত হাট বিশেষ করে মৌলভীবাজারে দুটি সীমান্ত হাট নির্মাণে জমি জটিলতা রয়েছে। জানা গেছে, সীমান্ত হাট নির্মাণের জন্য যে জমি শনাক্ত করা হয়েছে তা যদিও খাস জমি কিন্তু তা টি এস্টেটের নামে লিজ নেওয়া। কাজেই টি এস্টেটের নামে নেওয়া লিজ কেটে সীমান্ত হাটের জন্য বরাদ্দ আনতে সময় লাগছে।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত উভয় দেশের সুবিধামতো স্থানে প্রয়োজনীয় সমতল ভূমি না পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। আবার হাট স্থাপনে ভূমি পাওয়া গেলেও তা অধিগ্রহণ করতে বিভিন্ন সমস্যা থাকে। এছাড়া হাটের জন্য রাস্তা নির্মাণেও জটিলতা দেখা দেয়। এই সব জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সীমান্ত হাট চালু করা বিলম্বিত হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, চালুর অপেক্ষায় থাকা ছয়টি সীমান্ত হাটের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষের পথে। ভারত ও বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে কিছু কাজ বাকি আছে সেগুলো উভয় দেশের সীমান্ত হাট সংক্রান্ত বৈঠকে সমাধান হয়ে যাবে। আর সমাধান হয়ে গেলেই কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

সীমান্ত হাটের বিষয়ে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চারটি সীমান্ত হাট চালু আছে, আরও ছয়টি হাট চালুর বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নাকুগাঁও এবং ভারতের ডালু সীমান্তে একটি হাট অল্প কিছুদিনের মধ্যে চালু করা হবে।’

প্রসঙ্গত, সীমান্ত হাটগুলোতে উভয় দেশের অভ্যন্তরে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী অধিবাসীরা পণ্য বিক্রি করতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন এই হাট বসে। তবে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে সপ্তাহে একাধিক দিনেও হাট বসতে পারে। উভয় দেশের ৫০ জন বিক্রেতা এই হাটে ব্যবসা পরিচালনা করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদিত বিক্রেতাদের তালিকা সংরক্ষণ করেন। হাটে উভয় দেশের দু’পাশে দুটি প্রবেশ পথ থাকে। এছাড়া হাটের সীমানা কাটাতারের প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছবি সম্বলিত পরিচয়পত্র বহন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অনুমোদিত ফরম্যাটে পরিচয়পত্র ইস্যু করেন। সীমান্ত হাটে স্থানীয় মুদ্রায় অথবা বার্টার পদ্ধতিতে পণ্য বিনিময় করা হয়। সীমান্ত হাটে প্রত্যেক ক্রেতা প্রতি হাটে ২০০ ডলারের সমমূল্যের পণ্য স্থানীয় মুদ্রায় ক্রয় করতে পারেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!