শীতে শ্রীমঙ্গল, খেয়ে আসুন আট রঙের চা

চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে যেতে পারেন এই শীতে। মৌলভীবাজারের এই উপজেলার বেশিরভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান; এর অপার নিসর্গে মন্ত্রমুগ্ধ হন প্রায় সব পর্যটকই। পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে থাকা চা বাগান, বিস্তীর্ণ হাওড়ের জলরাশি, অবারিত সবুজ বনানী এখানে সৃষ্টি করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান। তাই প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম একটি প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল।

শ্রীমঙ্গলে উপভোগ করার মত অনেক কিছুই রয়েছে। চা বাগান, বাইক্কা বিল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক সবসময় পর্যটকদের সমাগমে মুখর থাকে। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসবেন আর নীলকণ্ঠ চা কেবিনের কাপে চুমুক দেবেন না তা কি করে হয়! জনপ্রিয় এই সাতরঙা চা হয়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের অন্যতম এক অনুষঙ্গ।

নীলকণ্ঠ চা কেবিন, দোকানের নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক ধরণের মাধুর্য। আর এই দোকানেই পাওয়া যায় দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত ‘সাত রঙের চা’। তবে এখন আট রঙের চা পাওয়া যায়। গ্রিন চা, ব্লাক চা, লেবু, আদা ও দুধ মিশ্রণেই তৈরি হয় এই চা। চায়ের আটটা রং পরিস্কার বোঝা যায়। বর্তমানে আট স্তরের চা ৮০ টাকা, সাত স্তরের ৭০ টাকা, ছয় স্তরের ৬০ টাকা, পাঁচ স্তরের ৫০ টাকা, চার স্তরের ৪০ টাকা, তিন স্তরের ৩০ টাকা ও দুই স্তরের চা ২০ টাকা। এছাড়া হাই স্পেশাল চা ২০ টাকা, স্পেশাল দুধ চা ১০ টাকা, গ্রিন চা ৫ টাকা, আদা চা ৫ টাকা, লাল চা ৫ টাকা এবং লেবু চা ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের চা বাগান

শ্রীমঙ্গলের চা বাগান

এই চা নিয়ে লোকমুখে নানা গল্প শোনা যায়, তবে আসল গল্পটা হলো- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানিবাজারে যৌথভাবে ব্যবসায় নেমেছিলেন রমেশ রাম গৌড়। ব্যবসার দুবছর না যেতেই এক অংশীদার পুরো টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। পরে তিনি ভাগ্য বদলের জন্য ২০০০ সালের মার্চে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলে আসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা। রামনগর মণিপুরী বস্তিতে ঘর ভাড়া নিয়ে পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন।

কয়েক মাস যেতে না যেতেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা বাগানে একটি চায়ের দোকান খুলে বসেন। এরপর নিজে গবেষণা করে ২০০২ সালে এক গ্লাসে দুই-রঙা চা আবিষ্কার করেন। ধীরে ধীরে চায়ের স্তর বাড়াতে শুরু করেন। এ পর্যন্ত তার চায়ের কাপ আট স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে।

রমেশের আবিস্কৃত এ চায়ের মতো অবিকল চা এখন পাওয়া যায় অনেক স্থানেও। তবে তার চায়ের মতো স্বাদ নেই। রহস্যজনক এই আট ও সাত রঙয়ের চা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভাবনীয় বিষয়। এক লেয়ার অপর লেয়ারের সঙ্গে মিশে না! এই রহস্যময় চা শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের উপস্থিতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানের পাশেই চা দোকানটি অবস্থিত। প্রথমেই শ্রীমঙ্গল বা কমলগঞ্জে আসতে হবে। এরপর রিকশা বা যে কোনো বাহনযোগে শহরের শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে অথবা মণিপুরী অধ্যুষিত রামনগর এবং কালিঘাট রোডের ১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ক্যান্টিনে রমেশের নীলকন্ঠ-এ আসতে পারেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।