শেরপুরে জমে উঠেছে শিশুদের ঈদ বাজার

নাঈম ইসলাম : রঙ্গিন পোশাকে শিশুর দুরন্তপনা আর ছোটাছুটিই জানান দিচ্ছে, দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদে চাই মনের মত পোশাক। পোশাক পছন্দের ক্ষেত্রে শিশুরা এখন যতেষ্ট সচেতন। নিজের পোশাক নিয়ে উদাসীন থাকলেও অভিবাবকরা সবচেয়ে আর্কষণীয় সুন্দর পোশাকটি কিনে দিতে চান সন্তানকে।

রঙ্গিন জামা পড়ে ঘুরে বেড়ানো, শিশুর ঈদ আনন্দকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়। সেই আনন্দকে পূঁজি করে প্রতিবছরের মত এবারও ফ্যাশন হাউসগুলো আর্কষণীয় ও বাহারি পোশাক নিয়ে এসেছে। যেহেতু ঈদটা গরমেই হচ্ছে তাই আরামের পাশাপাশি রঙ্গের বর্ণিলছটা থাকছে এবার ছোটদের ঈদ পোশাকে।

সোনামণিদের জন্য ত্বক-উপযোগী পোশাক এবারের ঈদে এসেছে। বিশেষ করে সুতি, মসলিন, খাদি, ধুপিয়ান, অ্যান্ডি, শিফন ও সিল্কের ওপর করা হয়েছে এবারের পোশাক। উজ্জল রজ্ঞকে বেশি প্রধান্য দিয়ে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, কারচুপি হাতের কাজ ও মেশিন এমব্রডারিতে সাজানো হয়েছে পোশাকগুলি। নবজাতকের পোশাকের ক্ষেত্রে সুতি কাপড়ের ওপর করা হয়েছে খুব হালকা কাজ, যাতে পোশাকটি আরামদায়ক হয়।

ছেলেদের পোশাকের তালিকায় বাহারি সব আয়োজনে মজার মজার সব থিম নিয়ে শার্ট, রয়েছে হুডেড শার্ট, চেক ও স্ট্রাইফের শার্ট, সুই সূতার নান্দনিক কাজ করা পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, ডেনিম প্যান্ট। সাদা কালোর পাশাপাশি লাল, সবুজ, নীল ও হলুদের ওপর শিশুদের পছন্দ বিভিন্ন তারকা ফুটবলার, কার্টুন চরিত্রগুলো শোভা পাচ্ছে।

মেয়েদের পোশাকে রয়েছে আনন্দ আর উৎসবের রঙ্গের ছোঁয়া। ফ্লোরাল মোটিফের ফ্রক, ফ্রিলের পার্টি ফ্রক, স্কার্ট, সেলোয়ার কামিজ, থ্রি-কোয়াটার ও বিভিন্ন ধরনের ন্যারো কাটিং প্যান্ট। ফতুয়া গুলো একটু লম্বা গড়নের করা হয়েছে। ব্লু, অরেঞ্জ, লেমন, মেজেন্টা, মেরুন আর লাল কাপড়ের ওপর ফুল, ছাপা, হালকা এমব্রয়ডারি মিলিয়ে সেজে উঠেছে মেয়েদের পোশাকগুলো।

রেকস, লট্টো, ইরানী, আর্টিজেন, গুডলাক, আলামিন, এবি ফ্যাশন, পরশমনি, তায়্যিব, ইয়েস পয়েন্ট, ইনটেক্স ঈদকে সামনে রেখে ছোটবড় সব ফ্যাশন হাউজে শিশুদের জন্য বাহারি পোশাক এনেছে। শিশুদের পোশাকের ব্যাপক সংগ্রহশালা রয়েছে ইয়েস পয়েন্টে। এছাড়াও শহরের টাউন হল মার্কেট, করিম পাগলা মার্কেট সহ ছোটবড় অনেক ফ্যাশন হাউজে শিশুদের নান্দনিক পোশাক পাওয়া যাবে।

দরদাম
কাপড়, ডিজাইন, মোটিভ, ব্র্যান্ড আর দোকানের চাকচিক্ক্যতার উপর নির্ভর করে শিশুদের পোশাকের দরদাম। সাধারণত ২৫০ থেকে শুরু করে চার/পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে শিশুদের ঈদ পোশাক। ফ্যাশন হাউজগুলোতে সিল্ক, অ্যান্ডি, শিফন কাপড়ের নান্দনিক নামের মেয়ে শিশুদের জামাগুলো ১০০০-৬০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। ছেলেদের ফতুয়া, শার্ট ২৫০-১৫০০ টাকার মধ্যে, কাজ অনুসারে পাঞ্জাবি ৫০০-২৫০০টাকা । ১ বছরের নিচে শিশুদের পোশাকের দাম দুইশ থেকে শুরু হয়ে একহাজার টাকার মধ্যে হবে। আর একটু কমদামে শিশুর পোশাক কিনতে চাইলে যেতে হবে এসি কাউন্টারের সামনের ভ্রাম্যমান দোকানগুলিতে অথবা তেরা বাজার ও নয়ানী বাজারে। মার্কেটে ভিড় বাড়ার আগে আপনার সোনামনিকে তার পছন্দের পোশাকটি কিনে দিন।

পরশমণি
ঈদ সামনে রেখে পরশমণি ছেলেশিশুদের জন্য এনেছে অ্যান্ডি, সিল্ক ও খাদি কাপড়ের বাহারি সব শার্ট, পাঞ্জাবি। আর তাতে উৎসবের আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হাতের কাজ দিয়ে। মেয়ে বাচ্ছাদের জন্য রয়েছে ফ্রিল দেওয়া পাটির্ ফ্রক, হাতের জমকালো কাজ করা সালোয়ার কামিজ। লং ফতুয়া ও টি শার্টের সেরা আয়োজন। সালোয়ার আর প্যান্টের কাজে নকশা এবং কাটে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। স্ক্রিন, প্রিন্ট, ব্লক, হালকা হাতের কাজ ও মেশিন এমব্রডারিতে উৎসবের রজ্ঞে সাজানো হয়েছে শিশুদের পোশাক।

ইয়েস পয়েন্ট
ইয়েস পয়েন্টে শিশুদের পোশাকের ব্যাপক সংগ্রহ রয়েছে। ঈদে শিশুদের বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে চাইলে ইয়েসপয়েন্টের মালিক শাহাদাত হোসেন শেরপুর টাইমসকে বলেন, আমরা নবজাতক থেকে ১০ বছরের সব শিশুদের জন্য পলো শার্ট, টি শার্ট, ফ্রক, ফতুয়া, প্যান্ট, পাঞ্জাবিসহ নিত্যনতুন পোশাক এনেছি।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের