শহীদ মুক্তিযুদ্ধা নাজমুল আহসান ( ১৯৪৯-১৯৭১ )


জন্ম ১৯৪৯ সালের ২০ জানুয়ারি,নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের বরুয়াজানী গ্রামে।  বাবা মরহুম সেকান্দর আলী তালুকদার ছিলেন পেশায় শিক্ষক, মা নুরজাহান বেগম তালুকদার ছিলেন গৃহীনি। বাবা মা’র  ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম।  মেধাবী ছাত্র ছিলেন নাজমুল । সে জন্য তিনি সবার আদরের ছিলেন। তিনি শহীদ হন ১৯৭১ সালের ৬ জুলাই।

শিক্ষা জীবনে  তিনি ক্লাস ফাইভ ও এইটে বৃত্তি পেয়েছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি প্রথম বিভাগে ৩টি বিষয়ে লেটারসহ কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাশ করেন। তারপর তিনি তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদে ভর্তি হন।

১৯৭১ সালে ৫ম বর্ষের ছাত্র থাকাবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে তিনি ৮ মে ভারতের  তুরার রংনাবাক অরণ্যে এক মাসের গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং ১১নং সেক্টরের অধীনে ১নং কোম্পানীর ১শ ৩৯জন প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধার দল নিয়ে মাচাংপানিতে ক্যাম্প স্থাপন করেন। নাজমুলের কমান্ডে থাকা এদলটি ‘নাজমুল কোম্পানী’ নামে পরিচিত পায়। পরে কয়েকটি সফল অপারেশন করে তিনি মিত্রবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হন।

৪ জুলাই ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল নিয়ে নাজমুল হানাদারদের ঠেকাতে ঝিনাইগাতির কাটাখালী ব্রিজ ধ্বংস করতে আসেন। ৫ জুলাই রাতে ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে সফল অভিযান শেষে রাঙ্গামাটি গ্রামের কৃষক নঈমদ্দিনের বাড়িতে বিশ্রামের জন্য আশ্রয় নেন। ৬ জুলাই ভোরে স্থানীয় এক রাজাকারের সংবাদের ভিত্তিতে পাকাহানাদাররা নঈমুদ্দিনের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এসময় নাজমুল আহসান তার সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের বিল সাঁতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিজে শত্রুর মোকাবেলা করতে ব্রাশ ফায়ার শুরু করেন। তিনদিক থেকে গুলি আসছে। ডিফেন্স ফায়ার করতে করতে নিরাপদে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই। একপর্যায়ে শত্রুপক্ষের এসএমজি’র একটি গুলি  তার বুকে বিদ্ধ হয়। তিনি লুটিয়ে পড়েন বিলের পানিতে। এসময় তাকে রক্ষা করতে এসে শহীদ হন চাচাতো ভাই মোফাজ্জল এবং  ভাতিজা আলী হোসেন। এভাবে রাঙ্গামাটির বিলে তিনটি তাজা প্রাণ তলিয়ে যায়।

দেশ স্বাধীনের পর তার স্মৃতি রক্ষায় ১৯৭২ সালে নালিতাবাড়ীতে নাজমুল স্মৃতি কলেজ এবং  ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের এই কৃতি ছাত্রকে স্মরণীয় করে রাখতে “ শহীদ নাজমুল আহসান হল” নামে একটি ছাত্রবাস নির্মাণ  করেন  ।

শহীদ মুক্তিযুদ্ধা এ এন এম নাজমুল আহসান  বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক ‘স্বাধীনতা পদক’ (মরোনত্তর) পান ।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।