You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র হাজার টাকায়

লাখ টাকা দামের কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র হাজার টাকায়। তৃণমূল পর্যায়ে একটি বড় আকারের গরুর চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় ও মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, খাসি, ভেড়া বা বকরির চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দেখা যায়নি। রাজধানী ঢাকার একাধিক পয়েন্টে চামড়া বেচা-কেনার দৃশ্য সরেজমিন ঘুরে এই তথ্য যাওয়া গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকাতে যারা পশু কোরবানি করছেন তাদের কাছ থেকে স্থানীয় মৌসুমী (সিজনাল) ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া সংগ্রহ করছে। মূলত স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেকার জনগোষ্ঠী এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষ তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহ করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে।

তৃণমূল পর্যায়ে স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে তা প্রাথমিকভাবে চামড়া প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কাছে বিক্রি করছে। এই ব্যবসায়ীরা তৃণমূল পর্যায় থেকে চামড়া কিনে তা লবণ দিয়ে একধরণের প্রক্রিয়া শেষে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে।

যাত্রাবাড়ি, জুরাইন, দয়াগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড, রায়সাহেব বাজার, ফকিরের পুল, সূত্রাপুর, মহাখালি, সদরঘাট, কেরানিগঞ্জসহ রাজধানী ঢাকার একাধিক পয়েন্টে চামড়া বেচা-কেনার দৃশ্য চোখে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ করে ওইসব পয়েন্টে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। মূলত এইসব পয়েন্টে লালবাগের পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ীরা তৃণমূল পর্যায় থেকে চামড়া সংগ্রহ করে তা লবণ দিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণ শেষে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে।

সরেজমিন ঘুরে আরও দেখা গেছে, তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি বড় গরুর চামড়া ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকায়, মাঝারি আকারের ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় আর ছোট আকারের চামড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ওই চামড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টের ব্যবসায়ীরা বড়া আকারের গরুর চামড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়, মাঝারি আকারের ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় আর ছোট গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে কিনে নিচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ীরা ওইসব চামড়া লবণ দিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে সরকার নির্ধারিত প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে।

পোস্তার হাজী লেদারের মোহাম্মদ আশরাফ  বলেন, ‘এইবার চামড়ার দাম একদম পরে গেছে। আমরা বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা দরে ক্রয় করছি।’

প্রাথমিকভাবে চামড়া প্রক্রিয়া করতে লবণের কোনো সংকট নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর একাধিক পয়েন্ট থেকে আমরা এই চামড়া সংগ্রহ করে তাতে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া কাজ শেষ করব। তারপর সেই চামড়া বর্গফুট হিসেবে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করবো।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ গবাদি পশু কোরবানি হওয়ার কথা। যার মধ্যে  রয়েছে গরু-মহিষ ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭১ লাখ। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে উৎপাদিত চামড়ার ৬০ শতাংশই কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হয়। যার মধ্যে গরুর চামড়া ৬৫ শতাংশ, মহিষের চামড়া ২ শতাংশ, খাসির চামড়া ৩২ শতাংশ এবং ভেড়ার চামড়া ১ শতাংশ।

 শে/টা/বা/জ

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!