You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

রমজানেও শেরপুরে চলছে হালখাতার ধুম

হালখাতা যা বাংলা সনের প্রথম দিকে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। বছরের প্রথম মাসে ব্যবসায়ীরা তাদের দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে হিসাবের নতুন খাতা খোলেন। এজন্য ক্রেতাদের বিনীতভাবে পাওনা পরিশোধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, শুভ হালখাতা কার্ড’ নামক দাওয়াত কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ দিনে দোকানে আসার নিমন্ত্রণ। এ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা বিশেষ কয়েক দিনে ক্রেতাদের পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে মিস্টিমুখ করিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ীদের পুরাতন দিনের খাতার হিসাব মিটিয়ে নতুন করে হালনাগাদ করা থেকে হালখাতা’র উদ্ভব। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছোট, বড় প্রায় সকল দোকানেই এ হালখাতা পালন করে থাকে।

তবে এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু ভিন্ন আয়োজন। এ বছর পবিত্র মাহে রমজান মাসেও চলছে হালখাতার ব্যস্ততা। পুরাতন দিনের হিসাব নিকাশ মিটিয়ে নিতে শেরপুর জেলার ব্যবসায়ীরাও শুরু করছেন হালখাতা উৎসবের আয়োজন। তাই দোকান পাটের পুরনো ময়লা-আবর্জনা ধুয়েমুছে সাফ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রঙ এর মাধ্যমে সাজানো হচ্ছে। টাঙানো হচ্ছে বেলুন, ফুলের মালা, মিউজিক বাতিসহ নানা ধরনের বর্ণিল সামগ্রী। দোকানের সব জিনিসপত্র নামিয়ে সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তারা পুরাতন খাতার সব লেনদেনের হিসাবও করছেন।

শুভ হালখাতা কার্ড নিজ নিজ দোকানের নামে করার জন্য ব্যবসায়ীরা শহরের বড় বড় দোকানে, প্রেসে গিয়ে কিনে আনছেন হরেক রকমের হালখাতা কার্ড। শেরপুর জেলা সদরের বড় বড় কার্ডের দোকান, প্রেস ছাড়াও জেলার নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবর্দী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাতেও চলছে হালখাতা কার্ড তৈরির উৎসব। সরেজমিনের ঘুরে দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা কার্ড ক্রেতাদের বাড়ি বাড়ি বিলি করে নির্দিষ্ট দিনে দোকানে এসে পুরাতন হিসাব মিলিয়ে হালনাগাদ বা পরিশোধ করার অনুরোধ করছেন।

শেরপুরের সিলেট পেপার হাউসের সত্তাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছর রোজার আগে হালখাতা থাকে আমরা অনেক হালখাতার কার্ড বিক্রি করি। কিন্তু এবার রোজার মধ্যে হালখাতার সময় হওয়ায় চিন্তিত ছিলাম। তবে রোজার প্রথম সপ্তাহেই অনেক হালখাতা কার্ড বিক্রি হওয়ায় স্বস্থি ফিরে এসেছে। তাই আমরা বিভিন্ন রকমের, বিভিন্ন দামের হালখাতা কার্ড এনেছি। যা ক্রেতাদের চাহিদা মোতাবেক দেওয়ার চেষ্টা করছি। এবার রোজার মাঝেও হালখাতা কার্ড বিক্রির ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সাজু মিয়া নামে অপর ব্যবসায়ী জানান, বর্তমান সময়ে দোকানে অপ্যায়ন হয় খুব কম। বিভিন্ন নামিদামি হোটেলে ক্রেতাদের খাওয়ানো হয়। ক্রেতারা দোকানে এসে বাকি টাকা দিয়ে হোটেলে খাওয়া দাওয়া শেষে চলে যান। তবে এবার রমজানে হালখাতা হওয়ায় আমাদের একটু সমস্যা হচ্ছে তারপরেও আমরা মিস্টি প্যাকেট করে আমাদের কাস্টমারদের দিয়ে থাকি।

আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা তাদের হিসাব-নিকাশ কম্পিউটারে রাখছেন। তবে টালিতে সব হিসাবই লেখা হয়। টালি থেকে পরে কম্পিউটারে লেখা হয়। অনেক ক্রেতা না আসতে পারলেও মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশেও টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে দিন দিন এ আয়োজন কিছুটা কমছে জানিয়ে তারা বলেন, এ উৎসবে ব্যবসায়ীদের পরিবারের স্বজনরাও আনন্দ করেন। দোকানে দোকানে বসেন, ক্রেতাদের আপ্যায়ন করেন। ক্রেতাদের বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেন।

প্রতি বছর হালখাতার সময় বিভিন্ন দোকানে দোকানে মাইক, স্পিকার লাগিয়ে গান বাজানো হয় । কিন্তু এবার রমজানে নিরবে চলছে এসব হালখাতার অনুষ্ঠান। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি মোটা মোটি সন্তোষ জনক।

শেরপুর জেলার রড সিমেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোফাজ্জল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফারুক এন্টার প্রাইজসহ বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর হালখাতা উপলক্ষে তাদের ক্রেতাদের বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও দিয়ে থাকেন ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!