যেভাবে নকলা উপজেলার নামকরণ

নকলা নামটি এসেছে আরবী ‘নাখলা’ শব্দ থেকে। নাখলা শব্দের অর্থ খেজুরের বাগান। এই আরবী শব্দটি থেকে অনুমিত হয়, এটি একটি প্রাচীন জনপদ। তবে এ অঞ্চলটিতে হিন্দুদের আধিক্য ছিল। পরবর্তীতে তারা স্থানান্তরিত হয়েছে অথবা প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলে গেছে। বলাবাহুল্য, নকলা থানা স্থাপনের পূর্বে প্রসিদ্ধ ব্যবসায় কেন্দ্র ও নৌ বন্দর চন্দ্রকোনাকে থানা করার পরিকল্পনা ছিল ব্রিটিশ সরকারের। কারণ, চন্দ্রকোনায় ছিল মহারাজ শশীকান্ত চৌধুরী ও জমিদার গোপাল দাস চৌধুরীর দুটি কাঁচারী। যেখানে প্রজাদের নিকট থেকে খাজনা আদায় করা হতো। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বিদ্যাপিঠ চন্দ্রকোনা রাজ লক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়, সূর্যবালা দেবী হাসপাতাল, পোস্ট অফিস এবং বড় বড় পাঠ ক্রয় কেন্দ্রসহ শিা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রাণ কেন্দ্র ছিল চন্দ্রকোনা।

ব্রহ্মপুত্র, দশানি আর মৃগী অববাহিকায় চন্দ্রকোনা নৌ বন্দর থেকে কলকাতা ও বিলেতে ডান্ডির সাথে সরাসরি নৌ যোগাযোগ ছিল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আন্দামান ফেরত বিপ্লবী নগেন্দ্র চন্দ্র মোদক, বিপ্লবী যোগেশ চন্দ্রকর্মকার এবং বিপ্লবী মন্মথ দে চন্দ্রকোনায় জন্মে ছিলেন। মোঘল আমলে নকলা উপজেলার নারায়নখোলা গ্রামে সেনা ছাউনী ছিল। ব্রিটিশ আমলে পাঠাকাটা ইউনিয়নে ছিল নীল কুঠি। তবে এর সামান্যতম অস্তিত্ব এখন আর অবশিষ্ট নেই। অস্তিত্ব নেই অন্য কোন প্রাচীন নিদর্শনেরও। ১৯২২ সালের ১২ নভেম্বর গঠিত নকলা উপজেলা। ১৯৭১ সালে ৯ ডিসেম্বর নকলা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

আয়তন: শেরপুর জেলায় অবস্থিত নকলা উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৪.৯৮৩৩ ডিগ্রি উত্তর, ৯০.১৮৩৩ ডিগ্রি পূর্ব। এর উত্তরে নালিতাবাড়ী উপজেলা, পূর্বে ফুলপুর উপজেলা, দক্ষিণে জামালপুর, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর সদর উপজেলা অবস্থিত। এ উপজেলাটির আয়তন১৭৪.৮০ বর্গকিলোমিটার তথা ৬৭.৪৯ বর্গমাইল।

প্রশাসনিক এলাকা: নকলা উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ইউনিয়ন গুলো হলো: ১নং গণপদ্দী ডিজিটাল ইউনিয়ন, ২নং নকলা ইউনিয়ন, ৩নং উরফা ইউনিয়ন, ৪নং গৌড়দ্বার ইউনিয়ন, ৫নং বানেশ্বরদী ইউনিয়ন, ৬নং পাঠাকাটা ইউনিয়ন, ৭নং টালকী ইউনিয়ন, ৮নং চরঅষ্টধর ইউনিয়ন ও ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন। নকলা উপজেলায় ১টি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন, ৮৮টি মৌজা, ১৭৭টি গ্রাম রয়েছে। এ উপজেলায় ৫৬ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি কলেজ, দাখিল মাদরাসা ১৫টি, আলিম মাদাসা ২টি, ফাজিল মাদরাসা ২টি, ২৯৮টি মসজিদ, ১টি স্মৃতিসৌধ, ১১টি শহিদ মিনার, ৫টি বানিজ্যিক ব্যাংক।

দর্শনীয় স্থান সমূহ: উপজেলার নারায়ণখোলা গ্রামে হাজারবর্ষী বেড়শীমূল গাছ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, সুইচ গেট চন্দ্রকোনা,রুনিগাও গাজীরদরগা-মসজিদ, রামেরকান্দি সমতল ভুমির চা বাগান উল্লেখ্য যোগ্য।
কৃতিব্যক্তিত্ব: দৈনিক সংবাদ সম্পাদক প্রয়াত সাংবাদিক বজলুর রহমান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সফল কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ প্রয়াত আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরী, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মোঃ বিল্লাল আলম, সাপ্তাহিক নবজাগরণ সম্পাদক প্রয়াত এড. আবুল কাসেম, সাবেক সাংসদ প্রয়াত ডা: নাদেরুজ্জামান, সাবেক এমপি মিজানুর রহমান, বিএনসিসি চক্ষু হাসপাতাল ধোবাউরা ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠাতা ডা: কে জামান, তথ্য মন্ত্রনালয় সাবেক সচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যরিস্টার হায়দার আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর সাবেক প্রফেসর তাসলিমা খাতুন, সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ সচিব নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: ইউকিপিডিয়া, ইন্টারনেট

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের