যুবলীগের নেতাকে কেন ভিসি বানাতে হবে?

সকলের রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার রয়েছে। রাজনীতি ব্যতিত রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বানাতে হবে যুবলীগের নেতাকে! এটা শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান উন্নতির জন্য সহায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক পীর হাবিব বলেন, রাজনীতিতে মত পার্থক্য থাকবে এটা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। একথাও সত্য রাজনৈতিক বিবেচনায় সারাবিশ্বেই নিয়োগ দেয়া হয়, তাই বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় দলীয় লেজুর বৃত্তির চরম প্রদর্শণ করতে হবে? আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের উপাচার্য বানাতে হবে? এটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শিক্ষার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের কাজ শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা। আর ঐ শিক্ষক যখন উপাচাযের্র দায়িত্ব নেন তখন তিনি সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষক। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদের পক্ষে আদৌ তা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। অতীতে আমরা কি দেখি, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো হল জ্ঞানের আধার, এখানে বিশ্বময় জ্ঞান বিতরণ করা হয় এবং মুক্ত চিন্তার খোরাক এখান থেকেই জন্ম নেয়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

এই কলামিস্ট ও সাংবাদিক আরও বলেন, যে ব্যক্তি যে জায়গার যোগ্য নয় তাকেই বর্তমানে সেই জায়গায় বসানো হচ্ছে। দলীয় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আপনারা দেখবেন, বর্তমানে দুটি বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। একজন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অন্যজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য। আমার প্রশ্ন যুবলীগ থেকে মন্ত্রী এমপি বানান ভাল কথা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য কেন? তাহলে তো এক সময় মেধাবী ছাত্ররা মূল্যায়িত হবে না। দলীয় লোকই মূল্যায়নের মাপ কাঠি হয়ে যাবে, তা কিন্তু ভাল নয়।

পীর হাবিব আরও বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত কি দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য নানা রকম বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে। অতি সম্প্রতি দেখতে পেলাম বরিশাল ও সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা ও জঙ্গি বলে আখ্যায়িত করছে। এটা সম্ভব হয়েছে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক লেজুড় বৃত্তির জন্য। একটা সময় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেখে আপাদমস্তক শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে আমরা কী তা দেখতে পাচ্ছি? আজ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের মাঝে সেই মধুর সম্পর্ক সম্পূর্ণরুপে অনুপস্থিত, ভাবতে বড় কষ্ট হয়। এটা এক সময় ক্ষতির কারণ হবে সকলের জন্য।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের