You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

মানুষ এহন আগের মত সিলপাডা কাডায়না

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) থেকেঃ
হালুয়াঘাট উপজেলার জুগলী ইউনিয়নের ঘিলাভুই গ্রাম। বাইন্যা বাড়ি হিসেবে পরিচিত শ্তাধিক  পরিবার।  ১২০ বছর যাবত  সিলপাঁটা কাটিয়ে চলছে এদের জীবন। কোন পরিবর্তন নেই। শুরুতে মাত্র তিনটি বাইন্যা দিয়ে সিলপাঁটার কাজ আরম্ভ হলেও তা আজ দাড়িয়েছে ১ শত পরিবারের উপরে। এই পেশাটিকে তারা তাদের অতিহ্য হিসেবে মনে করে থাকে। এরা শুধু হালুয়াঘাট নয়, সারা বাংলাদেশেই বিভিন্ন মৌসুমে সিলপাঁটা কাটিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে  থাকেন।

এই বাইন্যারা যখন বাড়ি থেকে ব্যাবসার উদ্দেশ্যে বাহির হন তখন প্রত্যেক বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের স্লোগান হচ্ছে-“এই সিল কাটাই-পাঁটা কাটাই” কারও যদি সিলপাঁটা কাটানোর প্রয়োজন পড়ে তাহলে তাদেরকে ডেকে সিলপাঁটা কাটিয়ে সামান্যতম মজুরি দিয়ে থাকে। সিলপাঁটা হচ্ছে মরিচ,হলুদ, ধনে, জিড়া গুড়া করার পাথরের তৈরি একটি যন্ত্র। যা দিয়ে মহিলারা পাঁটার উপর মরিচ,হলুদ,জিরা,ধনেসহ রান্নার যাবতীয় মসলা রেখে সিল দিয়ে পিষে গুড়া করে। তারপর রান্নাকে সুস্বাধু করার জন্যে তা ব্যাবহার করে।
গতকাল বুধবার ঘিলাভুই গ্রামের সিলপাঁটার কাটানো এই বাইন্যা বাড়িতে গিয়ে বিচিত্র রকমের তথ্য পাওয়া যায়। ৬০ বছর ধরে সিলপাঁটা কাটিয়ে সোরহাব(৭২) সংসার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন-আমরা ১২০ বছর আগে থেইকা এই কাম করতাছি। আমার দাদা করত, জেডা করত, আব্বা করত, এখন আমিও করি। একসময় সিলপাডা কাডাইয়া  হারাদিনে পাঁচ টেহা কামাইছি। এক একটা পাডায় বারো পয়সা, চার-আনা, আডানা লইছি। তিনি বলেন-ত্রিশালের ধানীখলা নামক জায়গা থেকে জহুর,মুল্লক বাহাদুর, অমর ব্যাপারি সর্বপ্রথম এই সিলপাঁটা কাটানোর কাজ আরম্ভ করেন। এখন তা শতাধিক পরিবারে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রবীণ সিলপাঁটা কাটানো ব্যাবসায়ী ছোরহাব আরও বলেন- তার কিছু দুঃখের কথা। তিনি বলেন-আডুইন তো যায়না মোডেই, ঠেং অচল, ছোড সময় টাইফয়েড অইছিলো, এহন আর আটবার পাইনা। এখন আর জীবন চলেনা। খাইয়া না খাইয়া দিন যাইতাছে। শুক্রবারে গেছিলাম গ্রামে।মাত্র ১৫০ টেহার মত পাইছি। মানুষ আর এখন আগের মত সিলপাঁটা কাডাইনা।

সেলিনা(৩৫) নামে এক বাইন্যার স্ত্রী বলেন-এহন মরিচ বাইট্যা খা কেডা, এহন পেয়াজ,রসুনের গুড়াও পাওয়া যায়। তিনি বলেন আমাদের বেহি বাইন্যা বাড়ি কয়। অনুমদ্দিন(৫৫) নামে আরেক পুরাতন বাইন্যা বলেন-ব্যাবসা ভানিজ্য খুব কম, পিন্ডা চলেনা, মাঝে মাঝে যাই, আমরা সবাই দুর্বল হয়ে গেছি। অনুরুপভাবে ভাইন্যা জয়নাল(৬০), রফিকুল(৩৫), জুলহাস(৩২), বিল্লাল(২৫), ছমির(৭২), ইদ্রিস আলী(৪৫), সেলিনা(৩৫) সহ প্রত্যেক বাইন্যার একই বক্তব্য। সকলে বলেন- আমরা এই বাইন্যা বাড়ির সবাই সিলপাডা কাডাই, কিন্তু ব্যাবসা চলেনা। তারা জানান, কেউ কেউ আবার সিলপাঁটা কাটানোর ব্যাবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য ব্যাবসার দিকেও ঝুঁখছেন।

২ নং জুগলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান  বলেন-সিলপাঁটা এখন অনেক কমে গেছে। যেদিন থেকে মানুষ বাজার থেকে মরিচ, হলুদের গুড়া কিনে খাওয়া শুরু করছে সেদিন থেকেই সিলপাঁটার প্রয়োজন কমে গেছে।

হালুয়াঘাট আকনপাড়া গ্রামের মোবাইল ব্যাবসায়ী বাবুল দেবনাথ বলেন-রাধুনী আর ধনিয়ার গুড়াই সিলপাটার বারোটা বাঁজিয়েছে। নয়তো সিলপাঁটা কাটানোর সাথে জড়িত এইসব বাইন্যাদের জীবন ভালোই চলতো। ##

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!