You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে টিভির রঙিন পর্দায় ঝুকছে শিশুরাও

নাঈম ইসলাম : সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট। স্টার জলসায় “অর্ধাঙ্গিনী” মেগা সিরিয়াল দেখতে টিভির সামনে হাজির তৃতীয় শ্রেণি পড়–য়া মুন্নি। খানিকবাদে সাথে এসে বসলেন মুন্নির মা সুমিতাও। এরকম দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই।

ভরসন্ধাতেই সোনামণির বায়না টেলিভিশনে মটো-পাটলু দেখবে। মায়ের কড়া নির্দেশ, স্কুলের হোমওয়ার্ক শেষ করো, তারপর কার্টুন। শেরপুর শহরজুড়ে শিশুদের জন্য পোশকের দোকান, খাবারের দোকান, খেলনার দোকান, নাচ-গান শেখার স্কুল থাকলেও বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা নেই।

শিশুর বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হলো স্কুলে, খেলার মাঠে বা খোলা জায়গায় সহপাঠী এবং বন্ধু বান্ধবের সাথে খেলাধুলা করা। কিন্তু শহরের বেশির ভাগ বাসাবাড়িতে যেমন খোলা জায়গা নেই তেমনি অধিকাংশ স্কুলগুলোতেও খেলাধুলার জন্য মাঠ নেই। তাই বিনোদনের জন্য শিশুদের খুঁজতে হচ্ছে অন্যকিছু।

আমার আদরের সোনামণিকে পড়াশোনা, নাচগান, আঁকা, আবৃতি, শরীরচর্চা, খেলাধুলা সবকিছুতেই সেরা হতে হবে। আর এই কঠিন ইচ্ছার কারনেই স্কুলে ছুটির ঘন্টা বাজতেই তাদের দৌড়াতে হচ্ছে কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের কাছে। এতকিছুর মাঝে খেলার সময় হয় না। অভিবাবকরা তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে সন্তানদেরকে বিনোদনের জন্য আগ্রহী করে তুলছেন টেলিভিশনের প্রতি।

শিশুর বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ কি আছে গণমাধ্যমে, টেলিভিশনে কি দেখছে শিশুরা, কি নিয়ে গড়ে উঠছে শিশুদের পৃথিবী। আধুনিক জীবনে অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হয়ে ওঠা টেলিভিশন কোমলমতি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য কতটুকু সহায়ক হতে পারে। ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে মেগা সিরিয়ালে এমন সব দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, যা প্রাপ্ত বয়ঃস্কদের জন্য। অথচ বাংলাদেশের বহু শিশু এই সিরিয়ালের দর্শক। কাজের ফাঁকে মা ও পরিবারের অন্য নারীদের সাথে নিয়মিত এখন শিশুরা এসব সিরিয়ালে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

জানা যায়, রাতে মা-বাবা শিশুদের জন্য আলাদা ভাবে সময় না দিয়ে তাদের পাশে বসিয়েই ঐ সিরিয়াল দেখতে বসে যান। আর সিরিয়ালটি দেখে যতক্ষণ শিশুটি জেগে থাকে। ফলে শিশুরাও নিয়মিত দর্শক হয়ে উঠছে। জানতে চাইলে শহরের মোবারকপুর মহল্লার আব্দুর-রাজ্জাক বলেন, রাতে পড়া শেষ করে বাবু আমাদের সাথে শুয়ে শুয়ে শুয়ে টেলিভিশন দেখে। আর আমাদের সাথে বাবুও নিয়মিত সিরিয়াল দেখে ।

আইডিয়াল প্রিপারেটরি অ্যান্ড হাইস্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন্নাহার হিয়া। বাসায় একটু সময় পেলেই বসে যায় টিভি সেটের সামনে, ভারতীয় কার্টুন চ্যানেল সিএন দেখার জন্য। মা জানালেন, হিয়া হিন্দি ভাষা অনেকটা বুঝে ।

শিশুরা কার্টুনের জন্য ঝুঁকছে ভারতীয় চ্যানেলের প্রতি। এ কারনেই অনেক শিশুই বাংলা হিন্দি সমান তালে শিখে। ক্রমেই শিশুদের দূরত্ব তৈরী হচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে, আর অপসংস্কৃতির আগ্রাসন বাড়ছে। এতে শিশুর সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। উদ্ভূত এ পরিস্থিতির প্রতিকার জরুরী। শিশুর বিনোদন টেলিভিশন কেদ্রিক হওয়ায় দেশীয় গনমাধ্যমকে এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

আশার আলো হচ্ছে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে শিশু নির্ভর স্যাটেলাইট চ্যানেল এসেছে। যাতে বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতি নির্ভর অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। টেলিভিশনে কোন অনুষ্ঠানটি শিশু পছন্দ করে, কেন করে, আর কোন অনুষ্ঠানটি শিশুর ভাল লাগেনা, তা বুঝার চেষ্টা করতে হবে। টেলিভিশনে প্রচারিত শিক্ষনীয় বিষয়টি নিয়ে শিশুর সাথে আলোচনা করতে হবে। এতে তার বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়বে।

শিশু সাহিত্যিক আপন অপু বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শিশুকে বিনোদন কেন্দ্রে অথবা গ্রামের মুক্ত পরিবেশে নিয়ে যেতে পারেন। আর শিশুদের বিনোদনের বড় একটি অংশ সামাজিক কাজে অংশগ্রহন। সেটা বৃক্ষরোপণ, পরিস্কার অভিযান, শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্রদের খাবার দেয়া হতে পারে। এতে শিশুর সামাজিক ও মানবিক দিক বিকশিত হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!