You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

বেডাইনের বেতন বাড়ে : আমাদের এক টেহাও বেতন বাড়েনা

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) : বেডাইনের সারাবছরই বেতন বাড়ে, আমাদের এক টেহাও বেতন বাড়েনা। এহন আমাদের ১৫ টেহা বেতন দেয়, কোন সময় ১০ টেহাও দেয়। বেডাইনের বেতনতো সারা বছর বাড়তেই আছে। আমরা সারাদিন কাজ করি, কোনদিন রাত ৮টা বাজে, কোনদিন রাত ১২টাও  বাজে। খাওন নিজের, গাড়ি ভাড়াও নিজের, সব নিজের। পানটাও আমরা নিজেরা কিইনা খাই।

বুধবার সরেজমিনে হালুয়াঘাট  উপজেলার দড়িনগুয়া গ্রামের শাওন রাইস মিল, আদিবা রাইস মিল ও দোহা রাইস মিলের মহিলা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে আক্ষেপের সাথে কথাগুলো বলেন ধারাকান্দা গ্রামের মহিলা শ্রমিক নাজমা(৫০), আয়েশা(৪৮), আনু(৬০), হামিদা(৫৫)সহ তাদের দলে নিয়োজিত থাকা ১৩জন মহিলা শ্রমিক।
জানা গেছে, হালুয়াঘাট উপজেলায়  চাতাল কল রয়েছে প্রায় ৪০টি। এখানে মহিলা শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৫শ থেকে ৬শ জন। এ সকল  চাতাল কলের মহিলা শ্রমিকদের দৈনিক গড় আয় মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর এ পরিমাণ অর্থ আয় করতে খাটতে হয় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। নিজেরা চাল উৎপাদন করলেও তাঁদের ভাগ্যে জোটে খুদ। নেই ভালো আবাসন সুবিধা। চিকিৎসা, শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত এসব শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বছরের পর বছর ধরে শ্রমিকদের এভাবেই ঠকিয়ে আসছেন চাতাল কল মালিকরা। সব মিলিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

হালুয়াঘাট উপজেলার দড়িনগুয়া গ্রামের শাওন রাইস মিল, আদিবা রাইস মিল ও দোহা রাইস মিলের মহিলা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা মাঠ হিসেবে এসব চাতাল কলে মজুরি পেয়ে থাকেন। চাতালে ধান ওঠা থেকে শুরু করে সিদ্ধ করা, শুকানো, চাল সরবরাহ পর্যন্ত কাজকে মাঠ হিসেবে ধরা হয়।

চাতাল কলের আয়তন অনুযায়ী প্রতি মাঠে ৪০০ থেকে ৫০০ মণ ধান ওঠানো হয়। প্রতিমণে সাড়ে পাঁচ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হয়। ৫০ থেকে ৬০ শ্রমিক তিন-চার দিনে একটি মাঠ উঠিয়ে থাকেন। সেই হিসেবে শ্রমিকদের প্রতিদিনের আয় গড়ে ২০-২৫ টাকা ও সঙ্গে প্রায় দুই কেজি খুদ। মালিকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শ্রমিকদের দাদন দেই। কিন্তু কোনো কারণে শ্রমিক চলে গেলে এর দায়ভার সরদারকে নিতে হয়।
হালুয়াঘাট চাতাল কল মালিকের সাধারন সম্পাদক আজিজুল আহসান বলেন, প্রতিটি চাতাল কলে প্রায় ১৫ জন করে মহিলা শ্রমিক রয়েছে। লট অনুযায়ি তারা চুক্তিতে কাজ করে থাকেন। তবে তারা যদি লট তাড়াতাড়ি তুলতে পারেন তাহলে তাদের বেতন ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পড়ে। বৈরি আবহাওয়ার কারনে যদি তা শেষ না করতে পারে তাহলে বেতন অনেক কম পড়ে। তবে লেবার সর্দার তাদেরকে প্রতিদিন ১০ টাকা থেকে ২০টাকা হাজিরা দিয়ে থাকেন এমনটিই জানান এই মিল মালিক।

বিভিন্ন চাতাল কলের মহিলা শ্রমিকদের সাথে কথা বললে কেউ কেউ বলেন- “প্রায় ১০ বছর ধরে চাতাল মিলে কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত মালিকরা কোনোদিন মে দিবসের ছুটি দেন নাই। সরকারিভাবে ছুটি দেয়ার নির্দেশনা আছে কিনা আমার জানা নাই। “দৈনিক মানবজমিনকে” এ কথাগুলো বলছিলেন মহিলা শ্রমিক নাজমা খাতুন। উপজেলার ১ হাজারেরও  অধিক নারী-পুরুষ চাতাল শ্রমিকের। মে দিবসে সরকারি বন্ধ থাকলেও প্রতিদিনের মতো এদিনও কাজ করতে হয় তাদের।

দিন-রাত বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে চাল উৎপাদন করে যোগান দেশের কোটি কোটি মানুষের খাবারের চাহিদা। কিন্তু নিজেরা যুগের পর যুগ রয়ে গেছেন ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। তারা অভিযোগ করে বলেন, “মালিকরা আমাদের অনেক ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছেন। বিশেষ করে মে দিবসে তারা আমাদের ছুটি দেন না। বিভিন্ন সময়ে এসব দাবি নিয়ে আমরা মালিকেদের সঙ্গে আলোচনা করলেও কোনো দাবিই তারা মানেন নাই।

 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!