You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

বিশেষ স্টাইলে চুলকাটা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন

মুহাম্মদ হযরত আলী: মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের “সুরা দাহর” এর ২৭ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, “তারা (অবিশ্বাসীরা) ভালবাসে পার্থিব জীবনকে এবং তারা পরবর্তী কঠিন মহাদিবস (হাসরের দিন) কে উপেক্ষা করে চলে”।

প্রত্যেক মানুষই মরনশীল, আস্তিক হউক বা নাস্তিক হউক, দাপটে বা দুর্বল, সকলের জন্যই মৃত্যু নামের যন্ত্রণা সমান দুরত্বে অবস্থান করে। তাই মৃত্যুর পরবর্তী পরিণতি সম্পর্কে কম/বেশি সকলেরই চিন্তা ভাবনা থাকা বাঞ্চনীয়। এজন্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জিবনের আচার, আচরণে, নির্দোষ রীতিনিতি’র চর্চা প্রয়োজন। যার সুচনা বা ভিত্তিস্থাপন পরিবার থেকেই করতে হবে। নিকট অতিতের একটি ভয়াবহ ঘটনা “উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার আদরের দুলালি “ঐশী” এবং তার পিতা-মাতার ভাগ্যে যা ঘটেছে তা কি কারো অজানা নয়”। পারিবারিক উদানীসতাই এ ঘটনার পিছনে দায়ী ছিল তা দালিলিক ভাবে অকোপটে প্রমাণিত হয়েছে। উপরোক্ত আলোচ্য আয়াত থেকে মুসলমানের জন্য শিক্ষা নেয়ার বিষয় যে, সন্তানদের পার্থিব ভোগ বিলাশ ও আবেগিক জিবন আচরণের বিপরীত মুখী পথের দ্বীক্ষা ও দিশা পরিবার থেকেই প্রদান করতে হবে। অন্যথায় ‘ঐশীর’ পরিবারের মত অনাকাঙ্খিত দুঃসহ, করুন, অমানবিক ও পৈশাচিক দুর্দশার শিকার হওয়া অবশ্যম্ভাবি।

আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা, সামজিক কালচার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুশীল ছায়া ও শান্তিময় সু-বাতাসের অভাব দীর্ঘ দিনের। বর্তমানে এটা আরো চরম পর্যায়ে চলে এসেছে, এ অবস্থা আরো সামনের দিকে চলে গেলে, চোখের জলে বুক ভাসিয়ে কান্না করে কোন ফায়দা হবেনা। বরং সময় থাকতেই সাধু-সাবধান। নিজ সন্তানের নৈতিকতার বিষয়ে বেখেয়াল অথচ তাদের জন্যে বাড়ী, গাড়ী, সহায়, সম্পদ ও ভোগ বিলাশের সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। এতে একথা প্রমাণিত হয় যে আমাদের সন্তান গুলো যতনা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নিজেদের দোষে, তার চেয়ে বেশী ধংশের পথে এগুচ্ছে পিতা-মাতা ও অবিভাবকদের জেগে থাকা ঘুমের কারনে। এ জাতিয় ঘুমে মগ্ন না থেকে, সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে, পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে, সুপ্রিয় সন্তানের সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার পথ সুগম করার প্রত্যয়ী হতে হবে।

সম্প্রতি কালের দুটি কেইস স্টাডির প্রতি সম্মানিত অবিভাবকদের স্বহৃদয় মনযোগ আকর্ষন সহকারে আন্তরিকতার সহিত পাঠান্তে মর্ম উপলব্ধির বিনীত অনুরোধ পেশ করছি। ঘটনা দুটি থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বর্ণিত বিষয়ের অসহায়ত্বও অনুভব করা যায়।

ঘটনা (১) ৩১ জানুয়ারি-২০১৯ ভারতের কলকাতা নিউটাউনস্থ “হাটগাছা হরিদাস বিদ্যাপীঠ” এর প্রধান শিক্ষক ড. পার্থ সারথী দাস, নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিশেষ সটাইলে চুলকাটা এবং চুলে রং করার বিষয়ে নিজের নসিহত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অনেকটা ব্যার্থ হয়ে শেষতক, সেলুনকর্মীদের (নাপিত) দ্বারস্থ হয়ে, ছাত্রদের বিশেষ সটাইলে চুল না কাটতে এবং চুলে রং না করতে অনুরোধপত্র প্রদান করেন।

ঘটনা (২) বাংলাদেশের টাংগাইল জেলার সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আমির হোসেন গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ নিজ কর্মস্থলের উঠতি বয়সের ছেলেদের মাদকাসক্তি, ইভটিজিং ও বখাটেপনা থেকে ফিরিয়ে আনতে বা প্রতিরোধ করতে “নরসুন্দর” বা নাপিত বা সেলুনকর্মীদের নিকট নিষেধাজ্ঞার ফরমান জারি করেন। এর আগে অবশ্য ওসি সাহেব এবিষয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভা ও সেলুন মালিক এবং তাদের পেশাজীবি সংগঠনের সদস্য ও নেতাদের সাথে বৈঠক করার পর নিষেধাজ্ঞা পত্রটি জারি করেন।

উল্লেখিত ঘটনা দুটি পত্র/পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগের অবধানে শুধুমাত্র বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বরং তাবৎ দুনিয়ার সচেতন মানুষের চোখে পড়েছে, কিন্তু আশানুরুপ ক্রিয়া, প্রতিক্রিয়া, আলোচনা বা সমালোচনার কোন ঝড় পরিলক্ষিত হয়নি। এর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রাজ্ঞ বা বিজ্ঞ লোকদের উল্লেখ যোগ্য কোন মতামতও গুরুত্ব সহকারে কোন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি। তাতে ধারণা হয় যে, প্রধান শিক্ষক ও পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহোদয়গণ এ নিয়ে দায়ে পড়েছেন, আর আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমালেই চলবে। প্রধান শিক্ষক ও পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহোদয় শুধু ছাত্রদের নিয়ে সঙ্কাবোধ করেছেন বা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বাস্তব অবস্থা তা নয়, বিশেষ স্টাইলে চুল কাটা, চুলে রং করাসহ চাল-চলনে বিশেষ ধরনের পোশাক-আশাক, সাজ-গোছ, তথা অশ্লীল ও বেহায়াপনা সাজসজ্জাতে আমাদের মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ছেলেদের ন্যায় মাদকাসক্ত হয়ে নিজের জিবন, মায়ের জিবন, পিতার জিবন, শিক্ষকের জিবন ও জাতির জিবন অন্ধকার এবং দেশের ললাটে কালিমা লেপন করে দিচ্ছে। সন্তানের জন্মদাতা বাবা-মা ও পারিবারিক পর্যায়ের সকল স্তরের অভিভাবকদের হাতে এখনও সময় আছে, সর্বনাশা রাহু গ্রাস থেকে নিজ সন্তানকে বাঁচাতে হলে, ড.পার্থ সারথী দাস ও জনাব আমির হোসেন সাহেবদের উদ্যোগকে স্বতস্ফুর্ত সমর্থন জানিয়ে তা বাস্তবায়নের নিমিত্ত্বে সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সোচ্চার হউন, শুধু নিজের সন্তনের জন্য নয়, দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে অবদান রাখুন। এ প্রত্যাশাই আমাদের

লেখক,
মুহাম্মাদ হযরত আলী,
নকলা, শেরপুর।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!