বিদেশফেরতদের নিয়ে গলদঘর্ম প্রশাসন

করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে দেশে ২৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২ জন। মারা যাওয়া দুজনই বিদেশ ফেরতদের সংস্পর্শে এসে করোনা আক্রান্ত হন। আক্রান্ত অপর ২৫ জনের কেউ আক্রান্ত দেশ থেকে এসেছেন, কেউবা তাদের সংস্পর্শে ছিলেন। এ অবস্থায় বিদেশ ফেরতদের প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের কোয়ানেন্টিনে রাখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার এখন গলদঘর্ম

দশা হয়েছে। জরিমানা করেও তা করা যাচ্ছে না। যে কারণে মাঠে নামানো হয়েছে পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, গোয়েন্দাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে।

ইমিগ্রেশন পুলিশের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আকাশপথে প্রায় ৩ লাখ প্রবাসী (২ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৩ জন) দেশে এসেছেন। তাদের একটি বড় অংশই করোনা আক্রান্ত দেশে ছিলেন। আগতদের মধ্যে রাজধানীতে রয়েছেন সর্বাধিক ৩৩ হাজার ২০ জন। এর পরই আছে চট্টগ্রাম জেলা। এ জেলায় ২০ হাজার ১৮৪ জন প্রবাসী গত ২১ দিনে ঢুকেছেন।

স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজি মীর শহীদুল ইসলাম গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, দেশে ফেরা প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট করার সময় যে ঠিকানা ব্যবহার করেন, সেই ঠিকানা অনুযায়ী তাদের তালিকা সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। জেলা পুলিশ দিয়ে খোঁজ নিয়ে তাদের কাউকে কাউকে প্রদত্ত ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় অবস্থান করছেন, পুলিশ দিয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত ১৩ মার্চ থেকে এসবির পক্ষ থেকে বিদেশ ফেরতদের তালিকা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার কাজে সংশ্লিষ্টদের সহায়তা করতে এ পদক্ষেপ। বিদেশ ফেরতদের ওপর নজরদারি বাড়াতে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বিশেষ সেল খোলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই অতিরিক্ত আইজিপি।

ইমিগ্রেশন পুলিশের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত যে ৩ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশে এসেছেন; তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরসহ অন্তত ১১ জেলায় সবচেয়ে বেশি ঢুকেছেন। যে কারণে ওই এলাকাগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরে ৩৩ হাজার ২০, চট্টগ্রাম মহানগরে

৪ হাজার ৫৬৯, রাজশাহী মহানগরে ৯৪৯, খুলনা মহানগরে ২ হাজার ৪১৩, বরিশাল মহানগরে ১৩৩, সিলেট মহানগরে ৮৭০, ঢাকা জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৯, চট্টগ্রাম জেলায় ২০ হাজার ১৮৪, রাজশাহী জেলায় ২ হাজার ৭৭৭, খুলনায় ৭ হাজার ৩২৬, নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ৯৬০, কক্সবাজারে ২ হাজার ৫৬৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২ হাজার ২৭৬, বাগেরহাটে ৩ হাজার ৭৮৬, মুন্সীগঞ্জে ৬ হাজার ৫৭৭, বান্দরবানে ২১৯, নওগাঁয় ২ হাজার ২০৪, সাতক্ষীরায় ১০ হাজার ২৬০, মানিকগঞ্জে ২ হাজার ৭১৯, রাঙামাটিতে ৩০০, নাটোরে ১ হাজার ৫০৭, যশোরে ১৬ হাজার ৪৫০, গাজীপুরে ৪ হাজার ৯৪১, খাগড়াছড়িতে ৩১৮, পাবনায় ৩ হাজার ৩৪৭, মাগুরায় ২ হাজার ৫২৫, নরসিংদীতে ৪ হাজার ৬১৯, নোয়াখালীতে ৬ হাজার ৯৪৪, সিরাজগঞ্জে ১ হাজার ৯৪৪, নড়াইলে ২ হাজার ৬০৫, ফরিদপুরে ৪ হাজার ৭৪১, ফেনীতে ৪ হাজার ৮৯৫, বগুড়ায় ৩ হাজার ১২৯, ঝিনাইদহে ৪ হাজার ২১, রাজবাড়ীতে ১ হাজার ৯৬৮, লক্ষ্মীপুরে ৩ হাজার ৫৫৯, জয়পুরহাটে ৮৯১, কুষ্টিয়ায় ৩ হাজার ১০৯, কুমিল্লায় ১৬ হাজার ৪০৭, শরীয়তপুরে ৩ হাজার ২১৯, রংপুরে ১ হাজার ৫৭৩, চুয়াডাঙ্গায় ২ হাজার ৯৯, মাদারীপুরে ৩ হাজার ৫৯৯, চাঁদপুরে ৫ হাজার ৯২০, গাইবান্ধায় ১ হাজার ২৬, মেহেরপুরে ১ হাজার ৩২৫, গোপালগঞ্জে ৪ হাজার ৩৩৯, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ হাজার ৮৫, কুড়িগ্রামে ৬২১, কিশোরগঞ্জে ৩ হাজার ৪০, লালমনিরহাটে ৭৬৪, বরিশালে ৪ হাজার ২৬৬, টাঙ্গাইলে ৫ হাজার ৭৮৫, সিলেটে ৭ হাজার ৩৪৯, নীলফামারীতে ১ হাজার ২৫৯, পিরোজপুরে ২ হাজার ৩৩, ময়মনসিংহে ৩ হাজার ৬২৭, মৌলভীবাজারে ৪ হাজার ১৮, দিনাজপুরে ৩ হাজার ৮৮, ঝালকাঠিতে ১ হাজার ১১৯, হবিগঞ্জে ২ হাজার ৮৬২, ঠাকুরগাঁওয়ে ১ হাজার ৩৮৬, নেত্রকোনায় ১ হাজার ২৪, বরগুনায় ৯৩৭, শেরপুরে ৫৪০, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৪৮০, পঞ্চগড়ে ১ হাজার ৮৫, পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৩৩৪, ভোলায় ১ হাজার ৫৮৭ এবং জামালপুরে ১ হাজার ৩৩৮ জন প্রবাসী ঢুকেছেন।

ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেকেই পাসপোর্ট নেওয়ার সময় গ্রামের বাড়ির স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। সঙ্গে অস্থায়ী ঠিকানাও দিয়েছেন। কিন্তু তাদের একটি বড় অংশ পাসপোর্টে প্রদত্ত স্থায়ী ঠিকানায় বছরের পর বছর ধরে থাকেই না। ফলে তাদের স্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের খুঁজে বের করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।