বিতর্ক নিয়ে ভাবনা (পর্ব-১)

বিতর্ক নিয়ে ভাবনা (পর্ব-১)
– শুভংকর সাহা

বিতর্ক কেবল যুক্তি আর পাল্টা যুক্তি নয়। বরং কোনো বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতের মধ্যে সমঝোতা এবং ঐক্যমতের সৃষ্টির পাল্টফর্মও বিতর্ক। বিতর্ক মানুষকে সহনশীল করে। আবার অসহনশীলও করে। একজন তার্কিক অন্যের মতামতের প্রতি সহনশীল হয়। কোনো বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষ বা বিপক্ষ যে দলই বিজয়ী হোক না কেনো,বিতার্কিক এবং বিতর্কের শ্রোতা এক ধরণের চিন্তার খোরাক পায়। অন্যের কথা শোনার এবং তার প্রতি সম্মান জানানোর মানসিকতা তৈরি হয়। প্রত্যেকের নিজের ভাবনা-বিশ্বাসের বাইরেও যেকোনো বিষয়কেই আরো অন্যভাবে ভাবার সুযোগ থাকে এবং সেই ভাবনাও যে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে,এই বোধ চর্চার জায়গা বিতর্ক।

বিতর্ক মানুষকে যুক্তিবাদী হতে সাহায্য করে। একজন তার্কিক বিতর্কের মাধ্যমে তার সমাজকে সচেতন করতে পারে এবং সে নিজেও একজন যুক্তিবাদী মানুষ হয়ে উঠতে পারে। বিতর্ক একজন তার্কিকের সুচিন্তাকে আরো প্রসারিত করে।

নিজেকে প্রশ্ন করা ছাড়া মানুষের এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আর প্রশ্নের উত্তর খুঁজে খুঁজেই বিকশিত হয় মানুষ। আর বিতর্ক বিতার্কিকে প্রশ্ন করতে শেখায়। সে যেমন তার প্রতিপক্ষকে প্রশ্ন করে,তেমনি নিজেকেও প্রশ্ন করতে শেখে। আজ নিজেকে প্রশ্ন করতে মানুষের ভেতরে সহনশীলতা বাড়ে। সে স্থির চিন্তার হয়ে উঠতে পারে। তখন ভিন্ন মতের প্রতিও সম্মান তৈরি হয়। ফলে বিতর্ক মানুষকে পরস্পর আঘাত না করে সম্মান করতে শেখায়,মনের ভাব স্পষ্টভাষী,অন্যদিকে তাকে সহজ হয় সবার পক্ষে। তাই সে নেতৃত্ব দিতে পারে,ভালো শিক্ষক হয়,বন্ধু হয় এবং পরামর্শদাতাও হয়। সে বিশ্লেষণ করতে পারে যে কোনো ঘটনাকে।

কিন্তু আমাদের সমাজে আজও অনেক মানুষ আছে যারা প্রায়ই বলে থাকে- বিতর্ক করলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। কিন্তু আমি মনে করি বিতর্ক করলে একজন তার্কিকের পড়াশোনার ক্ষতি হয় না বরং জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। কারণ একটি বিতর্ক করতে হল তার্কিককে পড়াশোনা করে অতীত নিয়ে জ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারণা থাকতে হয়। যা তার ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রতিটি জায়গায় কাজে লাগতে পারে।সে একজন আধুনিক মানুষ হয়ে গড়ে ওঠে। তাই পাছে লোকে কি বলে সেই কথায় কান না দেওয়ায় ভাল।

তবে আজ আমাদের বিতর্ক চর্চার খুবই অভাব। দ্বন্দ্ব-সংঘাত-আঘাত-পাল্টা আঘাত- এসবই প্রায় ঢনিত্যদিনের চিত্র। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বোধের জগতে যুক্তি এবং পরমতসহিষ্ণুতা চর্চার বিকল্প নেই।
আজ আর লিখছি না।

“যুক্তিবাদী সমাজ চেতনার বিনির্মাণে এগিয়ে যাক তার্কিকরা। জয় হোক বিতর্কের।”

লেখক : শুভংকর সাহা,
সাংগঠনিক সম্পাদক, শেরপুর ডিস্ট্রিক ডিবেট ফেডারেশন।

 

শেরপুর টাইমস ডট কম-এর মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখার দায়ভার লেখকের নিজের। এর দায় শেরপুর টাইমস কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শেরপুর টাইমসের মতামত পাতায় আপনিও আপনার মতামত জানাতে পারেন sherpurtimesdesk@gmail.com এই মেইলে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।