বায়ুদূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি

বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকার উপস্থিতির পরিমাণ বেশি হলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় বাংলাদেশের বায়ু পরিস্থিতি নিয়ে যেসব তথ্য বেরিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা তথ্য থেকে জানা যায়, রাজধানীর বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকার উপস্থিতি সহনীয় মাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অ্যাজমা, সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমুনারি ডিজিজ) এবং এআরআই (অ্যাকিউট রেসপারেটরি ইনফেকশন) রোগ।

আরেকটি উদ্বেগজনক তথ্য হল, কয়েক বছর ধরে মানুষ উচ্চহারে অ্যাজমায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং এ রোগে মৃত্যুহারও বেড়েই চলেছে। সিওপিডিতেও আক্রান্ত হচ্ছে উচ্চহারে এবং এ রোগেও মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের রোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা ও লাং ক্যান্সারের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়।

দেশে বিভিন্ন দূষণ, বিশেষত বায়ুদূষণের কারণে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বৃদ্ধির বিষয়টি এক যুগ ধরে বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আশা করা হয়েছিল, এসব দূষণ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে লক্ষ করা যাচ্ছে, বায়ুদূষণ কমার পরিবর্তে তা বেড়েই চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে পৃথিবীতে যে ১০টি দেশে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত। এর অন্যান্য উৎসও চিহ্নিত করে দূষণ রোধে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ইটভাটার কারণে যাতে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে, এটা নিশ্চিত করা জরুরি।

ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল বন্ধেও নিতে হবে পদক্ষেপ। এছাড়া ইমারত বিধি অমান্য করে কেউ যাতে নির্মাণকাজ করতে না পারে, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত, ধূলিকণার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু। শুষ্ক মৌসুমে বায়ুতে ধূলিকণা বৃদ্ধি পায়। এ সময় ধূলিকণার উৎস রোধে নিতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

কেবল প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বায়ুদূষণ পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নতি হবে না। দেশের সাধারণ মানুষকে নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। মনে রাখতে হবে, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে বায়ুদূষণ পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।