প্রেমিক নই চেতনা দ্রোহী – সাদিক

প্রেমিক নই চেতনা-দ্রোহী
– সাদিক

অস্তিত্ব জুড়ে তুমি দেশের মাটি-গন্ধ মাখা দেশপ্রেমিক আদর্শ নেতা।
আর আমি চেতনাহীন হয়ে যাওয়া এক উন্মাদ।
আমি বিনিদ্র থাকি,
চেতনার পরশ জুড়ে তোমার মতো দেশপ্রেম নাই।
তুমি দেশপ্রমি আর আমি উন্মাদ এক;
আজ আমার উন্মাদনার কিছু চিত্র তোমাকে আমি দেখাতে চাই।

আমি তোমাকে নিয়ে নগর-বন্দর-গ্রাম জুড়ে হাটবো;
রাতে ঘুমন্ত শহরে চেতনায় উন্নত শিরে
দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মিনারে নিয়ে যাবো।
তুমি দেখবে ভুখা মানুষগুলো শুয়ে আছে
কতদিন অনাহারী সে হিসেব তুমি-আমি জানি না,
আমিষ-শর্করা বা চর্বি জাতীয় খাদ্যের পার্থক্য ওরা জানে না।
সাহেবদের ফেলে দেয়া খাবার জনাদশেক মিলে ভাগ করে খায়।

আমি তোমাকে নিয়ে হাটবো নগরের বস্তিগুলোতে,
তুমি চাইলে ওদের কাছে শুনতে পারো-
মাটি কামড়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্পগুলো।
তুমি দেখো চোখগুলো তখন কেমন ছলছল করে!
তোমাকে বলে রাখি, সাবধান কোনো মায়া দেখিও না ওদের প্রতি
তাহলে তুমি দেশদ্রোহী হবে, স্বাধীনতার চেতনা আর খেলবে তোমার মনে
তখন তুমি বলবে, বেঁচে থাকাই চরম স্বার্থকতা।

তোমাকে আমি গার্মেন্টস শ্রমিকদের কর্মস্থল ও আবাসন দেখাতে নিয়ে যাবো।
এ আবার অন্য গল্প-
তুমি দেখবে, রেমিট্যান্স বাড়ানো কিছু বীর,
যারা বেঁচে থাকার জন্য অনবরত লড়ছে
মাসে তোমার পকেট মানির সমানও নয় এদের মাইনে,
ওই আট দশা হাজার।
তাও আবার কয়েক মাস আটকে থাকে;
আন্দোলন করতে হয়, পুলিশের পিটুনি খেতে হয়
জেল জরিমানা চাকরি চ্যুত হওয়া এসব ওদের ভালের লেখন।
আবার ছ মাস মাইনে না দেয়া মালিক হঠাৎ একরাতে উধাও,
এসব ওরা হাসতে হাসতে ভুলে যায়।

তুমি কখনও গার্মেন্টস কন্যার জীবন-কথা শুনেছ?
আমি জানি এসব তোমায় বিরক্ত করে;
ভোটের হিসেবে এসব নিঃপ্রয়োজন।
তবে একবার শুনে দেখো,
উন্নত শিরে হার না মানা এক জীবন
ঈশ্বরের লেখনির ওদের দমাতে পারেনি
কটু হাসিতে অদৃষ্ট পরাজিত করে বাঁচা এক অদম্য প্রাণ।

বুঝেছি, এখন তুমি সত্যি ক্লান্ত হয়ে গেছ,
এসির বাতাস থেকে তোমাকে বের করে এনে এসব দেখিয়ে বড্ড বাজে অনুভূতি ধরিয়েছি।
তোমাকে আমি দেশপ্রেম, চেতনা আর জীবনের ফারাক দেখাচ্ছিলাম।
তুমি মাননীয় মন্ত্রী এমপি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে দেখেছ-
জনতার টাকায় কেনা
কালো গ্লাসে ঢাকা দামি পাজেরো নিয়ে রাস্তা ব্লক করে,
পুলিশ এনএসআই সিআইডি আর কত আইন শৃঙ্খলার প্রটোকল সমেত চলেন।
আর সাথে চেলাচামুণ্ডার কথা নাই বা বললা- ওসব তুমি জানো।
আচ্ছা বলো তো, ওতো কিছু ভেদ করে তারা এসব দেখার ফুসরত কখন পান?

জিডিপি বাড়লো, মাথা পিছু আয় বাড়লো,
সরকার দলীয় সবার কর্মসংস্থান হলো,
দেশ উন্নয়নে ভরে তরতরিয়ে বিশ্বের রোল মডেল হলো।
আচ্ছা তুমি এতোক্ষণ যা দেখলে তাদের কী হলো?

তুমি বড্ড ক্লান্ত;
এবার আমি তোমাকে প্রকৃতি দেখাবো।
তুমি নদীর কাছে যাবে?
আচ্ছা ঢাকার বুড়ি গঙ্গার পাড়ে তুমি টিকতে পারবে?
তাহলে তোমাকে কোথায় নিয়ে যাবো?
মাইকেলের স্মৃতিকাতর কপোতাক্ষ নদ মরে গেছে,
আমাদের যমুনা মরুভূমির মতো ওতে নদীর ফ্লেভার নেই,
ব্রহ্মপুত্র নদের নালা সরু হয়ে গেছে আগের মতো পানি নেই,
তিস্তার কথা তুমি পত্রিকায় পড়েছ অনেক।
আচ্ছা দেখো-
তুমি নদীর কাছে যেতে চাও
আর নদীগুলো মরে গেছে।
তুমি ক্লান্ত মনে দুঃখ করো না বরং
তুমি চেতনাকে আরও শক্ত করো
দেশপ্রেম বাড়াও।

তোমাকে আমি সুন্দরবনে নিয়ে যেতাম,
কিন্তু জানো ওখানে এখন সহস্রাব্দের উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে।
কয়লা পুড়ানো কালো ধুঁয়া, ইঞ্জিনের শব্দ তোমাকে আরও ক্লান্ত করে দিবে।
তার চেয়ে তুমি এসির নিচে ফিরে যাও,
প্রস্তুত হও ভাবো-
আগামী অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে কত বড় পুষ্পস্তবক দিয়ে চেতনা শাণিত করবে।
স্বাধীনতা দিবসে পত্রিকার পাতায় কী লেখবে।
একটা কবিতা লেখো তুমি,
দেশপ্রেমের ভক্তি গদগদ আবেগ মিশিয়ে।
তুমি ভাবো-
শোক দিবসে কত দামী কালো পাঞ্জবী পড়বে,
আলোচনা সভায় কেমন করে ডুকরে কেঁদে শোক প্রকাশ করবে।
আর বিজয় দিবস নিয়ে ভাবো-
কতটা শাণিত শব্দে দেশপ্রেমের বক্তব্য দিবে,
কেমন করে, জনসভায় তোমার দরাজ কণ্ঠে
জনতাকে শিহরিত করে স্বাধীনতার চেতনায় দিক্ষা দিবে।
তুমি এসব নিয়েই মগ্নচিত্তে ভাবো।

সাদিক,
শিক্ষার্থী ও কলাম লেখক

(শেরপুর টাইমস ডট কমের ‍“সাহিত্য পাতা” সকলের জন্য উন্মুক্ত। আপনার স্বরচিত ছড়া- কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য ইমেল করুন sherpurtimesdesk@gmail.com এই ঠিকানায়।)

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।