You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

পর্নোগ্রাফী আইনে কারাগারে গেলো শেরপুরের তিন যুবক

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুকে (১৫) ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিন যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন নালিতাবাড়ী উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের আবেদ আলী (২৯) ও শাহিন মিয়া (২৪) এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা খামারপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন (২৮)। আদালত ধর্ষণের অভিযোগে আবেদ আলীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন। আসামি আলাউদ্দিন ও শাহিনকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পর্নোগ্রাফী আইনে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন। শেরপুরের শিশু আদালতের বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন গতকাল সোমবার বিকেলে দন্ডপ্রাপ্তদের আদালতে উপস্থিতিতে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন। পরে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. গোলাম কিবরিয়া সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের কোন এক দিন দুপুরে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বুরুডুবি গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই শিশুকে ফুঁসলিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনআনী বাজারের ঠাকুরবাড়ির বাগানের ভিতরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁরা সেখানে পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ধর্ষণের সেসব ভিডিওচিত্র ইন্টানেটের মাধ্যমে বিভিন্নজনের কাছে ছড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি জানতে পেরে ধর্ষণের শিকার শিশুটির দাদি বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আবেদ, শাহিন ও আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। শাহিন ও আলাউদ্দিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরকার হাসান শাহরিয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তশেষে ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঝিনাইগাতী থানার তৎকালিন পরিদর্শক (তদন্ত) ও বর্তমান ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী ও সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণশেষে আদালত গতকাল সোমবার উপরোক্ত দন্ডপ্রদান করেন। পিপি গোলাম কিবরিয়া রাষ্ট্রপক্ষে এবং শাহিন হাসান খান ও হরিদাস কর্মকার আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিপি বলেন, তাঁরা ন্যায় বিচার পেয়েছেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের হরিদাস কর্মকার বলেন, মামলাটি ছিল সাজানো এবং রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাই এ রায়ে তাঁরা সংক্ষুব্ধ এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!