পরিবর্তিত শৈশব ও একটি সুন্দর শৈশব

পরিবর্তিত শৈশব ও একটি সুন্দর শৈশব
– আহনাফ হোসেন নাকিব

শৈশব বলতেই আমরা আমাদের ছেলেবেলায় কাটানো সময়ে ফিরে যাই। ছোটবেলায় স্কুলে কাটানো সময় , এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি তে অংশ নেয়া,যার যা পছন্দ সেটা শেখা,বিকেল হলেই পাড়ার মাঠে খেলতে যাওয়া,মাগরিবের আজানের সাথে সাথেই বাড়িতে এসে হাজিরা দেয়া। এর বেশি দেরী হলেই মা বকা দিবে। পরে সন্ধ্যায় হাত,মুখ ধুয়ে পড়তে বসা।
এগুলো চিন্তা করার পর মনে ও মুখে শুধু একটা কথাই আসে ,”আহ কি সময় ছিল তখন!!”

এটা আমার এবং আমার আগের জেনারেশনে যারা ছিলেন এটি আমাদের শৈশব। শৈশব টা এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তনটি যদি পজিটিভ হয় তাহলে সেটা অবশ্যই ভালো কিন্তু পরিবর্তন টা যদি এমন ভাব হয় যে শৈশবই হারিয়ে যায় তাহলে সেটা আসলেই একটি চিন্তার বিষয়।

একটি সুন্দর শৈশব প্রতিটি শিশুর অধিকার।বর্তমান এ শৈশব আর আগের মত আনন্দময় নয়। লেখাপড়াসহ বিভিন্ন ধরনের চাপ শৈশবকে আনন্দহীন করে তুলছে। শিশুদের নিয়ে একটি আলোচনা সভায় সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজ সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন,” আনন্দময় শৈশব তখনই সম্ভব হবে, যখন আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি হবে। শহরের শিশুরা ছয় বছর বয়স থেকে কাজ করে বেড়ায়। লেগুনা যতগুলো আছে, প্রতিটিতে হয়তো ১২ বছর কিংবা তার চেয়েও কম বয়সের একটি শিশু কাজ করে।

আবার ওই শিশুর জীবন আমার নাতিদের চেয়ে আনন্দময়। কারণ, তারা রাস্তায় হেসেখেলে বেড়ায়। ওখানে সে স্বাধীন, যে পয়সাটা সে আয় করে চট করে একটা চকলেট কিনে খেয়ে ফেলে অথবা ঘোরাঘুরি করে। তার কোনো ভয়ও নেই। সাঁ করে দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে যায়। আমাদের শিশু সেটা পারবে না। আমরা তাকে এমনভাবে তৈরি করি, এমনভাবে তাকে দুর্বল করে রাখি, তাকে ঘর থেকেই বের হতে দিই না। আমাদের মধ্যবিত্তদের শিশুরা খেলার জায়গা পায় না।“

বর্তমানের শিশুরা সুন্দর একটি শৈশব এর পরিবর্তে ব্যাগভর্তি চাপ বয়ে বেড়ায়। সকাল থেকে স্কুল,স্কুলের পর কোচিং,এরপর বাসায় এসে আবার এক্সট্রা প্রাইভেট। এভাবেই চলে তাদের প্রতিদিনের রুটিন ,তবুও যতটুকু সময় তারা পায় সে সময়টুকু মোবাইল এবং ইন্টারনেটে ব্যয় করছে।

একটি শিশুর পড়াশোনার যেমন প্রয়োজন ঠিক তে তেমনই তার খেলাধুলা,বিনোদন এসবের প্রয়োজন রয়েছে। শিশুর শারীরিক বিকাশের সাথে মানসিক বিকাশও প্রয়োজন।এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে স্কুল গুলো।একটি শিশু তার দিনের বেশিরভাগ অংশ স্কুলে কাটায়।বর্তমানে প্রায় কোনো স্কুলেই খেলাধুলার মাঠ নেই। যার কারণে তারা স্কুলে খেলার সুযোগ পাচ্ছেনা পাশাপাশি আমাদের আশপাশের মাঠ গুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলার সুযোগ না পেলে িশশু–কিশোরদের মাথায় খারাপ চিন্তা আসে। এ জন্য স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

যার কারণে শিশুরা শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা দুইটি অর্জনেই ব্যর্থ হচ্ছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউনিসেফ শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরীন বলেন,” আগে যেমন খেলার মাঠ ছিল, এখন সে রকম নেই। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের বাচ্চাদের বেশি খেলাধুলা করা দরকার। কারণ, তাদের মানসিক ঘাটতির কারণে তারা হয়তো একটা অপরাধ করে এসেছে। কিন্তু আমরা গিয়ে দেখলাম সেখানে তারা খেলার সামগ্রীগুলো তালা মেরে রেখেছে। এমনকি মাঠসহ বিভিন্ন অবকাঠামো থাকলেও তাদের খেলতে দেওয়া হয় না। এ কারণে আমরা দেখছি কিশোর-কিশোরীরা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। উত্তরায় আমরা দেখেছি ‘সেভেন স্টার গ্যাং’, যেখানে শিশু ও কিশোরেরা ভয়াবহ অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।

মাঠগুলোকে উদ্ধার করে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়নের সঙ্গে যাঁরা জড়িত আছেন, তাঁদের বিষয়টা দেখতে হবে।“

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত।তাই তাদের একটি সুন্দর শৈশব উপহার দেয়া আমদের দায়িত। তাই শিশুদের জন্য স্কুল,অভিভাবক,শিশু সংগঠন,রাষ্ট্র সকল্ কে একত্রে মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে,যেন শিশুরা পায় একটি সুন্দর শৈশব।

আহনাফ হোসেন নাকিব,
শিক্ষার্থী।

 

শেরপুর টাইমস ডট কম-এর মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখার দায়ভার লেখকের নিজের। এর দায় শেরপুর টাইমস কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শেরপুর টাইমসের মতামত পাতায় আপনিও আপনার মতামত জানাতে পারেন sherpurtimesdesk@gmail.com এই মেইলে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।