You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

পরসমাচার “ভালোবাসা দিবস” আর নয়

দুদিন বাদেই ভালোবাসা দিবস। অনেকে দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সবাই কিন্তু প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। অনেকে দিবসটি পালন নিয়ে বেশ বিরক্তও। যখন দেখেন আপনার কোনো বন্ধু ভ্যালেন্টাইন উইকের প্রতিটা দিন মহাধুমধামে পালন করেন তখন কি আপনার ভ্রু খানিক কুঁচকে যায়? গোলাপের গন্ধ চকলেটের মিষ্টিতে আপনার বমি বমি ভাব আসে? তাহলে আপনি সেই সব মানুষদের একজন যাদের ভালোবাসা দিবস একদম পছন্দ নয়। এসব দিবসে সবার বিশ্বাস নেই আবার তাদের অবিশ্বাসের পেছনে যে যৌক্তিক কোনো কারণও নেই তেমনও নয়। ইন্টারনেট ঘেঁটে সেসব তুলে ধরা হলো শেরপুর টাইমস পাঠকদের জন্য।

এটা ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা কৌশল
‘আমি বুঝি না ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকে ১৪ তারিখের মধ্যে প্রেমিকজুটির কী হয়? ফুল, টেডি, কার্ড অথবা অন্য যেকোনো কিছুই তো বছরের যেকোনো সময়ই তারা একে অন্যকে দিতে পারে। এইদিনগুলোতেই কেন দিতে হবে? দুর্ভাগ্যবশত যারা মনে করেন ভ্যালেন্টাইন’স উইক কেবল উপহার দেয়া-নেয়া করে, রাতে বাইরে খাবারের পরিকল্পনা করে অথবা ডেটিংয়ে গিয়েই উদযাপন করতে হয়, তারা একটা বিষয় বুঝতে পারে না যে, এটা বাণিজ্যের একটা কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেক ব্র্যান্ডই ভালোবাসার নামে প্রচুর টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। অন্তত আমি এই ফাঁদে পড়িনি।’

ভালোবাসার জন্য আমার উপলক্ষ লাগে না
‘কারো প্রতি আমার যে ভালোবাসা রয়েছে সেটা দেখাতে আমার কোনো বিশেষ দিবসের প্রয়োজন হয় না। ভালোবেসে কাউকে জড়িয়ে ধরতে, চুম্বন করতে অথবা ভালোবাসি- এ কথাটি জানাতেও আমার কোনো দিবসের প্রয়োজন নেই। আমার যখন ইচ্ছা আমি তখনই এসব করতে পছন্দ করি, আর বিশেষ কোনো দিনে, যেদিনটিকে আবার এসবের জন্য উৎসর্গ করা হয়, এমন কোনো দিনে তো নয়ই। আমি তো ভাবতেই পারছি না যে, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে চোখ খুলেই আমি আমার সঙ্গীকে চুম্বন করছি! কেন? কারণ, কেউ একজন আমাকে বলে দিল যে এ দিনটাকে ‘কিস ডে’ বলে পালন করতে হবে! এগুলো কী ধরনের বোকার মতো কথাবার্তা’?

বিরাট একটা চাপ
‘আমার সঙ্গে একজনের সম্পর্ক রয়েছে এবং সত্যি বলতে বছরেরে এই সময়টাতে আমি বিরাট একটা চাপে থাকি। আমার প্রেমিকা চাই প্রতিটা দিন যেন আমরা স্বপ্নের মতো করে উদযাপন করি। আর প্রতিটা দিন আমি ওকে কি উপহার দেব সেটা ভেবে আমার ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হয়। কথাটা আমি ওকে এখনও বলিনি। কিন্তু কী করব! আমার কাছে এগুলো সব মিথ্যা মনে হয়।’

আমার মনে হয় সবাই আমাকে বাদ দিচ্ছে
‘কিভাবে সঙ্গীকে খুশি করবে সে পরিকল্পনাতেই আমার বন্ধুরা সবাই ব্যস্ত হয়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন’স উইকের প্রতিটা দিন তারা এমনভাবে উদযাপন করে যেন এর চেয়ে ভালো কিছু করার নেই। সব কথাবার্তাতেই ঘুরেফিরে ওই একই প্রসঙ্গ আসে আর আমার মনে হয় আমাকে সব কিছু থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে।’

ফেসবুক ফিডটাও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে
‘আমার বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। আমার নিউজ ফিড এমনিতেই সবসময় আমার বন্ধুদের এনগেজমেন্ট, বিয়ে বা বাচ্চা হওয়ার ছবিতে ভরপুর থাকে। এটা এমনিতেই আমার জন্য একটু বিরক্তিকর। আর এখনকার দিনে প্রায়ই দেখা যায়, কেউ না কেউ একটা পোস্ট দিয়েছেন- ‘ফিলিং লাভড্’। কারণ- তার সঙ্গী তাকে হয়তো একটা গোলাফ দিয়েছে। এটা আমাকে খুব বিরক্ত করে। সপ্তাহের দিনগুলো যেতে থাকে আমার তো মনে হয় যন্ত্রণাও তত বাড়তে থাকে।’

ও বেশি ইমোশন দেখায়
‘সত্যি বলছি, এই সময়টাতে আমার বয়ফ্রেন্ড বেশি ইমোশনাল হয়ে যায়। সে অদ্ভুত অদ্ভূত ওয়াদা করে আর চায় যে আমিও যেন সেসব করি। আমাকে হৃদয় আকৃতির চকলেট দেয়, ভালোবাসি, ভালোবাসি বলে। আমি ওর বিষয়টা বুঝি, সেটার প্রশংসাও করি, কিন্তু ও বুঝতে চায় না যে আমি অমন ‘লুতু-পুতু’ ধরনের প্রেমিকা নই। আর ওর এসব কাজের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে পরে আমার নিজেকে খুব দোষী মনে হয়।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!