You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফেরে না : প্রধানমন্ত্রী

‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়, আর নৌকায় ভোট দিলে তৃণমূল থেকে উন্নয়ন হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রোববার বিকেলে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, জনগণের সেবা করছি। নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। বাঙালি মাতৃভাষার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে। আওয়ামী লীগ দেশ গড়ে তোলে, উন্নয়ন করে। কিন্তু তারা ধ্বংস করে, লুটে খায়। সন্ত্রাস, বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলায় তারা পারদর্শী। তারা মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে।’

বক্তৃতায়  শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম গ্যাস বেচতে পারবে না। ৫০ বছর রিজার্ভ থাকবে। দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হবে। তারপর যদি অতিরিক্ত থাকে দেখা যাবে। খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়ে লিখে দিল, ক্ষমতায় গেলে সব গ্যাস বেচে দেবে। বেচবে আমেরিকার কোম্পানি, কিনবে ভারত। তারপর মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসলো। আমি বলেছিলাম আল্লাহ, যেমন ধন দেন, ওই একফোঁটা গ্যাস বেচতে পারবে না। ঠিক তাই হয়েছে। আমরা দেশকে ভালোবাসি দেশের মানুষ, কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি, যেটা আমার বাবা শিখিয়েছেন।’

উন্নয়ন বাজেট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা বাজেট দিচ্ছি ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট। বিএনপি সরকার আমলে, উন্নয়নের বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ করার জন্য বাজেট ছিল মাত্র ১৯ হাজার কোটি টাকা। আর আজকে আমরা ১ লক্ষ ৬৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, যার সুফল আপনারা পাচ্ছেন। এই উন্নয়ন নৌকায় ভোট দিলেই পাবেন। আর ওরা করে কী, দুর্নীতি, মানুষ পোড়ানো। আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন কোনো সুস্থ মানুষ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে পারে? অথচ ওই খালেদা জিয়া তার অফিসে ৯২ দিন বসে থেকে হুকুম দিয়েছে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই কৃষকদের সমস্যা দূর করার জন্য। আপনারা জানেন সারের দাম তিন দফা কমিয়ে দিয়েছি। যে সারের জন্য বিএনপি আমলে মানুষ খুন করেছিল, ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিল এই বিএনপি। আজকে সার কৃষকের কাছে চলে যায়। মাত্র ১০ টাকায় কৃষকেরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। আমরা কৃষি উপকরণ কর দিয়েছি। আমাদের মৎসচাষীরা, যেমন ইলিশ মাছ ও জাটকা ধরা বন্ধ, সেই মৎসচাষীদের আমরা ৪০ কেজি করে চাল দেই। ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি, যেন কাজ করে খেতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আইভি আপাসহ আমাদের অনেক নেতাকর্মী মারা গেছে। এই চাঁদপুরেরও আমাদের একজন কর্মী মারা গেছে। বারবার এইভাবে ওরা আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, বেঁচে গেছি। আমার লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘ওদের লজ্জাশরম একটু কম। লজ্জাশরম কম এজন্যই বলবো, যে স্বাধীনতাইয় বিশ্বাস করে না। ওরা তো বাংলাদেশের সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এটাই যেন ওরা মেনে নিতে পারে না। আপনারাই তুলনা করে দেখেন, ১৯৭৫ এর পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিল, ওই জিয়া বলেন, এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়াই বলেন বাংলাদেশের তো কোনো উন্নতি করতে পারে নাই।’

‘চাঁদপুরের কী উন্নতিটা করেছে তারা?  তাদের একটা উন্নতি হয়েছে, দুর্নীতির উন্নতি। টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান করেছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের মাথা হেট হয়েছে বিশ্ব দরবারে। নিজেরা লুটপাট করেছে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে। লুটপাট করেই থেমে থাকে নি, এতিমের টাকা এসেছে বিদেশ থেকে, একটা টাকাও এতিমের হাতে যায় নি। যেন টাকা লুটপাট চুরি করে খেয়েছে। আজকের সেই এতিমের টাকা চুরির দায়ে মামলায় সাজা ভোগ করছে খালেদা জিয়া। আর তার জন্য নাকি আন্দোলন করে। আপনারা জানেন, কোরাআন শরীফে বলা আছে, এতিমের হক এতিমকে দাও। এতিমের সম্পদ তোমরা চুরি কোনো না। তাদের লোভ এতো বেশি যে, লোভের মাত্রা তাদের ছাড়িয়ে গেছে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের উন্নয়ন। হত্যাকাণ্ড, খুন-খারাপি না। মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে। ২০১৪ সালে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিলাম বলেই, আজকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আছে বলেই, আজকে সেই উন্নয়নের সফলতা ভোগ করছি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ।

যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, যারা জাতীর পিতার খুনিদের পুরস্কৃত করে বিচিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেয়, ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসে, যারা যুদ্ধাপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, সেই যুদ্ধাপরাধীদের হাতে যারা লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত পতাকা তুলে দেয়, তারা এদেশের কোনো উন্নয়নে বিশ্বাস করে না।

নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আবেদন, যে নৌকা মার্কা আপনাদের মার্কা, এই নৌকা মার্কা সব সময় মানুষকে উদ্ধার করে। নুহ নবীর নৌকা মানবজাতি ও পশুপাখি সব রক্ষা করেছিল, নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা স্বাধীনতা পেয়েছেন, তাই আগামীকে যে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, ডা. দীপু মনি, ত্রাণমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মহিউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীরউত্তম), সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, একেএম এনামুল হক শামীম, ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

চাঁদপুরের হাইমচরে স্কাউটের একটি অনুষ্ঠান শেষে চাঁদপুর শহরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর পৌনে ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত জোহরের নামাজ এবং মধ্যাহ্ন বিরতির সময় তিনি চাঁদপুর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। দুপুর ৩টা ৬মিনিটে তিনি জনসভাস্থল চাঁদপুর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। জনসভা মঞ্চের পাশে স্থাপিত ২৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ২৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ইলেকট্রিক সুইচ টিপে উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!