নীল জলের টানে সিলেটের লালাখালে

শীত-বসন্ত আর বর্ষায় সারি নদীর রূপ পাল্টে। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলে দক্ষ মাঝিরাও ভয় নিয়ে বৈঠা চালান। শীতে সারি নদীর নিস্তরঙ্গ নীল জলের অন্য এক সম্মোহনী আহ্বান। নদীটি ধরে কিছুদূর উজান বাইলেই লালাখাল। নামে লাল রঙা আভা পাওয়া গেলেও বাস্তবে নীলাভ আবহ পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যায়।

শীতের শেষে বাংলার প্রকৃতিতে এলো বসন্ত। অনেকে ঘোরার মতো জায়গা খুঁজছেন। বৃষ্টি শুরু আগেই চাইলে লালাখালের নীল ও পান্না সবুজ রঙের পানিতে কাটিয়ে দিতে পারেন কয়েক ঘণ্টা। জৈন্তাপুর উপজেলায় এ পর্যটনকেন্দ্রের অবস্থান। সারির বিখ্যাত বালু, স্বচ্ছ পানি আর পাহাড়ি জনপদ দেখতে দেখতে অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায় লালাখাল।

মেঘালয়ের জংলা টিলা ছাপিয়ে দূরের আবছা সারি সারি পাহাড়ের আড়াল ভেদ করে কাঁটাতারহীন সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে সারি নদীর আগমন। কী যেন এক জাদু আছে জায়গাটার! মাঝে চুনাপাথুরে তলদেশ আর দুই পাড়ের ভূমিস্তরের সুবাদে সে ধারণ করেছে কোথাও সবুজ, কোথাও নীলের সহযোগে পান্না রঙের বাহার। দেশে মুগ্ধ না হয়ে কোনো উপায় নেই!

লালাখালের নীল জল

লালাখালের নীল জল

জেনে রাখা ভালো, সারি নদী ও লালাখাল আলাদা কিছু নয়। পর্যটনকেন্দ্রটি সারি নদীরই একটা অংশ। শীতের শুরু থেকে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি পর্যন্ত নীল স্বচ্ছ জল চোখে পড়ে। শুকনো মৌসুমে নদের অনেক স্থানে ভেসে ওঠে চর। সারিঘাট থেকে নৌকায় লালাখাল হয়ে ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে পৌঁছাতে ৪০-৪৫ মিনিট লাগে। এজন্য খরচ করতে হবে প্রায় দু-হাজার টাকা।

ঢাকা থেকে সড়ক রেল ও আকাশ, তিন পথেই সিলেট যাওয়া যায়। সিলেট থেকে লালাখালে যেতে হলে নগরীর ধোপাদিধীর ওসমানী শিশু উদ্যানের সামনে থেকে লেগুনা, মাইক্রবাস অথবা জাফলংগামী বাসে চড়ে সারিঘাট আসতে পারেন। সারিঘাট থেকে লালাখালে যাওয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাবেন। যদি নদীপথে লালাখালে যেতে চান তবে এখানে ইঞ্জিন চালিত বিভিন্ন ট্রলার ও নৌকা ভাড়ায় পাবেন। লালাখাল থেকে সিলেট ফিরতে রাত ৮ টা পর্যন্ত বাস ও লেগুনা পাবেন।

লালাখালে পর্যটকদের জন্য বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রিভারকুইন রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্ট। নদীর কূলে দাঁড়িয়ে থাকা এই রেস্টুরেন্টে বসে পানাহার যেমন সারতে পারেন, তেমনি উত্তরের টিলায় রাতযাপনের ব্যবস্থাও আছে, তবে খরচ বেশি। এছাড়া সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, দরগামহল্লা, মিরাবাজার, সুবহানীঘাট এলাকায় প্রচুর মানসম্পন্ন হোটেল আছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।