You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নির্যাতিত কলেজছাত্রীর অবস্থার উন্নতি হয়নি ।। স্বামী সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে আশরাফুন্নাহার লোপা (১৯) নামে মেধাবী কলেজছাত্রী স্ত্রীকে পিটিয়ে রক্তাক্তকারী স্বামী ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুল ইসলাম (৩০) সহ পরিবারের ৬ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(খ)/৩০ ধারায় শ্রীবরদী থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড হয়েছে। সোমবার রাতে ওই মামলাটি রেকর্ড হয়। মামলার বাদী হয়েছেন কলেজছাত্রীর মা সেলিনা আক্তার লাকী। এসআই শাহিন ডিএমপির ডিবি অফিসের কর্মরত ও শ্রীবরদী উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকার মৃত হাজী ময়দান আলীর ছেলে। ওই মামলায় এসআই শাহীনের মা ও এক ভগ্নিপতিসহ আরও ৫ জনকে সহযোগী আসামী করা হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে নির্যাতিতা কলেজছাত্রীর বুকের ও গলার আরও দু’টি এক্সরেসহ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডান চোখ, কোমরের দু’পাশ, গলায়, পিঠে, বুকে, পায়েসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে গত ৩ দিন যাবত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। তরল পানীয় ছাড়া এখনও অন্য কোন খাবার খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বেড়ে গেছে বুক-পিঠের ব্যথা। সেইসাথে বেড়েছে শ্বাসকষ্ট। এজন্য দু’দিন যাবত দিতে হচ্ছে অক্সিজেন। এদিনও হাসপাতালের বেডে থেকে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না লোপা।

দেখতে আসা কোন আত্মীয়-স্বজন তার কাছে বসতেই সে ডুকড়ে কেঁদে উঠছে। অল্প বয়সে সুন্দর জীবনে যৌতুকলোভী স্বামীর অমানসিক নির্যাতনের ঘটনায় আবেগে ভাগ্যকেও দায়ী করছে। এ বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সার্জন ডাঃ মুক্তি মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শরীরে বেশ কিছু আঘাতের কারণেই তার ওই অবস্থা হয়েছে। তবে তার অবস্থার উন্নতি হতে কিছুটা সময় লাগলেও সে আশঙ্কামুক্ত।

তার শয্যার পাশে থাকা মা স্কুলশিক্ষিকা সেলিনা আক্তার লাকী সাংবাদিকদের জানান, মূল আসামী পুলিশের লোক হওয়ায় কিছুটা টালবাহানা ও আপোস-রফার চেষ্টার পরে হলেও মামলা রেকর্ড হয়েছে। তিনি বলেন, আমার নিরীহ মেধাবী মেয়ের মত অন্য কোন মেয়েকে যেন পুলিশ স্বামীরা এ ধরনের বর্বরোচিত নির্যাতন চালাতে না পারে এজন্যই আমি মেয়েরর ঘটনায় কঠিন হয়েছি। এখন দ্রুত শাহিন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারসহ তাদের বিচার দাবি করছি।

এদিকে মেধাবী কলেজছাত্রীকে নির্যাতন এবং ওই ঘটনার খবর জাতীয় পত্র-পত্রিকাসহ অনলাইন ও টেলিভিশনে প্রকাশের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সংগঠনের তরফ থেকে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে পুলিশের এসআই শাহিনসহ তার সহযোগীগের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি জানানো হয় ।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস আলম যৌতুকের দাবিতে তরুণী স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। এখন নিবিড়ভাবে বিষয়টি দেখতে হচ্ছে। একইসাথে চলবে সিনিয়র পুলিশ অফিসার দ্বারা তদন্ত-তদারকি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আকতারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে অন্যান্য সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরপর ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মূল আসামী বা সহযোগী আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সেটাও না করার কারণ নেই।

উল্লেখ্য, শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের একমাত্র কন্যা ও সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী লোপাকে পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের বাড়িতে গত ২২ মে রাতে ২০ লাখ টাকার যৌতুকের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অমানসিক নির্যাতন চালায় স্বামী এসআই শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন।

এরপর চিকিৎসার অজুহাতে বাড়ি থেকে শেরপুরে নিয়া আসার কথা বলে কৌশলে তাকে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার ভাড়াটে বাসায় বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখে এবং পরিবারের লোকজনের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ফের নির্যাতনের খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনকে ৩ জুন রাতে খিলগাও থানা পুলিশের সহায়তায় ওই বাসা থেকে উদ্ধার করে শেরপুরে নিয়ে আসে এবং জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!