নালিতাবাড়ীর কৃতি সন্তান আব্দুস সামাদ সিনিয়র সচিব হলেন

 

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর কৃতি সন্তান আব্দুস সামাদ ফারুক নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সচিবের পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সচিব হয়েছেন। সোমবার (২৭ জানুয়ারী)  রাত ৯টার দিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আবদুস সামাদ ফারুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, “সর্বশক্তিমান আল্লাহর তরে লাখ লাখ শুকরিয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা তিনি আমাকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। যারা আমার জন্য দোয়া করেন ও করেছেন আল্লাহ তাদের ভাল করুন। সারা জীবন যেন দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে পারি সেই দোয়া চাই।”

আব্দুস সামাদ ফারুক বিগত ১৯৬১ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে মার্কেটিং এ এমবিএ করেন। বিভিন্ন সময়ে ফরেন ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ, মিটিং ও সেমিনার উপলক্ষে বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। ১৯৮৯ সালে জাইকার উদ্যোগে ইউথ ডেলিগেশন নিয়ে জাপান সফর তাদের অন্যতম।

পেশাগত পরিচিতির বাইরে তিনি একজন কবি। তাঁর লেখা একাধিক কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে শুভ্র সমুজ্জ্বল, শিশিরে জীবন কল্লোল, ঘাস ফড়িংয়ের জোৎস্না স্নান উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন। শেরপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নাজমুলের উপর তাঁর লেখা জল জোছনায় নাজমুল বহুল প্রশংসিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জীবনী গ্রন্থ।

মো. আবদুস সামাদ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮৬ সালে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এজিএম হিসেবে। তিনি ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব পদে যোগ দেন। তিনি ১৯৯১ হতে ১৯৯৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগে সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ১৯৯৭ সাল হতে ১৯৯৯ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় এবং ১৯৯৯ হতে ২০০১ পর্যন্ত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছিলেন।

২০০৩ হতে ২০০৬ পর্যন্ত তিনি নেত্রকোনা জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ হতে ২০০৮ পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক পদে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ২০০৯ সালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯-২০১১ সালে তিনি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার নিযুক্ত হন। পরে ২০১৭ সালে তিনি নৌ-পরিবহন সচিব পদে পদোন্নতি পান।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।