You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নালিতাবাড়ীর অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই

আসছে ২১ শে ফেব্রুয়ারী মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রসহ বাংলাদেশেও সরকারীভাবে ভাষা শহিদদের স্মরণে দিবসটি পালন করার জন্য বর্ণাঢ্য কর্মসুচী পালন করা হয়। এসব কর্মসুচীর মধ্যে হলো, প্রভাত ফেরী, র‌্যালী, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শহিদদের স্মরণ করা অন্যতম।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সরকার ঘোষিত এসব কর্মসুচী মাত্র কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালন করা হয়। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার না থাকায় শহিদ বেধীতে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পন করতে পারেনা ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে অনেক বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ দিবসটিতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা ছুটি ভোগ করেন। কোন প্রকার আলোচনা সভাও করেন না তারা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২১ টি এরমধ্যে ১২টিতে শহীদ মিনার আছে। বাকিগুলোতে নেই। মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৮টি, নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬টি এরমধ্যে ১০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার আছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই। মাদ্রাসার সংখ্যা ২২টির মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। কলেজ ৭টির মধ্যে ৩টিতে শহীদ মিনার আছে।

সময়ের পাখায় ভর করে বছর ঘুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস এলে দেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষ দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত শহিদ মিনার না থাকায় বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শহিদেেদর স্মরণ করতে পারেনা। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে কাঠ-বাঁশ কিংবা কলাগাছ দিয়ে প্রতিকী শহিদ মিনার তৈরি করে ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানায়।

নালিতাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতায় উদ্ভুদ্ধ করতে শহিদ মিনার একটি গুরুত্ত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। গভীর শ্রদ্ধাভরে যদি দিবসটি পালন করা হয়। তাহলে শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতার চেতনার মুল্যবোধে জাগ্রত হবে। তিনি আরো বলেন, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই ওইসকল প্রতিষ্ঠানে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় যদি শহিদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হতো তাহলে খুবই ভাল হতো। কেননা মফস্বল এলাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অর্থায়নে শহিদ মিনার নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই।

নালিতাবাড়ী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, শহিদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সরকারীভাবে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় না। তবে আমারা যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের স্থানীয় সরকার (ইউপি চেয়ারম্যান) এর সহযোগিতা নিয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছি।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান বলেন, এরইমধ্যে আমরা কাকরকান্দি ইউনিয়নে সরকারীভাবে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চাহিদা দিলে সরকারী বরাদ্দ প্রাপ্তী সাপেক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!