নালিতাবাড়ীতে স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর কিডনী দান

ভালবাসা অমর! সত্যিকারের ভালবাসা যে এখনো রয়েছে তারই প্রমাণ দিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মোছা. স্মৃতি আক্তার। ভালবাসার প্রিয় মানুষটি তার স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালে মোছা. স্মৃতি আক্তার তার খালাতো ভাই উপজেলার দক্ষির রাণিগাঁও গ্রামের মোফাজ্জল আলীর ছোট ছেলে শহিদুল ইসলামের(২৩) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বিয়ের এক বছর পেরুতেই তার স্বামী শহিদুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শহিদুল শারিরীক পরীক্ষা নিক্ষার পর জানতে পারেন তার দুটো কিডনিই নস্ট হয়ে গেছে। তাই দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে।

এদিকে, কিডনি কিনে তা প্রতিস্থাপন করতে প্রয়োজন লাখ লাখ টাকা। যা কখোনই শহিদুলের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে হতাশায় পড়েন শহিদুল।

ভাগ্যক্রমে শহিদুলের সাথে তার স্ত্রী স্মৃতির কিডনি মিলে যায়। তাই স্ত্রী চাইলে তার দুটি কিডনির মধ্যে একটি তার স্বামী কে দিতে পারবেন। বিষয়টি জানতে পেরে অকপটে রাজি হয়ে যান স্মৃতি।

এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর গতকাল শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতেল স্মৃতির একটি কিডনি শহিদুলের শরীরের স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, শহিদুল ইসলাম ২০১০ সালে সন্ন্যাসীভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও নাজমুল স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৩ সালে সে ঢাকা ইন্টান্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে শহিদুলের কিডনি স্থানান্তরের সময় রক্তদাতা আল ইসমার চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ। শহিদুলের কিডনি সঠিকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। সত্যিই অবিশ্বাস্য মানুষ কিভাবে একজন কে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি অন্যজন কে দান করেন। আজ বাস্তবে এমন মানবতা দেখলাম।

 

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।