You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নালিতাবাড়ীতে যে কোন মুহুর্তে ধ্বসে যেতে পারে রাবার ড্যামের বেরিবাঁধ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরের পরেই পূর্ব উত্তরে গোবিন্দনগর গ্রাম। অনেক বড় এই গ্রামটি। তবে গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ পৌরসভার অর্ন্তভুক্ত। এই গ্রামের বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে খরস্রেতা নদী ভোগাই। পাহাড়ি নদীটিতে বর্ষায় থাকে ভরা যৌবন। আর শুষ্ক মৌসুমে থাকে হাঁটুজল। নদীর দুই তীরে রয়েছে জনবসতি। সু-স্বাদু মাছ পাওয়া যায় নদীটিতে। একসময় প্রচুর মাছ ধরা যেত এই নদীতে। এখন আর আগের মতো মাছ নেই। কাক চুর মতো স্বচ্ছ টলটলে নদীর জল। পানির নিচে চিকচিক করে বালি। বালুর চরও রয়েছে বেশ। এই নদীর তীরেই গড়ে ওঠেছে গোবিন্দনগর গ্রামটি। গ্রামটির একেবারে দক্ষিণে শেষ প্রান্তে স্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাবারড্যাম প্রকল্প।

এই প্রকল্পটির কারণে কৃষক শুষ্ক মৌসুমে অনায়াসে নদীর পানি ব্যবহার করছে জমির সেচ কাজে। ক্যানেল এবং স্যালু মেশিনের পাম্পের মাধ্যমে হাজার হাজার কৃষক নদীর পানি জমিতে সেচ হিসেবে ব্যবহার করে অধিক ফসল উৎপাদন করছেন। এই প্রকল্পটি কৃষকের জন্য বর্তমানে আর্শিবাদ স্বরুপ। তবে আশপাশের গ্রামের নদীর তীররা বাঁধ প্রতি বছর নদীতে ধ্বসে পড়ছে। প্রতি বছর কয়েক ফুট করে বিলীন হচ্ছে নদী গর্ভে। তবে এরজন্য দায়ী এই রাবারড্যাম নয়। প্রয়োজন নদীর দুই তীর রক্ষা করা।

গোবিন্দনগর গ্রামের শামছুজ্জমান বলেন, রাবারড্যাম থেকে উজানে এক কিলোমিটার করে বেরিবাঁধ পাইলিংয়ের ব্যবস্থা করলে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেত গ্রামটি।

সরেজমিনে গ্রামটিতে গিয়ে দেখা গেছে, রাবারড্যাম থেকে উজানে এক কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা এতোটাই বেহাল যে, পায়ে হেঁটে যাওয়া দুরহ ব্যাপার। রাবার বেগ ফুলিয়ে নদীতে রাবারবাঁধ তৈরি করে চলতি বোরো মৌসুমে সেচের জন্য পানি সংরক্ষণ করা হয়েছে। তাই নদীতে ঢেউ খেলছে অথৈ পানি। আতংকে রয়েছে গোবিন্দনগর গ্রামের সাজু, সুরুজ্জামান, মোখলেছুর রহমান। তাঁরা জানান, তাদের বাড়িগুলো নদীর তীরের উপর। মাত্র দুই ফুট জায়গা যে কোন মুহুর্তে নদীতে ধসে পড়লে রাবারড্যামের সংরক্ষিত পানি ধেয়ে চলবে তাদের বাড়ি দিয়ে। ভেসে যাবে গোবিন্দনগর, কাপাসিয়া, জামিরাকান্দা গ্রামের ফসলের মাঠসহ সবকিছু।

শওকত, জনু শেখ, নজরুল ইসলাম, নাসীর উদ্দিন, বিল্লাল হোসেন সহ গোবিন্দনগর গ্রামের অনেকেই জানান, তাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। কয়েক বছর ধরে গ্রামটিতে নদীর তীররক্ষা বাঁধটির এক কিলোমিটার রাস্তা এ রকম খারাপ অবস্থায় রয়েছে। গ্রামের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বেহাল রাস্তার কারণে তারা রাবারড্যাম বাজারে নিতে পারেন না। অন্য যানবাহনতো দূরের কথা রিক্সা, ঠেলা, সাইকেল পর্যন্ত তারা ব্যবহার করতে পারছেন না এ রাস্তার করুন অবস্থার জন্য। দু’পায়ে হেঁটে পর্যন্ত যাওয়ার উপায় নেই।
তাছাড়া গ্রামবাসী আতংকে আছেন নদীতীরের মাটি পানিতে নরম হয়ে আছে। হঠাৎ কোন এক জায়গাা ধ্বসে গেলে ভেসে যাবে বাড়িঘর, ফসলের মাঠ। তাই এলাকাবাসীর দাবি অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাদের অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা শরিফ ইকবাল বলেন, রাবারড্যাম ফুলিয়ে যখন নদীতে পানি সংরক্ষণ করা হয় তখন দুই পাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। তাই দুই পাড়েই মেরামত বা সংস্কার করা নিয়মিত কর্যক্রম থাকা দরকার। এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা সমন্বয় কমিটিতেও আলোচনা করেছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি আগে জানতে পারিনি। এখন সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!