You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নালিতাবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন আরও ৬ বিরাঙ্গনা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনী ও তার দোসরদের হাতে নির্যাতিত আরও ৬ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৫৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মুক্তিযোদ্ধার এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি গেজেটও জারি করা হয়েছে। এ নিয়ে দু-দফায় নালিতাবাড়ী সোহাগপুর বিধবাপল্লীর ১২ জন বীরঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৭ বীরাঙ্গনা হলেনশেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর বিধবা পল্লীর মহিরন বেওয়া, আকিরন নেছা, জতিরন বেওয়া, হোসনে আরা, হাজেরা বেগম (পিতা মৃত উমেদ আলী), হাজেরা বেগম (পিতা মৃত হাসেন আলী) ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে ১২৬ জন বীরাঙ্গনার অবদান ও দুঃখ দুর্দশা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করে একটি বেসরকারি সংগঠন। ওই রিটে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করে সরকার। এরপর থেকে সারা দেশে এ পর্যন্ত ২৩১ জনবীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনা রা বর্তমানে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মত মাসিক দশ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। এছাড়া সরকারি চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল ক্ষেত্রে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, তার সবটাই পাবেন বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর বেনুপাড়া গ্রামটিতেই কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে ঘটে নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই দিন নৃশংসতার যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, তা কোনো দিন ভুলতে পারবে না সোহাগপুর। ভুলবে না বাংলাদেশ। সেদিনের সেই পৈশাচিক হত্যাকা-ে প্রাণ দিয়েছিলেন ১৮৭ জন নিরীহ মানুষ। নির্যাতনের শিকার হন অনেক নারী। বেনুপাড়ার সব পুরুষকে মেরে ফেলা হয় বলে স্বাধীনতার পর সে পাড়ার নাম বদলে রাখা হয় বিধবাপল্লি। স্বজন হারানোর দুঃখবেদনার ক্ষত আর সেদিনের বিভীষিকা নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন ২৮ জন বিধবা।নির্যাতিত ১৪ নারীর মাঝে দুই জন মারা গেছেন। বেঁচে আছেন ১২ জন। তাঁদেও মধ্যে এর আগে ছয়জন বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।এবার পেলেন বাকী ছয় জন। নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান,বলেন নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রাম এর ১৩ জন বীরাঙ্গনার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য পাঠালে যাচাইবাছাই শেষে গত বছরের ১৫ মার্চ ৬ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়,একজন বাদে বাকী আরো ছয় জনকে ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে বলে পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, এখরও অফিসিয়ালী কোন চিঠিপত্র পাইনি অফিসিয়ালী কাগজপত্র পেলে ঐসব মুক্তিযুদ্ধাদের ব্যাপারে যথাযথ প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!